🙏একবার মহাদেবকেও হাত পাততে হয়েছিল দেবী অন্নপূর্ণার সামনে।🙏
🔱⚜️🔱⚜️🔱⚜️🔱⚜️🔱
✳️❇️✳️❇️✳️❇️✳️❇️✳️
সংসারে অভাব-অনটন দূর করতে এবং অন্নের সংস্থান নিশ্চিত করতে দেবী অন্নপূর্ণার আরাধনা অনাদিকাল থেকে চলে আসছে।দেবী অন্নপূর্ণা মূলত দেবী দুর্গা বা পার্বতীরই এক শান্ত ও মমতাময়ী রূপ।তাঁর এক হাতে রয়েছে অন্নের পাত্র এবং অন্য হাতে রত্নখচিত হাতা, যা দিয়ে তিনি জগতবাসীকে অন্ন বিলিয়ে দেন।
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে এই পুজোটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,কারণ মা অন্নপূর্ণা হলেন অন্ন ও পুষ্টির অধিষ্ঠাত্রী দেবী।তাঁর কৃপায় সংসারে কোনোদিন খাবারের অভাব হয় না—এমনই বিশ্বাস ভক্তদের হৃদয়ে।
সত্যি কাহিনী কে গল্পের ছলে বলি...জানলেও পড়ুন ভালো লাগবে।আমি আগের পোস্টে বলেছিলাম শ্রী শ্রী কৃষ্ণই বলেছিলেন দুর্গা দেবীকে, "তোমাকে অনেক রূপে পুজো করবে মানুষে।........
বাসন্তীপুজোর (Basanti Puja) অষ্টমীর দিনে মা দুর্গার আরেক রূপে দেবীবন্দনা করা হয়।তিনি হলেন মা অন্নপূর্ণা।দেবী অন্নপূর্ণাকে শাস্ত্রে শাকম্ভরী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে দেবী অন্নপূর্ণার পুজো করা হয়ে থাকে।এই দেবী শাকম্ভরী নবপত্রিকা হিসাবে দুর্গাপুজোর সময় পূজিতা হন।অন্ন শব্দের অর্থ হল ধান আর পূর্ণ কথার অর্থ হল ভর্তি।অর্থাৎ অন্নদাত্রী। তিনি শক্তির অপরূপ।পুরাণে দেবীকে কোথাও দ্বিভুজা কোথাও বা চতুর্ভুজা বলা হয়েছে।ত্রিনয়না তিনি।গাত্রবর্ণ লাল।হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্নপূর্ণার পুজো করলে ঘরে অন্নাভাব থাকে না।কাশীতে দেবী অন্নপূর্ণার সুপ্রাচীন মন্দির রয়েছে।এই মন্দিরে অন্নপূর্ণা পুজো ও অন্নকূট উৎসব বিখ্যাত।
রায়গুণাকার ভারতচন্দ্র দেবী অন্নপূর্ণার কথা উল্লেখ করে অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনা করেছিলেন।সেখানে দেবীর মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে।দেবী অন্নপূর্ণাকে ঘিরে রয়েছে এক পৌরাণিক কাহিনি।সেই অনুসারে,বিবাহের পর হর পার্বতীর এক দিকে সংসারে অভাব অনটনে দিন কাটছে তার মধ্যে শিব বাঁধিয়ে ফেললেন এক তর্ক.....
মহাদেব এবং পার্বতীর মধ্যে এক বিতর্ক সৃষ্টি হলো।শিব বলেন,‼️‼️⁉️⁉️ ‘"জগত এক মায়া,এবং খাদ্যও একটি মায়া।’" এই কথা শুনে দেবী পার্বতী রুষ্ট হন এবং তিনি জগত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।দেবী যেহেতু প্রকৃতিরূপী অন্নপূর্ণা,তাই তিনি অন্তর্হিত হওয়া মাত্রই ত্রিভুবনে দেখা দেয় প্রবল দুর্ভিক্ষ।চারদিকে হাহাকার পরে যায় এবং খোদ মহাদেবও ক্ষুধার্ত হয়ে পরেন।শিব একা পরে গেলেন....চারি দিকে অন্ন কষ্ট
ভক্তেরা আকুল হয়ে শিবকে ডাকতে থাকেন তাঁদের এই অবস্থার প্রতিকারের জন্য।
অবশেষে মহাদেব বুঝতে পারেন যে,শরীর থাকলে তাকে রক্ষা করার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন আছে এবং খাদ্য মায়া নয়,বরং এক পরম ব্রহ্ম।ভক্তেরা আকুল হয়ে শিবকে ডাকতে থাকেন তাঁদের এই অবস্থার প্রতিকারের জন্য। ভক্তদের আকুলতায় ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে মহাদেব বেরিয়ে পরেন।কিন্তু দেবীর মায়ায় তিনি কোথাও ভিক্ষা পান না।এর মাঝেই শোনা
গেল,কাশীতে এক নারী সবাইকে অন্নদান করছেন। মহাদেব সেখানে উপস্থিত হন এবং সেই নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি অন্নদাত্রীকে চিনতে পারেন।কালবিলম্ব না করে তিনি ভিক্ষা চান দেবীর কাছে।সেই ভিক্ষা গ্রহণ করে মহামারী ও খাদ্যকষ্ট থেকে ভক্তকুলকে রক্ষা করেন।চৈত্র মাসের শুক্লা অষ্টমী তিথিতে কাশীতে আবির্ভূতা হয়েছিলেন দেবী অন্নপূর্ণা।
শিব যখন অন্নের সন্ধানে বের হন,তখন তিনি দেখেন একমাত্র কাশি ধাম বারাণসীতেই অন্নের ভাণ্ডার অক্ষয় রয়েছে।দেবী সেখানে অন্নপূর্ণা রূপে আবিষ্ট হয়ে ভক্তদের অন্ন দিচ্ছেন।তখন মহাদেব স্বয়ং ভিক্ষাপাত্র হাতে দেবীর কাছে আসেন এবং বলেন— ‘ভিক্ষাং দেহি’।দেবী স্মিত হাস্যে মহাদেবকে অন্ন দান করেন।সেই ভিক্ষা গ্রহণ করে মহামারী ও খাদ্যকষ্ট থেকে ভক্তকুলকে রক্ষা করেন।সেই থেকেই মা অন্নপূর্ণার আরাধনা শুরু হয়।
দেবীভাগবত ও ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুযায়ী,অন্নপূর্ণা হলেন সৃষ্টির আধার।কাশী বা বারাণসী হলো তাঁর প্রধান ক্ষেত্র।বলা হয়, কাশীতে কেউ না খেয়ে থাকে না, কারণ স্বয়ং দেবী সেখানে অন্ন বিলিয়ে দেন।শাক্ত দর্শনে অন্নপূর্ণা হলেন"পুষ্টিকারিণী" শক্তি।তিনি কেবল শারীরিক খিদে মেটান না,বরং আধ্যাত্মিক জ্ঞানের খিদেও মেটান।সাধকের কাছে তিনি জ্ঞান ও বৈরাগ্যের দেবী।তাঁর কৃপা ছাড়া কোনো সাধক পূর্ণতা লাভ করতে পারেন না।পরিশেষে একটা কথা বলা যায় যে,দেবী দুর্গা,দেবী অন্নপূর্ণা, নবপত্রিকা বা বাসন্তী— যে রূপেই তিনি পূজিতা হোন না কেন তিনি মঙ্গলময়ী,বলপ্রদায়িনী,অভয়াদাত্রী,অশুভ শক্তি বিনাশিনী জগন্মাতা।অন্নপূর্ণা পুজো আমাদের শেখায় খাবারের অপচয় না করতে এবং আর্তকে অন্নদান করতে।দেবীর হাতের অন্নপাত্র আসলে পৃথিবীর উর্বরতার প্রতীক।এই তো রাজনীতির হাল-হকিকত...গ্যাসের তৈরি করা আকাল,ভোট ও এখন বড় বালাই অন্ধের মতো মানুষে অনুদানে ডুবে আছে।আর তাতেই তৃপ্তি আর পেচি জেতার কৌশল আদায় করে ফেলেছে।
বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সময়ে মা অন্নপূর্ণার আরাধনা প্রতিটি মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে এক বড় ভরসা।দেবীর আশীর্বাদে সবার ঘরে অন্নের ভাণ্ডার পূর্ণ থাকুক,এটাই হোক এই বছরের প্রার্থনা।
🙏মা অন্নপূর্ণা দেবী🙏 কে শতকোটি প্রণাম।সকলের মঙ্গল করো মা🙏🙏🙏🙏🙏
🔱ওঁ নমঃ শিবায়🔱
🙏🙏🙏🙏🙏🙏
#শুভেচ্ছা #ভক্তি #💪নারী শক্তি👩 #🙏মা অন্নপূর্ণা #🌼বাসন্তী পুজো ২০২৬ অষ্টমী🔱 #🌼বাসন্তী পুজো ২০২৬ অষ্টমী🔱 #🌼বাসন্তী পুজো ২০২৬ শুভেচ্ছা🪔
01:59

