S M from@Sandy
🛕কিংবদন্তি মাহেশ🛕
🙏🏾🙏🏾🙏🏾🙏🏾🙏🏾🙏🏾🙏🏾
আজ কোথায় তলিয়ে গেলো বাংলার ঐতিহ্য ,দেখা যায় মানুষে মানুষ'কে ডিম ছুঁড়ে মারছে,আর শাসক
ইন্ধন যোগাচ্ছে,পুলিশ নির্লিপ্ত।গরিবের মিড - ডে মিল নামকে হস্তে ..এটাই তো বাংলার কালচার....আসলে,"তুমি অধম হইলেই,আমি উত্তম হইব না কেনো...??? ", এ বাক্য মানিব না কারণ আমরা রাজা...!!!!! ? অথচ সেই সুদূর অতীতে কী ছিল .এই বাংলা দেখুন........
👉🏿👉🏿👉🏿👉🏿👉🏿👉🏿👉🏿👉🏿👉🏿👉🏿🛕🛕🛕🛕অতীতের সেই ছোরা ছুরি....
"রথ দেখা আর কলা বেচা",
হলো একটি অত্যন্ত পরিচিত বাংলা প্রবাদ।এর সহজ অর্থ হলো— এক ঢিলে দুই পাখি মারা বা একই যাত্রায় দুটি কাজ হাসিল করে নেওয়া।ঐতিহাসিকভাবে,এই প্রবাদটি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শ্রীরামপুরের প্রাচীন মাহেশ রথ-যাত্রার সঙ্গে জড়িত।আষাঢ় মাসে রথ-যাত্রার সময় দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ রথ টানতে ও দেখতে আসতেন।সেই সুযোগে স্থানীয় চাষীরা তাঁদের ক্ষেতের পাকা কলা বিক্রি করতে মেলায় নিয়ে আসতেন।ভক্তরা সেই কলা কিনে রথের দিকে ছুঁড়ে দিতেন।ফলে সাধারণ মানুষের রথ দেখার আনন্দ ও পুণ্য অর্জনের পাশাপাশি কলা বেচার মতো লাভ জনক কাজটিও একসাথে সম্পন্ন হয়ে যেত।
সাধারণত বিভিন্ন বাগধারার উৎপত্তি হয় স্থানীয় কিছু বহুল প্রচলিত ঘটনার থেকে।এক্ষেত্রেও ‘রথ দেখা কলা বেচা’-র নেপথ্যে রয়েছে মাহেশের রথযাত্রা। ঐতিহাসিকদের মতে ১৩৯৬ সাল থেকে এই রথযাত্রা শুরু হয়েছে।পুরীর পর এটিই ভারতের প্রাচীনতম রথ যাত্রা। এখনও দেখা যায়,যখন এই রথ যাত্রা হয়,তখন শ্রীরামপুর এবং স্থানীয় অঞ্চলের মানুষ জগন্নাথের দিকে কলা ছুঁড়ে দেন।আর সেই কলার সরবরাহ বজায় রাখতেই গ্রামের চাষীরা নিজেদের উৎপাদিত কলা বিক্রয় করতে আসেন এখানে।আর সেখান থেকেই রথ দেখা এবং কলা কেনাবেচার বিষয়টি এসেছে।এখন প্রশ্ন হল, কলা ছোঁড়া হয় কেন???????👉🏼👉🏼👉🏼 আসলে নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টি থেকে কোনও অঞ্চলে যখন কোনও বিশেষ দেবদেবীর পূজা করা হয় তখন তাঁর মধ্যে স্থানীয় রীতি এবং সংস্কৃতির ছাপ পরে। মানে সেই দেবতাকে নিজেদের রূপে রূপায়িত করার প্রক্রিয়া চলে।ঠিক যেমন ভাবে কৃত্তিবাস ওঝা যখন রামায়ণ রচনা করতে বসেন,তখন তার রূপ বাল্মীকির রামায়ণের তুলনায় ভিন্ন হয়ে যায়।সাহিত্য হিসাবে মহাকাব্য থেকে বদলে পাঁচালীর রূপ পায়।কারণ পাঁচালী বঙ্গ সংস্কৃতির সঙ্গে অনেক বেশি মানানসই।তেমনই বদলে যায় রামের চরিত্রও।বাল্মীকির রামায়ণ বীররসাত্মক। সেখানে রামের রাজবেশ উত্তর ভারতীয় রাজাদের মতোই বাহুল্য পরিপূর্ণ।অন্যদিকে শ্রীরাম পাঁচালীর রাম যেন বাংলা সমৃদ্ধ ঘরের এক উজ্জ্বল তরুণ,তাঁর অলংকার বলতে সামান্য মুক্তোর মালা। ........👁️👉🏿👉🏿একই ভাবে জগন্নাথকে গ্রহণ করার সময়েও তাঁকে নিজেদের মতো করে বদলে নিয়েছে বাঙালি।রথযাত্রায় তিনি মাসির বাড়ি যাচ্ছেন।ঠিক যেমন গৃহস্থের সন্তান যায়।তাই সেই যাত্রায় তাঁরও খিদে পায়।আর লোকাচার অনুযায়ী,সেই ক্ষুধা নিবারণ করতে তিনি কলা এবং জিলিপি খান।আর তাই ভক্তরাও প্রিয় প্রভুকে তাঁর পছন্দের ফল উৎসর্গ করেন।শত শত বছর ধরে চলতে চলতে এই রীতি একটি লোকাচারে বদলে গিয়েছে।
মাহেশের রথযাত্রা ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম রথ উৎসব (পুরীর রথযাত্রার পরে) এবং বাংলার প্রাচীনতম উৎসব, যা ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে উদযাপিত হয়ে আসছে।এটি পশ্চিমবঙ্গের শ্রীরামপুরের মাহেশে অনুষ্ঠিত এক মাস ব্যাপী উৎসব এবং সেই সময়ে একটি বিশাল মেলা বসে।পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শ্রীরামপুর শহরের মাহেশে অবস্থিত। মাহেশের রথযাত্রা ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম এবং বাংলার প্রাচীনতম ও বৃহত্তম রথ উৎসব,১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দে সাধক ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী এই রথযাত্রার সূচনা করেন।ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী ও মাহেশের রথযাত্রা একে অপরের সাথে ওতপ্রোত ভাবে যুক্ত।মাহেশের রথের ইতিহাস অনুযায়ী ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী পুরীতে গিয়ে জগন্নাথ দর্শনে বঞ্চিত হয়ে তিনি যখন আমরণ অনশনে বসেন, তখন জগন্নাথ দেব তাঁকে স্বপ্নে গঙ্গাতীরে 'মাহেশ' গ্রামে গিয়ে সাধনা করার নির্দেশ দেন।ভগবানের নির্দেশ অনুযায়ী, মাহেশে সাধনার পর একদিন বর্ষার দিনে ভাগীরথী (গঙ্গা) নদীতে একটি নিমকাঠ ভেসে আসে।সেই পবিত্র কাঠ দিয়েই তিনি শ্রী জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি তৈরি করে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। তবে এই সময় কার প্রাচীন রথ বহু চর্চিত। বারে বারে না না অঘটন ,অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি ঘটে (★এই বিষয় গুলো আমি পরে কোনো সময় লিখবো)....!!!!!প্রাচীন কাঠের রথ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়ার পর,১৮৮৫ সালে কলকাতার শ্যামবাজারের বসু পরিবারের (বলরাম বসুর বংশধর) পৃষ্ঠপোষকতায় মার্টিন বার্ন কোম্পানি লোহার এই সুবিশাল রথটি তৈরি করে। জড়িত ছিলেন শেওড়াফুলি রাজের দেওয়ান কৃষ্ণচন্দ্রও।মার্টিন বার্ন কোম্পানির তৈরি মাহেশের রথের কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ও গঠনশৈলী👉🏿👉🏿👉🏿এটি একটি চারতলা বিশিষ্ট 'নবরত্ন' রথ (যার অর্থ এতে নয়টি চূড়া রয়েছে)। রথটির মূল কাঠামোটি কাঠের কাজের সাথে মজবুত স্টিলের তৈরি। এর উচ্চতা প্রায় ৫০ ফুট এবং ওজন প্রায় ১২৫ টন।রথটিতে ১২টি বিশাল লোহার চাকা রয়েছে।রথের একেবারে সামনের দিকে দুটি তামা এবং ব্রোঞ্জের তৈরি ঘোড়া সংযোজিত আছে।তখনকার দিনে রথটির নির্মাণ ব্যয় ছিল প্রায় ২০ লক্ষ টাকা এবং “লোহার কাঠামোর সঙ্গে রয়েছে,টানার জন্য মোটা ম্যানিলা দড়ি।এবং এটি টেনে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে মাহেশের মাসির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
👉🏿👁️👁️👁️👉🏼👉🏼👉🏼👉🏼শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সাথেও হুগলির মাহেশের রথযাত্রার এক গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ১৫১০ সালে পুরী যাওয়ার পথে তিনি মাহেশে এসেছিলেন।তিনি জগন্নাথ দেবের বিগ্রহ স্পর্শ করেন এবং মাহেশকে আধ্যাত্মিক কারণে 'নব নীলাচল' (নতুন পুরী) বলে আখ্যায়িত করেন।ফলে এই স্থানের মাহাত্ম্য বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।চৈতন্যের প্রেম ভক্তি ও সংকীর্তন মাহেশের রথযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে। তাঁর আশীর্বাদেই মাহেশ আজও ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ জগন্নাথ ধাম হিসেবে পরিচিত।মাহেশের রথতলাতেই চৈতন্যদেবের স্মৃতি বিজড়িত স্থান ও মন্দির রয়েছে,যেখানে শ্রীচৈতন্য নিজে কিছুকাল অবস্থান করেছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে।⭐⭐⭐সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাসিকা 'রাধারাণী'-এর মূল প্রেক্ষাপট মাহেশের রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে রচিত।এই কাহিনীর সূত্রপাত ও ঘটনাপ্রবাহ ওতপ্রোত ভাবে মাহেশ ও রাধারাণীকে জড়িয়ে রয়েছে। ★আমি পূর্বে গত বছরে এই রাধা রানীর বিষয় উল্লেখ করেছিলাম।মাহেশে রাধারাণীর ঘটনাপ্রবাহটি একটু উল্লেক করি,১৫০ বছর অতিক্রান্ত হলো সাহিত্য সম্রাটের জন্ম বার্ষিকী। তাঁর কাহিনীর শুরুতে দেখা যায়, রাধারাণী নামে এক দরিদ্র বালিকা,যার বয়স ১১ বছরের কম,সে রথ দেখার জন্য মাহেশে গিয়েছিল।সে একসময় ধনী পরিবারের সন্তান হলেও,পিতার মৃত্যুর পর তাদের চরম আর্থিক অনটন দেখা দেয়।রথের দিন বৃষ্টি ও বিপত্তি:.... বঙ্কিমচন্দ্রের ভাষায়,""রাধারাণী নামে একটি বালিকা মাহেশে রথ দেখিতে গিয়াছিল।”",রথের দিন রাধারাণীর মাতা অসুস্থ হয়ে পরায় বালিকাটি উপোস অবস্থাতেই রথ টানতে যায়,রথ শেষের পর মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয় এবং অত্যন্ত অন্ধকারে পথ হারিয়ে সে বিপদে পরে।
বনফুলের মালা বিক্রি করতে গিয়ে বৃষ্টি ও অন্ধকারের মধ্যে রাধারাণী তার গাঁথা বনফুলের মালা বিক্রি করার চেষ্টাও করে, কিন্তু এই মেলার ৩/৪ লক্ষাধিক জনো স্রোতে মেয়েটি নিজেকে হারিয়ে ফেলে।★আমি একবার পড়েছিলাম স্বয়ং বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেও খুঁজিতে গিয়েছিলেন......সেই সময় এক দয়ালু অপরিচিত ব্যক্তি তাকে সাহায্য করেন এবং পরে সেই ব্যক্তির সঙ্গেই রাধারাণীর জীবন ও পরিণয়ের গল্প জড়িয়ে যায়।
আজও মাহেশের রথযাত্রা এবং বঙ্কিমচন্দ্রের রাধারাণীর মর্মস্পর্শী কাহিনীর স্মৃতি বাঙালিদের মনে একাত্ম হয়ে মিশে আছে।আজ উল্টো রথ ,আজ আর এসব দেখা যায় না।ফিকে মলিনতা কে ঢেকে ঝকমক রথ দেশের আনাচে কানাচে নিয়ম রক্ষা করে চলেছে।...👁️👁️🥹🥹🥹🥹
🙏🏼🥹🥹🥹🥹🥹🥹🙏🏼
🙏🏼জয় শ্রী জগন্নাথ🙏🏼
#শুভ কামনা #ভক্তি #😀জয় জগন্নাথ🙏 #💞জয় জগন্নাথ 🙏💞 #শুভ পুনর্যাত্রা🙏উল্টো রথ