ShareChat
click to see wallet page
search
রক্তে লেখা ইতিহাসের পাতায় এক অগ্নিময় নাম- অনন্ত লক্ষ্মণ কানহেরে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই উত্তাল সময়ে, যখন দাসত্ আপনার এলাকার সব ভাইরাল ভিডিওর জন্য ডাউনলোড করুন শুরু অ্যাপ (Shuru App) 👇🏻 https://shuru.co.in/dl/QjWlbu #pingla barta
pingla barta - ShareChat
রক্তে লেখা ইতিহাসের পাতায় এক অগ্নিময় নাম- অনন্ত লক্ষ্মণ কানহেরে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই উত্তাল সময়ে, যখন দাসত্বের শৃঙ্খল ছিঁড়ে ফেলতে বুকের রক্ত উথলে উঠছিল, তখনই জন্ম নেয় এক তরুণ বিপ্লবীর অদম্য সংকল্প। তিনি ছিলেন অভিনব ভারত-এর সাহসী সদস্য— যে সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন গণেশ দামোদর সাভারকর এবং বিনায়ক দামোদর সাভারকর। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি এমন এক পথ বেছে নিলেন, যার শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করছিল ফাঁসির দড়ি— কিন্তু তবুও পিছু হটেননি এক পা। ১৮৯২ সালের ৭ই জানুয়ারি, ইন্দোর-এর মাটিতে জন্ম নেন অনন্ত। পূর্বপুরুষের ভিটে ছিল রত্নগিরি জেলায়। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই ছেলেটির জীবনের প্রথম অধ্যায় ছিল সাধারণ— কিন্তু ভাগ্য লিখেছিল অসাধারণ পরিণতি। প্রাথমিক শিক্ষা ইন্দোরে, তারপর মামার বাড়ি আওরঙ্গাবাদ-এ পড়াশোনা। বড় ভাই গণপতির সান্নিধ্য, আর চারপাশের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশ— সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে এক আগ্নেয়গিরি জেগে উঠছিল তাঁর অন্তরে। তখন ভারতবর্ষে স্বাধীনতা সংগ্রাম দুই ধারায় বিভক্ত— একদিকে অহিংস পথ, অন্যদিকে সশস্ত্র বিপ্লব। ১৯০৫ সালে ব্রিটিশদের কুখ্যাত বঙ্গভঙ্গ— হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভাজনের বিষ ছড়িয়ে দেয়। সেই অন্যায়ের আগুন বাংলার মাটি ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র দেশে। যুব সমাজ বুঝে গিয়েছিল— স্বাধীনতা ভিক্ষা করে নয়, ছিনিয়ে নিতে হয়! এই আগুনই স্পর্শ করেছিল অনন্তের হৃদয়। আওরঙ্গাবাদে থাকার সময় তিনি পরিচিত হন গোপন বিপ্লবী চক্রের সঙ্গে। গঙ্গারাম রূপচাঁদ শ্রফের বাড়িতে থাকার সময়, তাঁর মাধ্যমে সংযোগ তৈরি হয় নাসিকের গোপন বিপ্লবী দলের সাথে। গণু বৈদ্য, টোনপে— এইসব ছায়ার আড়ালে থাকা নামগুলো ধীরে ধীরে তাঁকে টেনে নেয় এক অদৃশ্য যুদ্ধক্ষেত্রে। এই সময়েই তিনি ‘মিত্র প্রেম’ নামে একটি উপন্যাস রচনা করেন— বন্ধুত্বের আড়ালে লুকিয়ে ছিল বিপ্লবের বীজ। নাসিকে তখন কৃষ্ণজি গোপাল কারভে এবং বিনায়ক নারায়ণ দেশপাণ্ডে-র মতো বিপ্লবীরা গোপনে সংগঠিত হচ্ছিলেন। সাভারকর ভাইদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনন্ত নেন এক চরম সিদ্ধান্ত— নাসিকের কালেক্টর জ্যাকসনকে হত্যা! ১৯০৯ সালে, ব্রিটিশ সরকার দেশপ্রেমমূলক লেখা প্রকাশের অভিযোগে সাভারকরদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দেয়। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিপ্লবীরা। ঠিক তখনই সুযোগ আসে— নাসিকের কালেক্টর এ. এম. টি. জ্যাকসন-এর বিদায় সংবর্ধনা। স্থান—বিজয়ানন্দ থিয়েটার, নাটক— ‘শারদা’, তারিখ— ২১ ডিসেম্বর ১৯০৯। নাটক শুরু হয়েছে… দর্শকাসন ভরা… জ্যাকসন প্রবেশ করলেন— ঠিক সেই মুহূর্তে— গুলি। এক, দুই, তিন— অনন্ত লক্ষ্মণ কানহেরের হাতে বন্দুক গর্জে উঠল। মুহূর্তেই লুটিয়ে পড়লেন জ্যাকসন— নিশ্চুপ, নিথর। হল জুড়ে আতঙ্ক, চিৎকার, বিশৃঙ্খলা— আর সেই ভিড়ের মাঝেই দাঁড়িয়ে আছেন অনন্ত… শান্ত, স্থির, নির্ভীক। তার পরিকল্পনা ছিল আত্মবলিদান— কিন্তু ভাগ্য তাকে সেই সুযোগও দিল না। সেখানেই গ্রেপ্তার হলেন তিনি। গ্রেপ্তারের পর একে একে ধরা পড়লেন তাঁর সঙ্গীরাও—কারভে ও দেশপাণ্ডে। ২০ মার্চ ১৯১০— আদালতের রায়—মৃত্যুদণ্ড। কোনো অনুতাপ নেই, কোনো ভয় নেই— শুধু ছিল দেশের জন্য শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার দৃঢ়তা। ১৯শে এপ্রিল, ১৯১০— ফাঁসির মঞ্চে উঠলেন তিন বিপ্লবী। দড়ি ঝুলছে… চারপাশে নীরবতা… আর সেই নীরবতাকে চিরে— একটি অদৃশ্য গর্জন— “বন্দে মাতরম!” মাত্র ১৮ বছর বয়সে (ক্ষুদিরামের পর অন্যতম কনিষ্ঠ) অনন্ত লক্ষ্মণ কানহেরে হেসে বরণ করলেন মৃত্যু। আজও তাঁর নাম ইতিহাসের অন্ধকারে ঢাকা পড়ে আছে। কিন্তু সত্যি হলো— যে তরুণ নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে দেশের জন্য প্রাণ দেয়, সে কখনও হারিয়ে যায় না। শতকোটি প্রণাম সেই মৃত্যুঞ্জয়ী বীরকে— যাঁর সাহস আজও শিরায় শিরায় আগুন জ্বালায়