একটু সতর্কতা নিতে হবে ॥ আসল ঝুঁকিটা কিন্তুএটা না যে AI নিজে থেকে যাদুর মতো ভোট বদলে দেবে। AI তো শুধু যে ছবিটা পায়, সেখানে যে সংখ্যা দেখা যাচ্ছে সেটাই পড়বে।
আসল ঝুঁকি কোথায়?
- কোন ছবিটা সিস্টেমে যাচ্ছে – সেটা আসল ঝুঁকি।
- আর সেই ছবি আর AI যে রেজাল্ট দিচ্ছে, সেটা ঠিকভাবে আসল নথির সঙ্গে (EVM স্ক্রিন + Form 17C) মিলিয়ে দেখা হচ্ছে কি না – এটাও বড় প্রশ্ন।
যদি ভুল ছবি পাঠানো হয়, বা মাঝপথে কেউ ছবিটা বদলে দেয়, তাহলে AI খুব অনেস্টলী সেই ভুল সংখ্যাই পড়ে নেবে। এখানেই লোকাল কন্ট্রোল আর মানুষের প্রভাব বিপজ্জনক হয়ে যেতে পারে, যদি প্রপার চেকস এন্ড ব্যালান্স না থাকে।
*কী কী ভুল হতে পারে, আর কীভাবে*
১. EVM–এর ফল দেখানোর মুহূর্তে
EVM খোলা হচ্ছে, স্ক্রিনে রেজাল্ট দেখা যাচ্ছে, তখন একজন অফিসার সেই স্ক্রিনের ছবি তুলছে। যদি পার্টি এজেন্টরা পরিষ্কারভাবে স্ক্রিন দেখতে না পায়, আর নিজে সংখ্যা লিখে রাখতে না পারে, তাহলে তাদের বাধ্য হয়ে সেই তোলা ছবির ওপরই চোখ বন্ধ করে ভরসা করতে হবে।
সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় একটা অসৎ অফিসার কী কী করতে পারে:
- এজেন্টদের সামনে ঠিকমতো আসল EVM স্ক্রিনই না দেখানো।
- এজেন্টদের একরকম দেখিয়ে, পরে অন্য একটা ডিভাইসে থাকা অন্য ছবি তুলে/পাঠিয়ে দেওয়া – যদি এক্ষেত্রে ভিডিও রেকর্ড না থাকে, আর কোনও সিকিওর অ্যাপ না থাকে। (এবিষয়ে পরে বলা হয়েছে)
২. ছবি তোলা থেকে আপলোড করা পর্যন্ত
যদি ছবি *প্রথমে ফোনের নরমাল গ্যালারি বা ফাইল সিস্টেমে সেভ হয়, তারপর সেখান থেকে ম্যানুয়ালি আপলোড করা হয়*, তাহলে এই মাঝে একটা সময় থাকে যখন ছবিটা বদলানো যেতে পারে। এটা করতে দেয়া যাবে না.
উদাহরণ:
- আসল ছবিটা ডিলিট করে, তার জায়গায় এডিট করা অন্য ছবি রেখে দেওয়া, যেখানে সংখ্যা পাল্টে দেওয়া হয়েছে।
- সাধারণ ফটো এডিটিং টুল বা AI–এর সাহায্যে ডিজিট পাল্টে দেওয়া।
ECI ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় AI–এডিটেড, ফেক কনটেন্ট নিয়ে নানারকম ব্যবস্থা নিচ্ছে, আর এ ধরনের অপব্যবহার নিয়ে অফিসিয়াল সতর্কবার্তাও দিয়েছে – মানে এটা কিন্তু কল্পনা নয় আর, বাস্তব ঝুঁকি। যদি ভেতরের কাউন্টিং প্রসেসটা ভালোভাবে প্রটেক্ট না করা হয়, তাহলে একই ধরনের কারচুপি সিস্টেমের ভেতরেও হতে পারে।
৩. ব্যাকএন্ডে (সার্ভার আর AI/OCR সিস্টেমে)
ছবি সার্ভারে পৌঁছে গেলে, AI বা OCR সিস্টেম সেই ছবির সংখ্যা পড়ে ডেটাবেসে ঢুকিয়ে দেয়।
এখানে সমস্যা হতে পারে যদি:
- কেউ ব্যাকএন্ড অ্যাক্সেস পেয়ে স্টোর হওয়া ছবি বদলাতে পারে, বা AI–এর রেজাল্ট এডিট করতে পারে, আর তার কোনও স্ট্রং লগ/ট্রেইল না থাকে।
- AI যে সংখ্যা পড়েছে, তার সঙ্গে ওই বুথের Form 17C আর EVM–এর টোটাল অটো–কমপেয়ার করার কোনও সিস্টেম না থাকে।
অন্যদিকে, ECI আবার সিকিউরিটির জন্যও টেকনোলজি ব্যবহার করছে – বুথে AI মনিটরিং, ওয়েবকাস্টিং, ECINET–এর মতো রিয়েল–টাইম ডেটা সিস্টেম – যেগুলো চাইলে ভালো ভাবে কিন্তু অডিট ট্রেইল বানাতে কাজে লাগানো যায়।
৪. যদি Form 17C আর পার্টির রেকর্ডকে গুরুত্ব না দেওয়া হয়
Form 17C হলো একটা বুথের অফিসিয়াল কাগজ–রেজাল্ট, যা পোলিং এজেন্টরা সাইন করে। এটা আজও আইনি দিক থেকে ফলাফলের বেস ডকুমেন্ট, আর অনেকেই চাইছে এই Form 17C–এর ডেটা দ্রুত আপলোড হোক যাতে সবাই দেখতে পারে।
কিন্ত যদি–
- Form 17C–কে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা না হয়, আর
- পার্টি এজেন্টদের নিজের বুথ–ওয়াইজ নোট না থাকে বা মিসিং থাকে,
তাহলে এডিট করা AI–বেসড সংখ্যা অনেক সময় চ্যালেঞ্জই করা হবে না। ডিজিটাল কারচুপি ঠেকাতে একসাথে একাধিক রেকর্ড থাকা – এটাই কিন্তু সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
*ট্যাকটিক্যালি BJP কী করতে পারে*
এগুলো এখনই, বর্তমান নিয়মের মধ্যেই আছে, তাই দাবি করা যায়।
১. স্পষ্ট করতে হবে – শেষ কথা EVM + Form 17C
- ECI–কে লিখিতভাবে বলতে হবে – EVM–*এর হিসাব আর Form 17C–৮ই আইনের দিক থেকে ফাইনাল রেজাল্ট,* AI–এর ইমেজ রিডিং শুধু ডেটা এন্ট্রির সাহায্য।
- এমন নিয়ম চাইতে হবে – *AI–এ পড়া সংখ্যা আর Form 17C–এর মধ্যে সামান্য পার্থক্য পেলেও, সব দলের এজেন্টদের সামনে সঙ্গে সঙ্গে রিকাউন্ট আর কারেকশন করতে হবে*।
যাতে ট্রান্সপারেন্সি বাড়ে।
২. ইমেজ ক্যাপচারকে সিকিওর করা
BJP, ECI–র কাছ থেকে দাবি করতে পারে যাতে:
(a) *শুধু অফিসিয়াল ECI অ্যাপ* দিয়েই EVM রেজাল্টের ছবি তোলা হয়, যেখানে
- ছবি তোলার সাথে সাথে টাইম–স্ট্যাম্প, জিও–ট্যাগ আর ক্রিপ্টো লক বসে যাবে।
- ছবি সোজা ECI সার্ভারে যাবে,
- আর ফোনের নরমাল গ্যালারিতে সেভ হবে না, যাতে এডিট বা সুইচ করা না যায়।
(b) স্পষ্ট নির্দেশ থাকে – *ছবি তোলার সময় পার্টি এজেন্টদের যেন পরিষ্কারভাবে EVM স্ক্রিন দেখানো হয়*, আর তারা যেন নিজেরা সংখ্যাগুলো লিখে রাখতে পারে।
(c) EVM–এর রেজাল্ট স্ক্রিনের ছোট একটা ভিডিও রেকর্ডিং (কয়েক সেকেন্ডের) নেওয়া হয়, যেন দ্বিতীয় প্রুফ থাকে – যেমন polling station–এ ক্যামেরা আর AI–সারভেইলেন্স ব্যবহার করা হচ্ছে, তেমনই।
৩. পার্টিগুলোর সাথে রিয়েল–টাইম ডেটা শেয়ার
BJP দাবী করতে পারে:
(a) প্রতিটি বুথ আর প্রতিটি রাউন্ডে সব পার্টি যেন পায় –
- EVM রেজাল্টের ছবি (ইনিশিয়াল সংখ্যা)
- AI যে সংখ্যা টা পড়েছে,
- EC–এর সিস্টেমে সেই বুথের Form 17C–এর টোটাল।
(b) এই তথ্য ECINET বা একই ধরনের পোর্টালের মাধ্যমে প্রায় রিয়েল–টাইমে শেয়ার করা হোক, যেমন ECINET–এ ইতিমধ্যেই স্ট্রাকচার্ড কাউন্টিং ডেটা আর টাইম–বাউন্ড রিপোর্টিং হয়।
যদি BJP–র নিজের বুথ–ওয়াইজ হিসাব আর পোর্টালের ডেটা না মেলে, তাহলে সাথে সাথে কাউন্টিং সেন্টারেই আপত্তি তোলা যাবে।
৪. কাউন্টিং হলেও CCTV, ওয়েবকাস্টিং, বডি–ক্যাম
ECI পশ্চিমবঙ্গে বুথে ইতিমধ্যেই AI, ক্যামেরা ব্যবহার করছে ভোটের দিন নজরদারির জন্য।
BJP চাইতে পারে যেন কাউন্টিং হলেও একই ব্যবস্থা থাকে:
কন্টিনিউয়াস ভিডিও রেকর্ডিং –
- EVM খোলা,
- স্ক্রিনে রেজাল্ট দেখানো,
- ছবি তোলা আর ডেটা এন্ট্রি – সব কিছুর।
ফুটেজ নিরাপদে কিছুদিন ধরে রাখা।
অফিসিয়াল কমপ্লেন্ট হলে সেই ফুটেজ দেখার সুযোগ থাকা খুব জরুরি।
এতে কারচুপি করার চেষ্টা করা লোকদের জন্য ঝুঁকি অনেকটাই বাড়বে।
*স্ট্র্যাটেজিকভাবে BJP কী করতে পারে*
These are broader, longer-term steps that shape both public perception and legal safeguards.
১. ফরমাল রিপ্রেজেন্টেশন আর লিগ্যাল প্রস্তুতি
ECI–কে বিস্তারিত রিপ্রেজেন্টেশন দিয়ে বুঝিয়ে বলা –
- ECI নিজেই বাইরে AI–জেনারেটেড ফেক কনটেন্টকে বিপজ্জনক বলে সতর্ক করছে।
- একই ধরনের ঝুঁকি ভেতরের কাউন্টিং প্রক্রিয়াতেও আছে, যদি ছবিগুলো সিকিওর না থাকে আর ক্রস–চেক না হয়।
২. AI সিস্টেম নিয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতার দাবি
BJP টেকনোলজির বিরুদ্ধে নয়, বরং *টেকনোলজির ওপর ভরসা করার মতো স্বচ্ছতার* দাবি তুলতে পারে:
ECI–কে জিজ্ঞেস করা –
- এই AI/OCR সিস্টেম কে বানিয়েছে, কীভাবে টেস্ট করা হয়েছে,
- কত শতাংশ ভুল হতে পারে, কতবার মানুষের দ্বারা যাচাই হয়,
- প্রতি ছবির জন্য কী কী লগ রাখা হয় (টাইম, ডিভাইস, ইউজার, ইমেজ হ্যাশ ইত্যাদি),
- AI রেজাল্ট আর মানুষের পড়া রেজাল্ট না মিললে কী প্রক্রিয়া ফলো হবে।
*স্টেট লিডারশিপের জন্য মূল বার্তা*
- সল বিপদ AI নয়; *বিপদ হলো কে ছবিটা কন্ট্রোল করছে আর সেই ছবি ঠিকভাবে চেক হচ্ছে কি না*।
- BJP–র দাবিটা হওয়া উচিত – *একাধিক প্রুফ–লেয়ার* বাধ্যতামূলক করা: EVM স্ক্রিন, Form 17C, সিকিওর ইমেজ, AI ডেটা, ভিডিও – সব কিছুর ওপর সব দলের সমান অ্যাক্সেস।
- এসব দাবি আর নিজের শক্ত প্যারালাল কাউন্টিং সিস্টেম থাকলে, বড় আকারে রেজাল্ট পাল্টে দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে, কারণ ধরা পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকবে।
Dr. Narayan Banerjee এর ওয়াল থেকে নেওয়া
#📰রাজ্যের আপডেট📰 #👩বিজেপি - BJP🧑 #📢রাজনৈতিক আপডেট🙏 #📰জেলার আপডেট📰 @Bharatiya Janata Party @BJP West Bengal