ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করলেন জ্ঞানেশ কুমার
২০২৬ সালের ভোটকে সব দিক দিয়েই 'ঐতিহাসিক' বলা হচ্ছে। অথচ বিপুল ভোটে বিজেপির বিজয়ের পরেই বাংলার কোনো কোনো জায়গায় ভোট পরবর্তী হিংসা শুরু হয়েছে - যা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা না জ্ঞানেশ কুমার। ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবার এই নিয়ে আরও কড়া বার্তা দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ভোট পরবর্তী হিংসায় উস্কানিদাতা এবং ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেন তিনি। বাংলায় ভোটের ফল বেরনোর পর বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়। এই নিয়েই এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি, কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ডিজি-সহ সমস্ত ডিএম, এসপি এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের হিংসা রোধে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। নিরবচ্ছিন্ন টহল দিতে হবে বলে জানিয়েছেন। জ্ঞানেশ কুমারের নির্দেশ, ভাঙচুরকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হবে। ভোট পরবর্তী হিংসায় উস্কানিদাতারাও ছাড় পাবেন না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার।
বাংলায় ভোটপর্ব নির্বিঘ্নে মিটেছে। কোনও রক্তপাত হয়নি। ফল বেরনোর পরও বাংলায় যাতে কোনও অশান্তি না হয়, তা নিশ্চিত করাই যে কমিশনের উদ্দেশ্য, তা স্পষ্ট করে দিলেন জ্ঞানেশ কুমার।অন্যদিকে বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গিয়েছে তৃণমূল। ফল বেরনোর পর বিভিন্ন জায়গায় হিংসার ঘটনা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপির পতাকা হাতে কোনওরকম হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। বিরোধীদের পার্টি অফিস দখল, ভাঙচুরে জড়িতদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
#political
#প্রথমআলোরবার্তা
#prathamalorbarta
ভোট পরবর্তী হিংসায় সন্দেশখালিতে গুলিবিদ্ধ ৫ জন পুলিশ কর্মী
ভোট পর্ব যতই শান্তিতে মিটুক না কেন ভোট পরবর্তী হিংসা কিন্তু ছড়িয়ে পড়ছে। জ্ঞানেশ কুমার ও বিজেপির পক্ষ থেকে বার বার নিষেধ করার পরেও কেউ কারো কথা শুনছে না। এবার সন্দেসখালিতে হলো খুবই বাড়াবাড়ি। দুই দলের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হলেন ন্যাজাট থানার ওসি। শুধু ওসি নন, আরও দু’জন পুলিশকর্মী এবং দু’জন সিআরপিএফ জওয়ান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, গতকাল রাতে সন্দেশখালির ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি এলাকায় দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পায় তারা। একটি বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হচ্ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই দুষ্কৃতীরা গুলি চালায়। একটি বাড়ির ভিতর থেকে গুলি চালানো হয়। ন্যাজাট থানার ওসি ভরত প্রসূন পুরকায়েতেরে পায়ে গুলি লাগে। এছাড়া একজন মহিলা কনস্টেবল-সহ দুই পুলিশকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। শুধু তাই নয়, সিআরপিএফের দুই জওয়ানেরও গুলি লাগে।
ন্যাজাট থানার ওসি-সহ আহতদের কলকাতা চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের। এদিকে, ঘটনা ঘিরে রাত থেকে এলাকায় থমথমে পরিবেশ এলাকায়। বুধবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, কয়েক রাউন্ড গুলি ও তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ।নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণার সময়ই জানিয়েছিল, ফল ঘোষণার পরও ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে বাংলায় মোতায়েত থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেইমতো কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে রাজ্যে। তার মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভাঙচুর, সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোথাও ভাঙচুর, অন্য দলের পার্টি অফিস দখল বরদাস্ত করা হবে না।
#political
#প্রথমআলোরবার্তা
#prathamalorbarta
দিলীপ ঘোষের এই বিপুল জয়ে উদ্বেলিত হয়ে দিলীপ পত্নী বললেন -'এটাই বিয়ের সেরা রিটার্ন গিফট।’
দিলীপ ঘোষ মানে দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট কথা স্পষ্ট করে বলেন, বুক চিতিয়ে লড়াই করেন। আচমকা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্যত সকলকে চমকে দিয়েছিলেন দাবাং নেতা দিলীপ ঘোষ। তা নিয়ে বিতর্কও হয়েছে। দলের বিরাগভাজনও হয়েছেন। তবে ছাব্বিশে ফের নিজের ক্যারিশ্মার প্রমাণ দিয়ে গিয়েছেন দিলীপ। পুরনো আসন খড়গপুর সদরে ৩০ হাজারের বেশি মার্জিনে জিতেছেন তিনি।
স্বামীর এই জয়ে উচ্ছ্বসিত স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। বললেন, ‘এটাই বিয়ের সেরা রিটার্ন গিফট।’ বাংলায় বিজেপির উত্থানের নেপথ্যে অন্যতম কারিগরদের মধ্যে নিঃসন্দেহে দিলীপ ঘোষ একজন। তাঁর হাত ধরেই ধীরে ধীরে রাজ্যে জমি শক্ত করেছে পদ্মশিবির। পরবর্তীতে নতুন মুখেদের আগমনে খানিকটা হলেও ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। বলা ভালো, তাঁকে কোণঠাসা করা হয়েছিল। চব্বিশে তার ফলে খানিকটা ধাক্কাও খেতে হয়েছিল বিজেপিকে। এসবের মাঝেই আচমকা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন দিলীপ। শোনা যায়, শীর্ষ নেতৃত্ব তা নিয়ে প্রথমদিকে খানিক আপত্তিও করেছিল। কিন্তু দিলীপ কোনওদিনই সেসবের তোয়াক্কা করেননি। পরবর্তীতে দলের সঙ্গে মান-অভিমান কমেছে। ছাব্বিশের বৈতরণী পার করতে দিলীপকে যে লাগবেই, তা ভালোই বুঝেছিল দল। তাই মান ভাঙানোর পাশাপাশি পছন্দের খড়গপুর সদর আসন তাঁকেই দিয়েছে দল।
#political
#প্রথমআলোরবার্তা
#prathamalorbarta
বঙ্গ বিজয়ের পরেই 'বন্দে মাতরম'কে জাতীয় সংগীতের সম্মান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো মোদী সরকার
উত্তরপ্রদেশ বিহার ও বাংলা এই তিন প্রদেশের উপর দিয়েই প্রবাহিত হয়েছে পবিত্র গঙ্গা। আর সেই তিন প্রদেশ এখন বিজেপির দখলে। স্বাভাবিক কারণেই ভীষণ খুশি প্রধানমন্ত্রী। আর সেই কারণেই বঙ্কিমচন্দ্রের 'বন্দে মাতরম' নিয়েও উদ্বেলিত বিজেপি। বন্দে মাতরমকে জাতীয় সংগীত জনগণমন-র সমমর্যাদায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিল নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভা। বন্দে মাতরম গাওয়ার ক্ষেত্রে কোনওরকম অনীহা, অসম্মান করলে হতে পারে আর্থিক জরিমানা। এমনকি তিন বছরের জেলও। ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট অনুযায়ী এতদিন জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সংগীত জনগণমনকে অসম্মান করলে আর্থিক জরিমানা এবং জেলে পাঠানোর আইনি সংস্থান ছিল। এবার এই আইনের সেকশন ৩ সংশোধন করে বন্দে মাতরমকেও সমমর্যাদায় উন্নীত করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। রাষ্ট্রীয় গীত বন্দে মাতরম গাওয়ার ক্ষেত্রে কী কী পালন করা হবে সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা গত জানুয়ারি মাসে জারি করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা গানের ৬টি স্তবকই গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এবার বন্দে মাতরমকে জাতীয় সংগীতের সমমর্যাদায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। বিজেপির বাংলা জয়ের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।বন্দে মাতরমের সার্ধশতবর্ষ দেশজুড়ে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র। এমনকি, সংসদেও বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে অমিত শাহর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক একটি নির্দেশিকাও জারি করে। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়, জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-র মতো এবার থেকে সরকারি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া এবং বাজানো বাধ্যতামূলক করা হল।
#political
#প্রথমআলোরবার্তা
#prathamalorbarta
১৮০ ডিগ্রি ঘুরে কবীর সুমন বললেন -'আমি তৃণমূলপন্থী নই'
এবার শুরু হলো জামা বদলের খেলা। তৃণমূল ও বিজেপি - এই দুই দলের নেতা কর্মীরা জামা পরিবর্তনের মতো দল বদল করেছেন এতদিন। আর এবার শাসনে বিজেপি আসায় রঙ বদলানো শুরু হলো কবীর সুমনকে দিয়ে। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে বাংলায় গৈরিক সূযোর্দয় হতেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে শিল্পী বললেন, “আমি তো তৃণমূলপন্থী নই!” গত দেড় দশকে বঙ্গবাসী যে তৃণমূল আর সুমনকে সমার্থক বলেই জেনে এসেছে, তা বললেও অত্যুক্তি হয় না। কিন্তু এবার রাজ্য রাজনীতির পালাবদলের আবহে কি কবীর সুমন ‘ডিগবাজি’ খেলেন? শিল্পী নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতেই মঙ্গলবার রাত থেকে এহেন প্রশ্নেই সরগরম নেটভুবন। বাংলায় পনেরো বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে ছাব্বিশে বাংলার মসনদে মোদি। ‘পরিবর্তনের ঢেউ’য়ে প্রথমবার রাজ্যে পদ্ম ফুটেছে। বাংলার রাজনীতির অতীত ট্রেন্ড ঘাঁটলে দেখা যায়, পরিবর্তনের নির্বাচনে শাসক শিবির বরাবরই ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যায়। ঠিক যেমনটা এগারো সালে ঘটেছিল। ছাব্বিশে বিধানসভা নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ম্যাজিক ফিগারের গণ্ডি পেরিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বাংলা দখল করেছে বিজেপি।
বঙ্গের এহেন গেরুয়া সুনামির মাঝেই বিস্ফোরক কবীর সুমন! সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শিল্পী জানান, “আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁর আগে আমি কোনও পার্টির সদস্যও ছিলাম না। আমার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই আমি পদত্যাগ করি।” এখানেই শেষ নয়! সংশ্লিষ্ট সাক্ষাৎকারে তৃণমূলের বিধ্বংসী রেজাল্ট নিয়েও নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন কবীর সুমন। তাঁর কথায়, “যেভাবে ভোটটা হল, হঠাৎ সামরিক বাহিনী ঢুকল। ভাবতে পারিনি যে, ট্যাঙ্ক ঢুকবে। তবে জনাদেশ কেন মমতার বিপক্ষে গেল, সেটা বলতে পারব না। কিন্তু আমি মনে করি, একাধিক ভুল হয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেয়নি।"
#political
#প্রথমআলোরবার্তা
#prathamalorbarta
এবার প্রশ্ন - বাংলার ভাবি মুখ্যমন্ত্রী??
কমবেশি আমরা সকলেই উদ্বিগ্ন এবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন। অনেক নাম সামনে এসেছে। তবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন। মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে কে এগিয়ে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে সর্বত্র। এরই মাঝে আগামিকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার রাজ্যে আসছেন রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। পরিষদীয় দলের বৈঠক, মুখ্যমন্ত্রীর নাম নির্ধারনের পর তাঁরা যাবেন রাজ্যপালের কাছে। একুশেই বঙ্গ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল বিজেপি। সেই লক্ষ্যে প্রচারও করেছিল। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। বঙ্গজয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গিয়েছিল পদ্মশিবিরের। কিন্তু ছাব্বিশে তৃণমূলকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়েনি বিজেপি। ফলাফলই তার প্রমাণ। স্বাভাবিকভাবেই বাংলায় সরকার গঠনের তোড়জোর শুরু করেছে বিজেপি। বিজেপি সূত্রে খবর, আগামিকালই বাংলায় আসছেন রাজনাথ সিং। পরিষদীয় দলের বৈঠক করবেন তিনি। শোনা যাচ্ছে, ওই বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম। তারপরই তাঁরা সরকার গঠনের জন্য লোকভবনে যাবেন তাঁরা।
প্রশ্ন একটাই, কে হবে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী? বিজেপির এই বিরাট জয়ে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে অবশ্যই সবচেয়ে এগিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বঙ্গে বিজেপির এই বিরাট জয়ের অন্যতম কারিগর তিনি। রাজ্যে আজ যে ধর্মীয় মেরুকরণ, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা, এসব তৈরির নেপথ্যে তিনি। তাছাড়া তিনি নিজে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও জিতেছেন। হারিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)। বস্তুত তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে সমানে সমানে লড়াই করা যায়, সেটা কর্মীদের বোঝাতেও সক্ষম হয়েছেন এই শুভেন্দুই। তাছাড়া বিরোধী দলনেতা থাকার দরুন দলের বিধায়কদের একটা বড় অংশেরও আস্থা রয়েছে তাঁর উপর। তবে শুভেন্দুর ক্ষেত্রে সমস্যা হল, তিনি আদি বিজেপি নন। জোরগলায় হিন্দুত্বের রাজনীতি করলেও আরএসএসের সঙ্গে তাঁর যোগ নেই। তবে বিজেপি ইদানিং মুখ্যমন্ত্রীর পদে চমক দেওয়া পছন্দ করে।
#political
#প্রথমআলোরবার্তা
#prathamalorbarta
ইনডাস্ট্রিতে বড়ো ভাঙন তৃণমূলের - এবার কোন পথে হাঁটবে টলিপাড়া?
একে একে বড়ো পতন হয়ে গেলো তৃণমূলের শিল্পী ও কলা কুশলিদের। যে বিপুল আবেগ নিয়ে তারা এসেছিলেন, এবার কি সেভাবেই ফিরবেন! জেতা আসন খড়গপুর কেন্দ্র হাতছাড়া হলেও ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে শ্যামপুর কেন্দ্রে পদ্ম ফোটালেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। গোড়ার দিকে তৃণমূল প্রার্থী নদেবাসী জানার থেকে পিছিয়ে থাকলেও পরে ২২ হাজার ২৬০ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। চলতিবারে যাদবপুরের বিজেপি প্রার্থী শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের 'জেতা' নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। তবে ২৬ রাউন্ড ভোটগণনা শেষে তৃণমূল প্রার্থী দেবব্রত মজুমদার ও বামপ্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মতো পোড় খাওয়া দুই রাজনীতিকদের টেক্কা দিয়ে ২৩ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ের পথে শর্বরী মুখোপাধ্যায়।
সোনারপুর দক্ষিণে তৃণমূল-বিজেপি দুই তারকাপ্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ছিল। তবে পাঁচ বছরের বিধায়ক লাভলি মৈত্রকে ৩৫ হাজার ৭৮২ ভোটের মার্জিনে পরাজিত করলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। ২০১৫ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন অভিনেত্রী রূপা। অন্যদিকে ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছিলেন লাভলি। বিরোধীদলের প্রার্থী হিসাবে ছিলেন অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু। সেই সময়ে বিপুল সংখ্যক ভোটে বিজেপির অঞ্জনাকে হারিয়ে জয়ী হন লাভলি। তবে ছাব্বিশের ভোটে দুঁদে নেত্রী রূপাকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হলেন। রুদ্রনীল ঘোষের হাত ধরে শিবপুরে ঘাসফুলের বাগানে উঁকি দিল পদ্ম। তৃণমূল প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায়কে ১৬ হাজারেরও বেশি ভোটের মার্জিনে পরাস্ত করে ভোটের ময়দানে প্রথমবার 'খাতা খুললেন' রুদ্রনীল। সোমবার সকাল থেকেই শিবপুরে পদ্ম-ঝড় উঠেছিল। শেষমেশ বাম থেকে ভায়া তৃণমূল হয়ে বিজেপিতে যাওয়া 'ঘরের ছেলে'কে জিতিয়ে আনন্দে ভাসল শিবপুর।টালিগঞ্জ কেন্দ্রে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়েছেন পাপিয়া অধিকারী। টিকিট পেয়েই বলেছিলেন, 'সব কা সাথ, সব কা প্রয়াস, সব কা বিশ্বাস- মোদিজির এই মূলমন্ত্র নিয়েই ভোটের মাঠে নামব।' দীর্ঘদিন সিনেদুনিয়ায় ব্রাত্য থাকলেও ৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে শেষ হাসি হাসলেন পাপিয়াই।
#political
#প্রথমআলোরবার্তা
#prathamalorbarta
বেশ কিছুটা সংখ্যালঘু ভোট বাম-কংগ্রেসের ঝুলিতে গেছে বলেই তৃণমূলের এই ধরাসায়ী অবস্থা
ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে ভোটের রেজাল্ট নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ভোট কুশলিদের একটা অংশ মনে করছেন সংখ্যালঘুদের একটা বড় অংশ এবার হাত ছেড়েছে মমতার। তারা পুরোনো সাথী বাম-কংগ্রেসেই ফিরে গেছেন। কারণ, সোমবারের বিকেলে রাজ্যের ভোট আকাশে ‘রং দে তু মোহে গেরুয়া’র মধ্যেও যে টুকু নীল-সাদা পেঁজা তুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘাসফুলের উপর, তা স্পষ্ট করছে ওই আকাশ দখলের নির্ণায়ক শক্তি বাম ও কিছুটা কংগ্রেস তাদের পক্ষে সংখ্যালঘু ভোটের বড় অংশকে নিজেদের দিকে টানতে সফল হয়েছে। যে ভোট ছিল একেবারে তৃণমূলের পকেটে। সেই সব পকেটের অনেকটাই খালি হয়েছে এই ভোটে। রাজ্যে প্রায় ৮৫টি আসন রয়েছে যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা ৩৫ শতাংশের বেশি। তার মধ্যে অতখানি না হলেও অনেকটাই ভোট রয়েছে নন্দীগ্রামেও। সেখানেও গতবারের চেয়ে বেশি মার্জিনে জিতেছেন শুভেন্দু অধিকারী, কারণ আইএসএফ এবং সিপিআইয়ের ভোট কাটা, হিন্দুভোটের আরও বেশি এককাট্টা হওয়া।
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনগুলির দিকে তাকালে বোঝা যাচ্ছে সেগুলিতে নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠেছে বামেরা, কোথাও কংগ্রেস। কোনও ক্ষেত্রে এবারেও ভাঙড়ে জয়ী নওশাদ সিদ্দিকির আইএসএফ। তবে সবচেয়ে চমক রয়েছে মুর্শিদাবাদে। সেখানে ২২টি আসনের মধ্যে ১৭টিই মুসলিম-প্রধান। ডোমকলে সিপিএমের প্রার্থী, সংখ্যালঘু মুখ মোস্তাফিজুর রহমান জয়ের বড় কারণও সেই অঙ্কেই। সেখানেই কংগ্রেস পেয়েছে প্রায় ২৪ হাজার ভোট। ফরাক্কার কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখের নামই বাদ গিয়েছিল এসআইআরে। সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে তাঁর নাম ওঠে তালিকায়, তাই তাঁর জয়ও একটা চমক। রানিনগরের কংগ্রেস প্রার্থী জুলফিকার আলিও যে বিধানসভায় পা রাখবেন, সেটারও বড় কারণ সেখানকার সংখ্যালঘু ভোট তৃণমূলের পকেট থেকে সরে গিয়ে হাত ধরা।
#political
#প্রথমআলোরবার্তা
#prathamalorbarta
হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে এখন অবাধ যাতায়াত - তুলে নেওয়া হয়েছে সমস্ত গার্ডওয়াল
বিষয়টা এতো দ্রুত হবে, তা কেউই প্রত্যাশা করেন নি। কিন্তু এখন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন আম-আদমি, মুখ্যমন্ত্রী নন। ফলে তার নিরাপত্তা ধীরে ধীরে সব উঠে যাচ্ছে। দুই শতাধিক আসন পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে জয়ী হয়েছে বিজেপি। এমনকী মমতার ঘরের কেন্দ্র ভবানীপুরেও ১৬ হাজার ভোটে হারতে হয়েছে তাঁকে। মমতার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তারই মধ্যে তাঁর বাড়ির সামনে থেকে সরল নিরাপত্তা।
৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটেই বরাবর থেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটাই তাঁর পৈতৃক বাড়ি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত, তাঁর সেই বাড়িতে খুব বেশি বদল হয়নি। তবে বদলে গিয়েছিল হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের পরিবেশ। মমতা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর বাড়ির সামনের রাস্তাটা কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মেইন রোড থেকে ঢুকতে গেলে গার্ডরেল পেরতে হত। জানা যাচ্ছে নবান্নের নির্দেশে সমস্ত গার্ডরেল তুলে নিয়েছে পুলিশ। তবে কিছু পুলিশ এখনো পাহারায় আছে। একেই বলে ভাগ্যের পরিহাস।
#political
#প্রথমআলোরবার্তা
#prathamalorbarta
হেরে যাওয়ার পরে কলতান বললেন 'উই ওয়ান্ট জাস্টস'
হেরে গেলেও লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরছেন না বলেই জানালেন কলতান। তাঁর কথায়, “গতকালের মতোই আজও আমরা সুবিচার চাই।” বিজেপির মসনদে আসা আসলে বাংলার জন্য আরও অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়া বলেও মন্তব্য করলেন তিনি। বামেদের পরিচিত মুখ কলতান দাশগুপ্ত। অভয়া আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চর্চায় উঠে এসেছিলেন তিনি। জেলেও গিয়েছেন। ছাব্বিশে পানিহাটি আসনে সেই কলতানেই আস্থা রেখেছিল সিপিএম। যা মোটেই ভালোভাবে নেননি অভয়ার মা। পরবর্তী তিনি ভোটে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন। মেয়ের আবেগে শান দিয়ে পানিহাটি আসন জিতে নিয়েছেন অভয়ার মা অর্থাৎ রত্না দেবনাথ। কাকিমার বিরুদ্ধে ক্ষোভ না থাকলেও বিজেপির এই জয়কে বাংলার আরও অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়ার সূচনা বলেই মনে করছেন কলতান।
তিনি বলেন, “মানুষের রায় আমরা মাথা পেতে নিয়েছি। আমরা গতকালও অভয়ার জন্য পথে ছিলাম। সুবিচার আজও মেলেনি। ফলে সেই দাবিতে আমরা আবারও পথে নামব। উই ওয়েন্ট জাস্টিস।” বিজেপি বহুবার বহু ফাইল খোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তৃণমূলকে। এবার সেই ফাইল খুলবে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানালেন কলতান। অন্যথায় হুঁশিয়ারি দিলেন পথে নামার। বুঝিয়ে দিলেন, জয় না এলেও মানুষের পাশে তিনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন।
#political
#প্রথমআলোরবার্তা
#prathamalorbarta













