https://www.facebook.com/share/r/1AvAYx71Dk/ #🌞সুপ্রভাত☀️
#🌞সুপ্রভাত☀️
ভারতের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় মহিলাদের জন্য পথটা কখনও সহজ ছিল না। আইএএসে যোগ দেওয়ার পর প্রথম দিন থেকেই আপত্তি, সংশয় আর বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছিল আন্না রাজাম মালহোত্রাকে। কিন্তু নিজের যোগ্যতা, সাহস এবং দৃঢ়তার জোরে তিনি শুধু দেশের প্রথম মহিলা আইএএস কর্মকর্তা হননি, বদলে দিয়েছিলেন প্রশাসনে মহিলাদের নিয়ে প্রচলিত ধারণাও।
----
ভারতের প্রশাসনিক ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে, যাঁদের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং একটি গোটা ব্যবস্থার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। সেই তালিকায় অন্যতম নাম আন্না রাজাম মালহোত্রা। স্বাধীনতার পর গঠিত ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবায় তিনিই ছিলেন প্রথম মহিলা আইএএস কর্মকর্তা। এমন এক সময়ে তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেন, যখন দেশের প্রশাসনিক মহলে প্রচলিত ধারণা ছিল, মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব, আইনশৃঙ্খলা সামলানো কিংবা জেলা প্রশাসন পরিচালনার মতো কাজ মহিলাদের পক্ষে উপযুক্ত নয়। কিন্তু সেই ধারণাকেই বাস্তবে ভুল প্রমাণ করেছিলেন আন্না রাজাম মালহোত্রা।
১৯২৭ সালের ১৭ জুলাই কেরলের পাথানামথিট্টা জেলার নিরানমে আন্না রাজাম জর্জ নামে তাঁর জন্ম। তিনি মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রথমদিকে তিনি মাদ্রাজের অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলের দপ্তরে আপার ডিভিশন ক্লার্ক হিসেবে কাজ করছিলেন। পরে এক আত্মীয়ের উৎসাহে ১৯৫০ সালের সর্বভারতীয় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নেন। সেই সময় পরীক্ষার আবেদনপত্রের মূল্য ছিল ১৪০ টাকা, যা তাঁর পরিবারের কাছে বড় অঙ্কের অর্থ ছিল। শেষ পর্যন্ত এক পারিবারিক বন্ধুর আর্থিক সহায়তায় আবেদন করা সম্ভব হয়। পরীক্ষায় সাফল্যের পর ১৯৫১ ব্যাচের আইএএস কর্মকর্তা হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম মহিলা আইএএস অফিসারের স্বীকৃতি পান।
তাঁর পথ অবশ্য মোটেই সহজ ছিল না। ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাক্ষাৎকার বোর্ডে উপস্থিত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সদস্য তাঁকে ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবার পরিবর্তে ভারতীয় বিদেশ পরিষেবা বা অন্য কোনো কেন্দ্রীয় পরিষেবা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, জেলা প্রশাসনের মতো কঠিন দায়িত্ব মহিলাদের জন্য উপযুক্ত নয়। কিন্তু আন্না স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি যোগ্যতার ভিত্তিতে আইএএসের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাই অন্য কোনো পরিষেবায় যেতে রাজি নন। তাঁর এই দৃঢ় অবস্থানের ফলেই তিনি আইএএসে যোগদানের সুযোগ ধরে রাখতে সক্ষম হন।
প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পরও বাধা থামেনি। তাঁকে তৎকালীন মাদ্রাজ রাজ্যের সচিবালয়ে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কারণ, সে সময়ের মুখ্যমন্ত্রী সি. রাজাগোপালাচারীর ধারণা ছিল, একজন মহিলা কর্মকর্তার পক্ষে সাব-কালেক্টর হিসেবে মাঠে কাজ করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বা দুর্গম অঞ্চলে পরিদর্শন করা সম্ভব হবে না। আন্না রাজাম মালহোত্রা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তিনি জানান, পুরুষ কর্মকর্তাদের মতো তিনিও ঘোড়ায় চড়া, রাইফেল ও রিভলভার চালানো, ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ এবং প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণ করেছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর যুক্তিই গ্রহণ করা হয় এবং তাঁকে তিরুপত্তুরের সাব-কালেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে তিনি ভারতের প্রথম মহিলা সাব-কালেক্টর হিসেবেও ইতিহাসে স্থান করে নেন।
মাঠপর্যায়ে কাজের সময় তিনি শুধু দপ্তরের কাজেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা, খরা ব্যবস্থাপনা, গ্রামীণ প্রশাসন, রাজস্ব সংগ্রহ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি সামলানোর মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। হোসুর অঞ্চলে একবার বন্য হাতির পাল জনবসতিতে ঢুকে পড়লে তিনি নিজে উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজে নেতৃত্ব দেন। এই ঘটনাই প্রশাসনিক মহলে তাঁর দক্ষতা ও সাহসিকতার পরিচয় আরও স্পষ্ট করে তোলে।
কর্মজীবনে তিনি সাতজন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এবং জওহরলাল নেহরু, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীসহ একাধিক প্রধানমন্ত্রীর আমলে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালের এশিয়ান গেমস আয়োজনের প্রশাসনিক প্রস্তুতিতেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। দিল্লির অবকাঠামো উন্নয়ন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং বৃহৎ প্রশাসনিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম বড় সাফল্য ছিল নাভা শেভায় জওহরলাল নেহরু বন্দর গড়ে তোলার কাজে নেতৃত্ব দেওয়া। সে সময় মুম্বই বন্দরে পণ্য পরিবহনের চাপ দ্রুত বেড়ে যাচ্ছিল। নতুন কনটেইনার বন্দর নির্মাণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার, মহারাষ্ট্র সরকার, রেল, শুল্ক বিভাগ এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিস্তৃত সমন্বয় প্রয়োজন ছিল। সেই দায়িত্ব সফলভাবে সামলান আন্না রাজাম মালহোত্রা। পরে এই বন্দরই ভারতের বৃহত্তম কনটেইনার বন্দর হিসেবে গড়ে ওঠে এবং দেশের প্রথম সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক প্রধান বন্দরগুলির অন্যতম হয়ে ওঠে।
তিনি পরবর্তী সময়ে ভারত সরকারের সচিব পদেও অধিষ্ঠিত হন এবং এই পদে পৌঁছানো প্রথম মহিলা আইএএস কর্মকর্তা হিসেবে আরেকটি নতুন ইতিহাস গড়েন। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৯ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করে। তাঁর স্বামী আর. এন. মালহোত্রাও আইএএস কর্মকর্তা ছিলেন এবং পরে ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৯১ বছর বয়সে আন্না রাজাম মালহোত্রার জীবনাবসান হয়। তবে তাঁর কর্মজীবনের প্রভাব আজও ভারতের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্পষ্ট। বর্তমানে আইএএসে হাজার হাজার মহিলা কর্মকর্তা বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের জন্য পথ তৈরির প্রথম বড় পদক্ষেপটি এসেছিল ১৯৫১ সালে, যখন আন্না রাজাম মালহোত্রা প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছিলেন যে প্রশাসনে দক্ষতার মাপকাঠি লিঙ্গ নয়, যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা।
#AnnaRajamMalhotra #IAS #IndianHistory #WomenEmpowerment #CivilServices #InspiringIndia
#🌞সুপ্রভাত☀️ #🎂 হ্যাপি বার্থডে
শুভ জন্মদিন টলিউডের খ্যাতনামা অভিনেতা ও পরিচালক "পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়"🎂🌻
🥀🌻🥀🌹🥀🎂🥀🏵️🥀🌼🥀🍁🥀🌷🥀
পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (জন্ম: ২৭ জুন ১৯৮০) একজন ভারতীয় অভিনেতা এবং পরিচালক। তিনি বাংলা টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু করেন । তিনি সন্দীপ রায়ের নির্দেশনায় ফেলুদার কাল্পনিক চরিত্র তোপসে চরিত্রে অভিনয় করেছেন । তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ভাল থেকো (২০০৩), বাইশে শ্রাবণ (২০১১), সোল্ট (২০১৪), কাদম্বরী (২০১৬), অনুকূল (২০১৭), পরী (২০১৮), রামপ্রসাদ কি তেহরভি (২০১৯), দ্বিতীয় পুরুষ (২০২০), বুলবুল (২০২০) এবং ডাক্তার বক্সী (২০২৩)। তিনি বিদ্যা বালান এবং নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকীর সাথে কাহানি (২০১২) চলচ্চিত্রে মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক করেন ।
পরমব্রত অনেক টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিফিল্ম, শর্ট ফিল্ম এবং চলচ্চিত্রের অভিনয় করেছেন। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং রুদ্রনীল ঘোষ অভিনীত তাঁর পরিচালনায় প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হল জিও কাকা (২০১১) । তার দ্বিতীয় পরিচালনার ছিল হাওয়া বদল (২০১৩)। কাহানির সাফল্যের সাত মাস পরে, তিনি জেফরি ডি. ব্রাউন দ্বারা চুক্তিবদ্ধ হন, যিনি ১৯৮৬ সালে তার প্রথম শর্ট ফিল্ম সোল্ট -এর জন্য একাডেমি পুরস্কার জিতেছিলেন।
#🌞সুপ্রভাত☀️ #🎂 হ্যাপি বার্থডে
শ্রদ্ধায় ও স্মরণে "রাহুল দেব বর্মন" -শুভ জন্মবার্ষিকীতে আন্তরিক শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানাই।
🙏🌻🙏🌷🙏🎂🙏🌻🙏🌷🙏🌹🙏🌻🙏
🥀🌹রাহুল দেব বর্মণ (২৭ জুন ১৯৩৯ - ৪ জানুয়ারি ১৯৯৪) ছিলেন ভারতের একজন প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক এবং গায়ক। তিনি পঞ্চম বা পঞ্চম দা এবং আর. ডি. বর্মণ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তিনি গায়ক কিশোর কুমার এবং গায়িকা লতা মঙ্গেশকর এবং আশা ভোঁসলেকে দিয়ে অনেক জনপ্রিয় গান বানিয়েছিলেন। তিনি এখনও পর্যন্ত ভারতীয় সিনেমার সঙ্গীত জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক রূপে বিবেচিত হন। তিনি ছিলেন অন্যান্য সুরকারদের অনুপ্রেরণার মতো।ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত রাহুল মোট ২৯২টি হিন্দি চলচ্চিত্রের সঙ্গীত এবং ৩১টি বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন।তার অনেক বাংলা গানের এ্যালবামও রয়েছে যেগুলো তিনি পুজার সময় বের করতেন।তিনি তিন বার (১৯৮৩, ১৯৮৪ এবং ১৯৯৫) ফিল্মফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন।










