🫦Sexy Lady Bony🫦
453 views 6 hours ago
কৃষ্ণের এক দুষ্টুমি, আর রাধারানীর বিরহের পরীক্ষা একদিনের কথা… শ্রীকৃষ্ণ মুচকি হাসতে হাসতে এসে উপস্থিত হলেন রাধারানীর মহলে। রাধারানীকে দেখে শ্যামসুন্দর বললেন— “রাধে… তোমাকে একটা কথা বলার ছিল।” রাধারানী অবাক হয়ে বললেন— রাধারানী: “কী কথা শ্যাম?” কৃষ্ণ একটু মুচকি হেসে বললেন— “আমার বিবাহ ঠিক হয়ে গেছে, রাধে।” কথাটা শুনেই যেন রাধারানীর বুকের ভেতরটা হঠাৎ শূন্য হয়ে গেল। চোখের কোণে জল জমে উঠল। অভিমান মেশানো কণ্ঠে তিনি বললেন— “তাই শ্যামসুন্দর… তোমার বিবাহ ঠিক হয়ে গেল?” কৃষ্ণ যেন কিছুই বুঝতে পারছেন না—এমন ভান করে বললেন— “হ্যাঁ রাধে। তুমি কি দেখতে চাও, আমার অর্ধাঙ্গিনী কে হবে?” রাধারানী চোখের জল লুকিয়ে বললেন— “হ্যাঁ… আমি দেখতে চাই। এমন কে সেই সৌভাগ্যবতী, যার সৌভাগ্যে আমার কৃষ্ণকে পেয়েছে?” কৃষ্ণ এবার মুচকি হেসে বললেন— “তাহলে কাল ভোরে যমুনার তীরে এসো। তোমাকে আমার অর্ধাঙ্গিনীর সঙ্গে দেখা করাব।” একটু থেমে কৃষ্ণ আবার বললেন— “আর হ্যাঁ রাধে… কাল একটু সেজেগুজে এসো।” রাধারানী অবাক হয়ে তাকালেন। কৃষ্ণ বললেন— “কারণ আমি চাই না, আমার অর্ধাঙ্গিনীর সামনে তুমি কোনো অংশে কম সুন্দর দেখাও। সে যে ব্রহ্মাণ্ডসুন্দরী!” কথাটা শুনে রাধারানীর চোখে আবার জল চলে এল। তিনি মৃদু কণ্ঠে বললেন— “শ্যাম… তোমার অর্ধাঙ্গিনী যদি এতই সুন্দর হয়, তাহলে তো তাকে আমার দেখতেই হবে…” কৃষ্ণ শুধু মুচকি হাসলেন। 🌙 সারারাত ঘুম হলো না রাধারানীর সেদিন রাতে রাধারানীর চোখে আর ঘুম এল না। বারবার মনে হতে লাগল— “সত্যিই কি কৃষ্ণ অন্য কাউকে বিবাহ করছে?” “কে সে?” “কী এমন সৌভাগ্য তার, যে আমার কৃষ্ণকে পেয়ে গেল?” কখনো রাধারানী চোখের জল মুছছেন… আবার কখনো মনে মনে ভাবছেন— “না… কৃষ্ণ নিশ্চয়ই আমাকে দুষ্টুমি করছে।” কিন্তু পরক্ষণেই মনে হচ্ছে— “যদি সত্যিই বিবাহ করে?” এই ভাবনা আর বিরহে সারারাত কেটে গেল। অন্যদিকে শ্রীকৃষ্ণ? তিনি মুচকি মুচকি হাসতে হাসতে রাধারানীর এই ব্যাকুলতার কথা ভাবছিলেন। 🌅 অবশেষে ভোর হলো ভোর হতেই রাধারানীর বুকের মধ্যে শুরু হলো অদ্ভুত এক ধুকপুকানি। আজ সত্যিই কি তিনি কৃষ্ণের সেই অর্ধাঙ্গিনীকে দেখতে পাবেন? সত্যিই কি কৃষ্ণ তাঁকে ছেড়ে অন্য কাউকে ভালোবেসেছেন? এই হাজারো প্রশ্ন নিয়ে রাধারানী ছুটে গেলেন যমুনার তীরে। সেখানে গিয়ে দেখলেন— শ্রীকৃষ্ণ একাই বসে আছেন। রাধারানী অবাক হয়ে বললেন— “শ্যাম! তুমি একা বসে আছো কেন? তোমার সেই অর্ধাঙ্গিনী কোথায়?” কৃষ্ণ শান্তভাবে বললেন— “একটু অপেক্ষা করো রাধে… সে এখনই আসবে।” রাধারানীর কাছে সেই অপেক্ষার একেকটি মুহূর্ত যেন একেকটি বছর! তিনি আর নিজেকে সামলাতে না পেরে বললেন— “কোথায় তোমার সেই ব্রহ্মাণ্ডসুন্দরী? যার সঙ্গে তোমার বিবাহ হবে? দেখাও আমাকে!” কৃষ্ণ মুচকি হেসে বললেন— “সে এতই সুন্দর, রাধে… যে পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য তার সামনে ম্লান হয়ে যায়।” রাধারানীর চোখে তখন জল। তিনি অভিমান করে বললেন— “শ্যামসুন্দর, এবার কিন্তু আর দুষ্টুমি কোরো না। দেখাও তোমার অর্ধাঙ্গিনীকে!” কৃষ্ণ বললেন— “চলো রাধে…” 💧 যমুনার জলে দেখা গেল সত্য কৃষ্ণ রাধারানীর হাত ধরে যমুনার জলের কাছে নিয়ে গেলেন। তারপর জলের দিকে ইশারা করে মৃদু হেসে বললেন “রাধে… ওই দেখো।” রাধারানী জলের দিকে তাকালেন। যমুনার স্বচ্ছ জলে দেখা গেল— কৃষ্ণের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রাধারানীর নিজেরই প্রতিবিম্ব। কৃষ্ণ মুচকি হেসে বললেন— “এই তো আমার ব্রহ্মাণ্ডসুন্দরী… এই তো আমার অর্ধাঙ্গিনী।” এক মুহূর্তের জন্য রাধারানী যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন। তারপর সব বুঝতে পেরে তাঁর চোখ বেয়ে ঝরতে লাগল অশ্রু। তিনি ছুটে গিয়ে কৃষ্ণকে জড়িয়ে ধরলেন। ❤️ কৃষ্ণের সেই অমর কথা কৃষ্ণ রাধারানীর চোখের জল মুছে দিয়ে বললেন— “রাধে… জগতের চোখে যদি কেউ আমার অর্ধাঙ্গিনী হয়ে থাকে, তবে সে তুমি।” “হয়তো এই জড়জগতের নিয়মে তোমার সঙ্গে আমার বিবাহ কেউ দেখতে পাবে না… কিন্তু আমার হৃদয়ে তুমি চিরকাল বিরাজমান।” “তুমি আমার শক্তি, রাধে। তোমার প্রেমেই আমি পূর্ণ।” রাধারানীর চোখ তখনও অশ্রুসিক্ত। কৃষ্ণ বললেন— “আজ সত্যিই তোমার সঙ্গে আমার বিবাহ হবে। তবে এই জড়জগতে নয়…” “ভাণ্ডীরবনে, ব্রহ্মার সাক্ষীতে, আমাদের এই প্রেম চিরন্তন বন্ধনে আবদ্ধ হবে।” 🌺 ভাণ্ডীরবনে সেই দিব্য বিবাহ ভক্তি-পরম্পরায় প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, এরপর বৃন্দাবনের ভাণ্ডীরবনে ব্রহ্মার উপস্থিতিতে রাধা ও কৃষ্ণের দিব্য বিবাহ সম্পন্ন হয়। সেই বিবাহ ছিল না জগতের সাধারণ বিবাহের মতো। এ ছিল দুই চিরন্তন সত্তার প্রেমের মিলন। রাধা ছাড়া কৃষ্ণ অসম্পূর্ণ, আর কৃষ্ণ ছাড়া রাধার প্রেম অসম্পূর্ণ। কিন্তু জড়জগতের লীলায় তাঁদের এই সম্পর্ককে গোপন রাখা হয়েছিল। কারণ এই বিরহ, এই অপেক্ষা, এই ত্যাগের মধ্য দিয়েই প্রকাশ পেয়েছে— প্রেম কী, ভক্তি কী, আর ঈশ্বরকে ভালোবাসা কাকে বলে। 🌸 রাধারানীর ত্যাগ ভাবুন তো… রাধারানী যদি কৃষ্ণকে নিজের করে পাওয়ার জন্য জগতের সমস্ত নিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেন? যদি কৃষ্ণকে ছেড়ে দিতে না চাইতেন? তাহলে কি আমরা সেই বিরহের প্রেম বুঝতে পারতাম? কৃষ্ণের মথুরা যাত্রা, কংসবধ, অসুরদের উদ্ধার, দেবকী-বাসুদেবের মুক্তি, মহাভারতের মহালীলা—সবই তো কৃষ্ণের বৃহত্তর উদ্দেশ্যের অংশ। আর সেই মহালীলার আড়ালে ছিল রাধারানীর এক অসীম ত্যাগ। তিনি কৃষ্ণকে নিজের করে পাওয়ার চেয়ে— কৃষ্ণের কর্তব্য ও জগতের কল্যাণকে বড় করে দেখেছিলেন। তাই রাধার প্রেম শুধু পাওয়ার প্রেম নয়… রাধার প্রেম হলো—ত্যাগের প্রেম। যেখানে নিজের সুখের চেয়ে প্রিয়তমের কর্তব্য বড়। যেখানে মিলনের চেয়ে বিরহও পবিত্র। যেখানে নিজের চোখের জল দিয়েও প্রিয়তমের পথকে সুন্দর করে দেওয়া হয়। 🌺 তাই রাধা শুধু কৃষ্ণের প্রিয় নন… রাধা হলেন কৃষ্ণপ্রেমের সর্বোচ্চ প্রতীক। 🌺 “রাধে রাধে… শ্যাম মিলাদে।” ❤️ #💘প্রেমিক-প্রেমিকা💖 #🥰লাভ goals❤ #💓True Love 💞 #🙏রাধে রাধে🙏 🥰জয় শ্রীকৃষ্ণ🥰 #radhe radhe
16 likes
12 shares

More like this