somenath Dasgupta
#শুভ দুপুরের শুভেচ্ছা...
#🎂 হ্যাপি বার্থডে
মোহিনী চৌধুরীর লেখা "মুক্তির মন্দির সোপানতলে কত হলো বলিদান" গানটি বাঙালি চেতনায় দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের এক অনন্য প্রতীক। ১৯৪৩ সালে রচিত এই কালজয়ী গানটি আজও প্রতিটি বাঙালিকে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস এবং বিপ্লবীদের মহান আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। গানটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সৃষ্টি আজও সমান অনুপ্রেরণাদায়ক। গানটি রচনা মোহিনী চৌধুরী এবং এর কালজয়ী সুরারোপ করেছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র দে। পরবর্তীতে দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়সহ বহু প্রথিতযশা শিল্পীর কণ্ঠে এটি জনপ্রিয়তা পায়।
গানটির ছত্রে ছত্রে ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকী, বাঘা যতীন, মাস্টারদা সূর্য সেন এবং প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো অসংখ্য বীর বিপ্লবীদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদিত হয়েছে। বাঙালি মনে এর চিরন্তন প্রভাবইতিহাসের জীবন্ত দলিল: "কত তরুণ প্রাণ হলো অবসান, দানিয়া অমর প্রাণ"— এই চরণগুলোর মাধ্যমে গানটি তরুণ প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেয় যে আজকের স্বাধীনতা কোনো সহজলভ্য বস্তু ছিল না, বরং তা ছিল লাখো তরুণের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত।
অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে আজও প্রেরণা: গানটি কেবল অতীতের স্বাধীনতা আন্দোলনের কথাই বলে না, বরং বর্তমান সমাজেও যেকোনো অন্যায়, অবিচার বা শোষণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে রুখে দাঁড়ানোর এবং নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার মানসিক শক্তি জোগায়। বিশেষ করে স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস বা যেকোনো জাতীয় উৎসবে এই গানটি যখনই বেজে ওঠে, তখনই তা বাঙালির মনে এক অদ্ভুত শিহরণ এবং গভীর দেশাত্মবোধের জন্ম দেয়।
#সংযোজন
মোহিনী চৌধুরী (জন্ম ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯২০ - মৃত্যু ২১ মে ১৯৮৭) দেশপ্রেমিক বাঙালি কবি ও গীতিকার ও চিত্র পরিচালক। তার জন্ম অধুনা বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। পিতা মতিলাল চৌধুরী ইংরেজ আমলে সরকারি ডাক বিভাগে কাজ নিয়ে দীর্ঘদিন মেসোপটেমিয়ায় ছিলেন; মাতা গোলাপকামিনী দেবী। কলকাতার রিপন স্কুল (সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) থেকে বিশেষ কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিক পাশ করেন ও ওখান থেকেই আই. এসসি পাশ করে বি. এসসি তে ভর্তি হন। গানের প্রতি নেশায় বি.এসসি পরীক্ষা অসমাপ্ত রেখে গান লেখার সাথে যুক্ত হন। ১৯৪০ সালে কলকাতা জিপিও তে চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি আট বছর মাত্র এই চাকরিতে ছিলেন।
★গীতিকার ও চিত্রপরিচালনা—
১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে গ্রা
মোফোন রেডিও সিনেমার গীতিকার হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়। 'রাজকুমারী ওলো, নয়নপাতা খোলো,সোনার টিয়া ডাকছে গাছে ওই বুঝি ভোর হল' মোহিনী চৌধুরীর প্রথম গানের রেকর্ড। গানটি গাইলেন কুসুম গোস্বামী কমল দাশগুপ্তর সুরে। শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের 'অভিনয় নয়' ছায়াছবিতে প্রথম গান লেখার সুযোগ পেলে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। জিপিও'র চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে সর্বক্ষণের জন্যে গানের জগতে মনোনিবেশ করেন। রায়চৌধুরী, ঘুমিয়ে আছে গ্রাম, রংবেরঙ, সন্ধ্যাবেলার রূপকথা, একই গ্রামের ছেলে, ব্লাইন্ড লেন ইত্যাদি ছবিতে সহকারী চিত্রপরিচালনার কাজ করেন এবং গান লেখেন। তার পরিচালিত ও প্রযোজিত ছবি সাধনা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলে তিনি বিজ্ঞানী ও সাংসদ মেঘনাদ সাহার অধীনে সংসদীয় সচিবের চাকরি করেন কিছুকাল। ১৯৫৪ সালে শিল্পপতি ডি. এন ভট্টাচার্যের একান্ত সচিব হিসেবে কাজ করতে থাকেন। পরে প্রাইভেটে বি.এ পাশ করেন। ১৯৭১ সালে ডি.এন ভট্টাচার্যের ব্যবসা বিপর্যয় ঘটলে তার ১৭ বছরের চাকরিটি চলে যায়। শেষ জীবনে আর্থিক দুর্গতির সম্মুখীন হন এই জনপ্রিয় গীতিকার। গ্রামোফোন রেকর্ড ও সবাক চলচ্চিত্রে তার অজস্র গান শ্রোতাদের ভেতর খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। যার কিছু আজো বাঙালির মুখে মুখে ফেরে। 'মুক্তির মন্দির সোপানতলে কত প্রাণ হলো বলিদান' নামক দেশাত্মবোধক গানটির জন্যে তিনি খ্যাতি ও সুনামের অধিকারী হয়েছিলেন। এই গানটির সুরকার ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র দে।
জনপ্রিয় গান—
•মুক্তির মন্দির সোপানতলে
•কাশ্মীর হতে কন্যাকুমারী
•দিন দুনিয়ার মালিক তোমার দিল কি দয়া হয় না
•জেগে আছি একা জেগে আছি কারাগারে
•ভালবাসা মোরে ভিখারি
•আমি দুরন্ত বৈশাখী ঝড়
•এনেছি আমার শত জনমের প্রেম
•শতেক বরষ পরে
•কেন এ হৃদয় চঞ্চল হল
•জয় হবে হবে জয়
•সুন্দরী লো সুন্দরী,
•দল বেঁধে আয় গান করি
ভুলি নাই ভুলি নাই
অভিনয় নয় গো, অভিনয় নয়
পিয়া সনে মিলন পিয়াস
ঝিলমিল ঝিলমিল ঝিলের জলে
চৈতি সন্ধ্যা যায় বৃথা
হায় কী যে করি এ মন নিয়া
কী মিষ্টি দেখো মিষ্টি কী মিষ্টি এ সকাল
সখি চন্দ্রবদনী, সুন্দরী ধনি, রাজকুমারী ওলো নয়নপাতা খোল, পৃথিবী আমারে চায়, তুমি যদি বলো ভালবাসা দিতে জানি না (গীতা দত্তের গাওয়া প্রথম গান) শুনি তাকদুম তাকদুম বাজে বাজে ভাঙা ঢোল, কেন এ হৃদয় চঞ্চল হল, আজ চঞ্চল মন যদি — গায়ক জগন্ময় মিত্র ও সুরকার কমল দাশগুপ্ত-র সঙ্গে মোহিনীবাবুর কথা।
মোহিনী চৌধুরির ১০১ তম জন্মবর্ষে তার পরিবারের সদস্যরা তার ১০১টি গানের সংকলন - "মোহিনী চৌধুরী ১০১ গানে গানে" প্রকাশ করেন।
মৃত্যু : গীতিকার মোহিনী চৌধুরী মারা যান ২১ মে, ১৯৮৭ খৃষ্টাব্দে।