|| অম্বুবাচী ||
আজ থেকে শুরু হল অম্বুবাচী, আজ অম্বুবাচী প্রবৃত্তি ও যেদিন শেষ হবে সেদিন অম্বুবাচী নিবৃত্তি। গুপ্তপ্রেস মতে আজ রাত ৯টা ৮ মিনিট থেকে তিথিটি শুরু হচ্ছে। পৃথিবী যখন সূর্যের মিথুন রাশিস্থ মৃগশিরা নক্ষত্র শেষে আর্দ্রা নক্ষত্রে অবস্থান করে তখনই অম্বুবাচী শুরু হয়। এটা কিন্তু বর্ষার ও সূচনা।
শাস্ত্র বলে এই আকাশ যদি পুরুষ হয়, ধরিত্রী স্ত্রীলিঙ্গ। এই দুইয়ের মিলন ঘটে বর্ষার বৃষ্টির মাধ্যমে। দুজনের মিলনে সৃষ্টি হয় ফসল। এটাই অম্বুবাচীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। মা এইসময় ধরিত্রীর সকল নারীর মতোই ঋতুমতী হন। তাই মায়ের দরকার বিশেষ যত্নের।
আজকের দিনে দাঁড়িয়েও অম্বুবাচী সম্বন্ধে মানুষের বেশ কিছু ভুল ধারণা থেকে যাচ্ছে। এসম্পর্কে কিছু বিষয় পরিষ্কার হয় ব্রহ্মপুরাণের থেকে।
ব্রহ্মপুরাণ বলে অম্বুবাচী চলাকালীন মাটিতে খোঁড়া বা বৃক্ষরোপণ জাতীয় কাজ বন্ধ রাখতে ও পূজনীয় নদনদী গুলিতে মলমূত্র ত্যাগ করলে নরকবাসী হয়।
এখন পুরাণের কথাগুলি যদি আক্ষরিক অর্থ ধরে যদি এগোই তাহলে এর সঠিক অর্থ আমরা বুঝতে পারিনা। এর প্রধান অর্থ এই যে এই সময় বৃষ্টি বাদলের সময়, অনেক ক্ষেত্রে বন্যার মত পরিস্থিতি হয়, তাই এখন যদি আমি রাস্তায় যে কোনো কাজের জন্য বড় বড় গর্ত খুঁড়ি তা জলে ডুবে যাবে এবং পথচলতি মানুষের জন্য বিপদ হতে পারে! আবার নদীতে যদি আমি শৌচকর্ম করি , তাহলে সেই জীবাণু বন্যার জলের মাধ্যমে অন্যের বাড়িতে চলে যাবে ও রোগের প্রকোপ বাড়বে! মাথায় রাখতে হবে এই বর্ষাকাল কিন্তু রোগজ্বালা ছড়ানোর প্রধান সময়। আমি যদি নিজে এইসব কাজ করে অন্য মানুষের ক্ষতি করি, তাহলে আমার ক্ষেত্রে ভালো কখনোই হবেনা।
অনেকে এই অম্বুবাচী চলাকালীন ঘরের নিত্য পূজা বন্ধ রাখেন, দেবীমূর্তি একদম কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখেন। এটা একদম ভুল। আমার ঘরের মেয়ে যদি ঋতুমতী হয় , আমি তাকে নিশ্চয়ই না খেতে দিয়ে শাড়ি কাপড়ে ঢেকে রাখবোনা , আমাদের ঘরের দেবদেবীরা আমাদের নিজেদের মানুষ। তাদের সাথে এই ভেদাভেদ কেন?
নিত্য পূজার অর্থ আমাদের ঘরের দেবদেবী কে নিত্য সেবা ও আহার প্রদানের মত বিষয়। এ বন্ধ রাখতে নেই। আর বন্ধ রাখতে নেই আগে থেকে সংকল্প করে রাখা কোনো পূজা। নিত্যদিনে একবার ভাবুন আমরা তো কতই আঘাত করে চলেছি ধরিত্রী মা কে। তা কি পুরোপুরি বন্ধ সম্ভব? সম্ভব নয়। তাই অম্বুবাচী নিয়েও আমাদের অতিরিক্ত কিছু করার নেই। তবে হ্যাঁ এই সময়টা মায়ের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন আছে। তাই বিশেষ অর্চনা করা যায় তবে একান্তে করাই শ্রেয়। মায়ের কৃপা থাকলে এই সময়ে আপনার ভাগ্য খুলে যেতে পারে। একান্তে জপ করাও খুব উপকারী।
পরিশেষে বলি অম্বুবাচী সম্পর্কিত বিধি একান্তই কামাখ্যা মন্দিরের বিধি। এই তিনদিন ঐ মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকলেও গুপ্ত পূজা চলতে থাকে। আমাদের এই বিষয়ে এত ভাবনার দরকার নেই, শুধু দেখতে হবে আমরা যাতে ঘরের মায়ের আরাধনা বন্ধ না করি। আর আমাদের পুরাণের কথাগুলির আক্ষরিক অর্থ না ধরে তার অন্তর্নিহিত অর্থ বোঝাই আমাদের কর্তব্য। #🙂ভক্তি😊 #🙂সনাতন ধর্ম🙏 #🙏শুভ অম্বুবাচী ২০২৬ 💐 #🙏 শুভ অম্বুবাচী ২০২৬💐 #🙏শুভ অম্বুবাচী🙏


