দেব পাল্টি খেতেই কুনাল আর চুপ থাকতে পারলেন না
মমতার প্রিয় দেব শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী ২০ জনের মধ্যে। অথচ এই দেব ছিলেন মমতার খুবই প্রিয়। এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারেন নি কুনাল ঘোষ। কুনাল ঘোষ আবার তাকে বিশেষ পছন্দ করতেন না। চৈতন্যদেব’…’দেবাদিদেব’…এই ধরনের শব্দ প্রয়োগ করে বারেবারে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করেছিলেন ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারীকে। কখনও তাঁর সৌজন্যের রাজনীতি নিয়ে, কখনও বিজেপি করা অভিনেতাদের সঙ্গে সিনেমা নিয়ে কুণালের আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন সাংসদ। দলকে বারেবারে সতর্ক করেছিলেন কুণাল। রাজ্যের পালাবদল হতেই এবার কি সেই সেই কুণালেরই কথা খানিক মিলছে? কারণ তৃণমূলের ক্ষমতা হারাতেই কার্যত অবস্থান বদল ঘাটালের তৃণমূল সাংসদের। সূত্রের খবর, তড়িঘড়ি বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখালেন তৃণমূলের অভিনেতা সাংসদ। এখানেই শেষ নয়, একেবারে শ্যুটিং বাতিল করে দিল্লি গেলেন তিনি। তারপর বিদ্রোহীদের বৈঠকে সামিল দেব। বিধানসভায় দলনেতা কে হবেন, সেই নিয়ে তৃণমূলের একপ্রস্থ নাটক দেখেছেন রাজ্যবাসী। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একাধিক বিধায়ক নাম লেখান তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে।
এরপর সোমবার যখন খোদ সুপ্রিমো দিল্লিতে তখন একই ছবি দেখা গেল লোকসভার সাংসদের ভূমিকাতে। প্রথম থেকে সুর বদলানো কাকলী ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূল সংসদীয় দলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ত্যাগ করলেন তাঁরা। তারপর কুড়ি জন বিদ্রোহী সাংসদের সই নিয়ে ওই চিঠি জমা দেওয়া দেওয়া হয়েছে। পৃথক ব্লক হিসেবে এনডিএ জোটের অংশ হতে চান তাঁরা। জানা যাচ্ছে, এই কুড়ি জন বিদ্রোহী সাংসদের মধ্যে রয়েছেন দেবও। বিগত কয়েক বছরে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন দেব। ২০১৪, ২০১৯, ২০২৪ সালে তিনি সাংসদ হয়েছেন। ২০২৫ সালে তাঁকে শেষবার দেখা গিয়েছিল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের বৈঠকে। এরপর থেকে দেবকে সেই অর্থে নিজের সংসদীয় কেন্দ্রে দেখা যায়নি। যদিও, দেব বারেবারে বলেছিলেন ২০২৪ সালের নির্বাচনে নাকি তিনি দাঁড়াতে চাননি। মমতার জোরাজুরিতেই তিনি ভোটে লড়েছিলেন। তবে বিধানসভার পালা বদলেরই পরই অন্যান্য় ১৯ জনের মতো পাল্টি খেলেন তিনিও।
#political
#প্রথমআলোরবার্তা
#prathamalorbarta


