Dhoni
594 views • 13 days ago
#বরাহ অবতার #🙏ভগবান বিষ্ণু🙏 #🙏বিষ্ণু দেব🙏
বরাহ অবতার ও হিরণ্যাক্ষ : - অধর্মের বিরুদ্ধে ধর্মের মহাসংগ্রাম
হিন্দু পুরাণে ভগবান বিষ্ণুর দশাবতারের মধ্যে বরাহ অবতার এক অনন্য তাৎপর্য বহন করে । এই অবতার কেবল একটি দৈত্যবধের কাহিনি নয়—এটি সৃষ্টিজগতের ভারসাম্য রক্ষা, অহংকারের পতন এবং ধর্মের চিরন্তন বিজয়ের প্রতীক । সত্যযুগের আদিপর্বে সংঘটিত বরাহ অবতার ও দৈত্যরাজ হিরণ্যাক্ষের যুদ্ধ পুরাণসাহিত্যের অন্যতম নাটকীয় ও অর্থবহ অধ্যায় ।
১. হিরণ্যাক্ষের উত্থান : - তপস্যা থেকে ত্রিলোক দম্ভ
দিতি ও মহর্ষি কশ্যপের পুত্র হিরণ্যাক্ষ জন্মগতভাবেই ছিল প্রবল শক্তিশালী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী । ক্ষমতার লোভে সে কঠোর তপস্যায় ব্রহ্মাকে তুষ্ট করে । দীর্ঘকাল তপস্যার পর ব্রহ্মা তার সামনে আবির্ভূত হলে হিরণ্যাক্ষ এমন এক বর প্রার্থনা করে, যার ফলে সে নিজেকে প্রায় অমর বলে ভাবতে শুরু করে ।
হিরণ্যাক্ষের প্রাপ্ত বরসমূহ * **দেবতা ও অলৌকিক সত্তার হাত থেকে অমরত্ব**: দেব, দানব, যক্ষ, গন্ধর্ব, কিন্নর—কোনো শক্তিধর সত্তাই যেন তাকে হত্যা করতে না পারে ।
* **পশু ও জীবজগতের সীমাবদ্ধতা**: সে বহু পশু ও জীবের নাম উল্লেখ করে সুরক্ষা চেয়েছিল, কিন্তু অবহেলার কারণে ‘শূকর’ বা বরাহের নাম বাদ পড়ে যায় ।
* **অপরিসীম বল ও যুদ্ধদক্ষতা**: ব্রহ্মা তাকে অতুলনীয় শারীরিক শক্তি ও অদম্য যুদ্ধকৌশল দান করেন ।
এই বর লাভের পর হিরণ্যাক্ষের মধ্যে অহংকার চরমে ওঠে । সে দেবতাদের পরাজিত করে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে এবং ত্রিলোকের একচ্ছত্র শাসক হওয়ার স্বপ্নে মত্ত হয়ে ওঠে ।
২. পৃথিবী অপহরণ : - সৃষ্টির বিরুদ্ধে আসুরিক বিদ্রোহ
ক্ষমতার উন্মাদনায় অন্ধ হয়ে হিরণ্যাক্ষ এক ভয়াবহ কাজ করে । সে ধরিত্রী দেবীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে মহাজাগতিক গভীর সমুদ্র—গর্ভোদক সাগরের অতলে নিক্ষেপ করে । এর ফলে পৃথিবী অদৃশ্য হয়ে যায় এবং সমগ্র সৃষ্টিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় ।
ঋষিদের যজ্ঞ ব্যাহত হয়, দেবতারা দিশেহারা হয়ে পড়েন এবং ধর্মের ভিত্তি টলমল করতে থাকে । তখন সৃষ্টির রক্ষাকর্তা ব্রহ্মা ভগবান বিষ্ণুর শরণ নেন ।
৩. বরাহ অবতারের আবির্ভাব : - ক্ষুদ্র থেকে অসীম
ব্রহ্মার আহ্বানে এক অলৌকিক ঘটনা ঘটে । তাঁর নাসিকা থেকে একটি অতি ক্ষুদ্র শূকররূপ আবির্ভূত হয়, যা মুহূর্তের মধ্যেই আকাশস্পর্শী বিশাল রূপ ধারণ করে । এটাই ছিল ভগবান বিষ্ণুর **বরাহ অবতার** ।
বরাহ দেব তাঁর ভয়ংকর গর্জনে দিকবিদিক প্রকম্পিত করে মহাসমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন পৃথিবী উদ্ধারের সংকল্পে ।
৪. মুখোমুখি সংঘর্ষ : - দৈত্যের দম্ভ বনাম ঈশ্বরের সংকল্প বরাহ দেব যখন তাঁর বিশাল দাঁতের অগ্রভাগে পৃথিবীকে তুলে ধরছেন, তখন হিরণ্যাক্ষ সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁকে বাধা দেয় । অহংকারে অন্ধ হয়ে সে ঈশ্বরকেও তুচ্ছ করে ব্যঙ্গ করে বলে—
> “হে বন্য পশু ! এই পৃথিবী আমার অধিকার । তুই কে, একে নিয়ে যাবি ?” এই ঔদ্ধত্যের পরই শুরু হয় মহাপ্রলয়সদৃশ যুদ্ধ ।
৫. ভয়ংকর যুদ্ধের বিবরণ এই যুদ্ধ ছিল কেবল অস্ত্রের সংঘর্ষ নয়, বরং ধর্ম ও অধর্মের মুখোমুখি সংঘাত ।
⚔️ গদাযুদ্ধ হিরণ্যাক্ষ তার সুবিশাল গদা দিয়ে বরাহ দেবকে আক্রমণ করে । প্রতিআঘাতে বরাহ দেবও সমান শক্তিতে গদা চালান । দীর্ঘ সংঘর্ষের পর ভগবানের এক প্রবল আঘাতে হিরণ্যাক্ষের গদা ভেঙে চূর্ণ হয়ে যায় ।
🌀 মায়া ও অস্ত্রপ্রয়োগ গদা হারিয়ে হিরণ্যাক্ষ নানা বিভ্রম, মায়াবী অস্ত্র ও ত্রিশূল নিক্ষেপ করে । কিন্তু ভগবানের দিব্য তেজে সেই সমস্ত মায়া বিলীন হয়ে যায় ।
🩸 চূড়ান্ত মুহূর্থ অবশেষে বরাহ দেব এক প্রচণ্ড চপেটাঘাতে হিরণ্যাক্ষের প্রাণনাশ করেন । সেই এক আঘাতেই অসুররাজ ভূমিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তার অহংকারের অবসান ঘটে ।
এই যুদ্ধ বহু কাল ধরে চলেছিল বলে পুরাণে বর্ণিত আছে, এবং দেবতারা আকাশ থেকে বিস্ময়ে এই অলৌকিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছিলেন ।
৬. পৃথিবীর পুনঃপ্রতিষ্ঠা হিরণ্যাক্ষ বধের পর বরাহ অবতার অত্যন্ত স্নেহ ও যত্নের সঙ্গে পৃথিবীকে সমুদ্রগর্ভ থেকে তুলে এনে পূর্বের কক্ষপথে স্থাপন করেন । ধরিত্রী দেবী ভগবানকে কৃতজ্ঞতায় স্তব করেন এবং সৃষ্টিতে আবার শান্তি ফিরে আসে ।
৭. এই কাহিনির অন্তর্নিহিত শিক্ষা
১. ধর্মের অবশ্যম্ভাবী বিজয় অধর্ম যতই শক্তিশালী হোক, তার পতন অনিবার্য। সত্য ও ন্যায় চিরকাল বিজয়ী ।
২. অহংকার সর্বনাশের পথ হিরণ্যাক্ষের পতন প্রমাণ করে—অহংকার মানুষকে অন্ধ করে এবং ধ্বংস ডেকে আনে ।
৩. ধৈর্য ও কর্তব্যবোধ ভগবান দীর্ঘ যুদ্ধেও ধৈর্য হারাননি । আমাদের জীবনেও কর্তব্যপথে অবিচল থাকা জরুরি ।
৪. প্রকৃতি ও পৃথিবী রক্ষার বার্তা বরাহ অবতার পৃথিবী রক্ষার প্রতীক । এটি পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেয় ।
৫. শরণাগত রক্ষা যখনই ধর্ম বিপন্ন হয় বা নিষ্পাপরা বিপদে পড়ে, ঈশ্বর কোনো না কোনো রূপে আবির্ভূত হন ।
উপসংহার
বরাহ অবতার ও হিরণ্যাক্ষের কাহিনি একটি পৌরাণিক যুদ্ধের বর্ণনা হলেও এর বার্তা চিরকালীন । এটি আমাদের শেখায়—শক্তি নয়, ধর্মই শেষ কথা; অহংকার নয়, বিনয়ই মুক্তির পথ; এবং পৃথিবী রক্ষা করা শুধু ঐশ্বরিক দায়িত্ব নয়, মানবিক কর্তব্যও বটে ।
আপনি চাইলে আমি এটিকে **প্রবন্ধ, ধর্মীয় বক্তৃতা, গল্পরূপ বা শিশুদের উপযোগী সংস্করণে**ও রূপান্তর করে দিতে পারি ।
15 likes
7 shares