
🙏🌷|| প্রা ত্য হি ক সা ধু স ঙ্গ ||🌷🙏 🙏🌷[পূজ্যপাদ বীরেশ্বরানন্দজী] মহারাজ বেলুড় মঠে আছেন। বুদ্ধ পূর্ণিমা। মহারাজ বসে আছেন। দুজন ব্রহ্মচারী এসে তাঁকে প্রণাম করে বললেনঃ "মহারাজ, আজ বুদ্ধপূর্ণিমা, আমরা আপনাকে প্রণাম করতে এসেছি।" মহারাজ হেসে বললেন: "তোমাদের অনেক বছর আগের একটা মজার কথা শোনাই। বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বেলুড় মঠে বুদ্ধমূর্তিকে সুন্দর করে সাজানো হতো। পূজার পর স্বামী অখণ্ডানন্দজী মহারাজ হেসে আমাদের সকল ব্রহ্মচারীকে বললেন: আজ বুদ্ধপূর্ণিমা, 🌷।জানইতো ভগবান বুদ্ধের তিনটি আদেশ মন্ত্র আছে — 'বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি', 'ধর্মং শরণং গচ্ছামি' এবং 'সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি'। অতএব তোমাদের সকলকে তিন-তিনবার সাষ্টাঙ্গ প্রণাম।🙏 করতে হবে। আমরা সবাই খুশি হয়ে তিন-তিনবার সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করে তাঁর আশীর্বাদ গ্রহণ করি।” এই শুনে দুজন ব্রহ্মচারী হেসে বললেন: "মহারাজ, আমরাও আজ আপনাকে তিনবার সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করব।" মহারাজ হেসে বলেন: "তোমাদের ছাড় দিচ্ছি; একবার করলেই হবে।" তবুও সেই দুজন ব্রহ্মচারী তিন-তিনবার সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করে মহারাজের আশীর্বাদ নিয়ে খুশি হয়ে ফিরে যায়।🙏🌷 মহারাজ চেরাপুঞ্জিতে অনেকবার গিয়েছেন। এইরকম একবার মহারাজ গিয়েছেন, রাতে খাওয়ার পর সাধু-ব্রহ্মচারীরা বসেছেন তাঁকে ঘিরে। তিনি মজার মজার গল্প বলছেন। কোন কোন সাধুও হাসির গল্প বলছেন। এক ব্রহ্মচারী উঠে গিয়ে একটা রেকর্ড নিয়ে এল — ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাস্যকৌতুক। সেটা চালানো হলো। মহারাজ একাগ্র মনে তা শুনছেন আর হো-হো করে হাসছেন। রেকর্ডের একদিক শেষ হবার পর আগ্রহ নিয়ে বলছেন: "বাঃ, দারুণ হাসির, অন্য দিকটাও শোনাও।" দুদিক শোনা হয়ে গেলে জিজ্ঞাসা করলেন: "এরকম রেকর্ড আর নেই ? ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় সত্যিই জিনিয়াস, হাসতে হাসতে আমার পেট ফেটে গেল।" 🙏🌷।একদিন সারদা মঠের কয়েকজন সন্ন্যাসিনী-ব্রহ্মচারিণী বেলুড় মঠে এসেছেন। চা-পানের প্রসঙ্গ উঠল। চা যেহেতু নেশার দ্রব্য, তাই একজন ব্রহ্মচারিণী বললেনঃ "মহারাজ, মঠে চা-পান করতে ভালোবাসি বলতে সঙ্কোচ হয়। কারণ মাতাজীরা বলেন, 'চা-খাও, না চা তোমায় খেয়েছে ?” অর্থাৎ ওই নেশাটা তোমায় পেয়ে বসেছে কিনা ? মহারাজ গাম্ভীর্য নিয়ে বলে উঠলেনঃ "দেখ, চা-এর নিন্দা একদম শুনবে না। কেউ যদি চা-এর নিন্দা করে, তবে তাকে তিন ভাষায় তিনটি বাক্য বলে থামিয়ে দেবে — ইংরেজীতে বলবে — 'all time is tea time', সংস্কৃতে — 'ন চাযুক্তস্য ভাবনা', আর বাংলায় বলে দেবে — 'চা তাতায় কিন্তু মাতায় না'। সন্ন্যাসিনী-ব্রহ্মচারিণীরা জোরে হো-হো করে হেসে উঠলেন। মহারাজ বললেন: "আস্তে আস্তে। এটা বেলুড় মঠ, সারদা মঠ নয়।" -স্বামী চৈতন্যানন্দ।।🙏🙏🙏🌷🌼🌷 প্রবন্ধ : স্বামী বীরেশ্বরানন্দ: এক দিব্য জীবন।।🙏🙏🙏🌷🌼🌷 মূলগ্রন্থ : স্বামী বীরেশ্বরানন্দ : এক দিব্য জীবন।।🙏🙏🙏🌷🌼🌷 সম্পাদনা :স্বামী চৈতন্যানন্দ।।🙏🙏🙏🌷🌼🌷 পৃ.: ৫৮-৫৯ জয় মহামাঈকী জয় ।।🙏🙏🙏🌺💟🌺 জয় ভগবান শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেব কী জয়।।🙏🙏🙏🌺💟🌺 জয় স্বামীজি মহারাজজী কী জয়।।🙏🙏🙏🌺💟🌺


