শিরোনাম: শেষ ঝড়ের স্মৃতি
লেখক আনজারুল মোল্লা
১২/০৫/২৬
গ্রামের আকাশটা হঠাৎ করেই কালো হয়ে উঠল। গরমের দমবন্ধ করা দুপুরটা যেন এক মুহূর্তে বদলে গেল। সবাই বুঝে গেল—কালবৈশাখী আসছে।
ছোট্ট মেয়ে মীরা উঠোনে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ বাতাসে তার ওড়না উড়ে গেল, সে হাসতে হাসতে ধরতে গেল। কিন্তু তার দাদু দূর থেকে চিৎকার করে বললেন,
“ভিতরে আয় মীরা, ঝড় খুব জোরে আসবে!”
মীরা দৌড়ে ঘরে ঢুকে পড়ল। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হলো ঝড়—বাতাসের গর্জন, বিদ্যুতের ঝলক, আর মুষলধারে বৃষ্টি।
মীরা ভয়ে দাদুর হাত শক্ত করে ধরল।
“দাদু, এত ভয়ংকর কেন?”
দাদু মৃদু হেসে বললেন,
“প্রকৃতির রাগ, আবার ভালোবাসাও। এই ঝড়ের পরই তো ঠান্ডা হাওয়া আসে।”
হঠাৎ একটা বিকট শব্দ হলো। যেন কিছু একটা ভেঙে পড়ল। মীরা আঁতকে উঠল। ঝড় থামার পর সবাই বাইরে বেরিয়ে দেখল—বাড়ির পাশের পুরোনো আমগাছটা ভেঙে পড়েছে।
মীরা চুপ করে গাছটার দিকে তাকিয়ে রইল। গাছটা ছিল তার খুব প্রিয়। গরমের দিনে সে এখানেই খেলত, দাদুর সঙ্গে বসে গল্প শুনত।
তার চোখে জল চলে এল।
“দাদু, গাছটা আর বাঁচবে না?”
দাদু ধীরে মাথা নাড়লেন,
“না রে, তবে এর জায়গায় আবার নতুন গাছ হবে।”
মীরা কিছু বলল না। সে শুধু বুঝতে পারল—ঝড় শুধু ঠান্ডা হাওয়া আনে না, কখনো কখনো প্রিয় জিনিসগুলোও কেড়ে নেয়।
সেদিনের কালবৈশাখী মীরার মনে থেকে গেল—একটা ঝড়, যা শুধু গাছ ভাঙেনি, তার ছোট্ট মনেও একটুখানি কষ্ট রেখে গেছে।
#😊সেরা কবিদের কবিতা✍️ #📰রাজ্যের আপডেট📰 #📢শেয়ারচ্যাট স্পেশাল #📰জেলার আপডেট📰 #📑রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা✍


