অনুসরণ করুন
Uttam Purkait
@4718314853
10
পোস্ট
6
ফলোয়ার্স
Uttam Purkait
441 জন দেখলো
3 ঘন্টা আগে
সুযোগটা পেয়ে যায় সাগর। বাড়ির মালকিনের অবর্তমানে কাজের মেয়েটাকে কোনোরকমে জানিয়ে বেরিয়ে পড়ে। দু’পা এগিয়ে টের পায় বুকের যন্ত্রণা। এই কদিনে এখানকার কত জনজাতির মানুষের সঙ্গে আলাপ জমিয়েছে সে। দু-একজন ছাড়া বাংলাটা কেউ সেভাবে বোঝে না, অথচ সে বুঝতে চেয়েছে নেপালি, ভুটানি। এমনকি শিখতেও চেয়েছে। এগুলো কি কাছে আসা নয়? এই পাহাড়, নদী, অর্কিড, মনাস্ট্রির দেশকে সে কদিন তন্নতন্ন করে খুঁজেছে। এটা কি ভালোবাসা নয়? কার কাছে অস্বীকার করবে? এত স্বার্থপর বা সৌজন্যবোধহীন সে আগে ছিল না। কিন্তু এখন সে বিপর্যস্ত। তাই ফিরে যাওয়ার কথা ভাবতে হলো। ডুয়ার্সের বাংলোয় আর একবার আসতে হলো তাকে। শুভঙ্করবাবুকে দেওয়া কথা সে ফেরাতে চায়। অথচ কথা রাখতে পারলেই ভালো লাগত। কিন্তু নিরুপায়। কখনো কল্পনা করতে পারেনি অনন্যার মতো বিত্তবান ঘরের একটি মেয়ে তার প্রতি আসক্ত হবে। একটা আবেগসর্বস্ব দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ভালোবাসা শব্দটার সঙ্গে আর খেলতে চায় না সাগর। এই ভয়ংকর সময়ে কারও ভালোবাসা খেলনা নয়। *********************************************** ভাসান রাত ও নাছোড়বান্দা প্রেম (সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রেম বিষয়ক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস) উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র সাগর। নামের মতো তার জীবনও উথাল-পাতাল। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বছর-দুই পরে ওপার বাংলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার শিকার হয়ে মা মারা গেলে খুব ছোট্ট বেলায় বাবা-দাদু-ঠাম্মার হাত ধরে পালিয়ে এসেছিল এপার বাংলায়। চোরাই পথে বসবাসের বন্দোবস্ত হলেও এদেশকে সেভাবে ভালোবাসতে পারেনি। বাঙাল বাঙাল কটুক্তি সারাটা কৈশোরে, যৌবনে। এইভাবে তার শিকড়হীন বেড়ে ওঠা, বেঁচে থাকা। বাবা মারা যাওয়ার পর, দাদু নিখোঁজ হওয়ার পরে সৎ মায়ের সঙ্গে সেও ধরেছিল সংসারের হাল। উপার্জনের জন্য পড়াশোনা আর টিউশানির পাশাপাশি রপ্ত করেছিল গাড়ির ড্রাইভিং ও ম্যাকানিক্যাল কাজ। যন্ত্রণা ভোলার জন্য প্রিয় বাঁশি ছিল সঙ্গী। মননে বামপন্থী ছেলেটি কলেজ জীবনে রাজনীতির চক্করে পড়া থেকে স্কুল জীবনে যাকে মনে মনে ভালোবেসেছিল তার কাছ থেকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ নিয়ে কলেজ ছাড়ে একসময়। অসম্পূর্ণ জীবন নিয়ে নিজেকে সে ভালোবাসতে পারেনি। দেশ, সমাজ, কিংবা ভালোবাসার মানুষদের কাছে নিজেকে উদ্বাস্তু মনে হতো তার। মায়ানমার থেকে ভেসে আসা রোহিঙ্গাদের মতো যেন ভেসে চলত তার জীবন। তবু সেই জীবনে এসেছিল আরও একজন। প্রথমে তার থেকে জুটেছিল অপমান, পরে জবরদস্তি ভালোবাসা। তার একপাক্ষিক ভালোবাসায় ভীত হয়ে তার গাড়ির ড্রাইভিং ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে পালায় সাগর। কিন্তু অনন্যা তাকে ছাড়ে না। চলে আসে তার বাড়িতে। তার ক্যান্সার আক্রান্ত মাকে নিয়ে তার সঙ্গে যায় মুম্বাই। বিব্রত সময়ে নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে যখন সে বিপর্যস্ত, ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী হওয়ার আশংকায় ভীত, সেই মেয়ে পাশে দাঁড়ায়। এদেশে না হলে অন্য দেশে সে গড়তে রাজি ভালোবাসার বাঁসা। ধনী চা-ব্যাবসায়ী বাবার নিরাপদ আশ্রয় বা প্রিয় কালিম্পংকে তুচ্ছ করে সহজে সে পা ফেলে সুন্দরবনের অজ গাঁয়ে। খুঁজে ফেরে নিজের হৃদয়। যে হৃদয়ে মেঘের মতো ভাসে এক আদ্যোপান্ত সৎ ও অসহায় ছেলের ভালোবাসা। *********************************************** দাঙ্গা, চরিত্রহীন রাজনীতি, জাতি-ধর্মকেন্দ্রিক মধ্যযুগীয় শ্লোগান, ভাষা বিদ্বেষ, দেশ থেকে উচ্ছেদ ষড়যন্ত্র। এই সময়ের দলিল এই উপন্যাসের পরতে পরতে ভয়ংকর খাদ থেকে উত্তরণের লড়াই। বিভেদের এই সময়ে ভালোবাসার উপন্যাস। ভাসান রাত ও নাছোড়বান্দা প্রেম লেখক : উত্তমকুমার পুরকাইত প্রচ্ছদ : ইন্দ্রিয় চক্রবর্তী প্রকাশক : মাথামোটার দপ্তর মুদ্রিত মূল্য ৩৮৯/- কলকাতা বইমেলায় স্টল ৬৭০। ৯ নম্বর গেটের কাছে। #কলকাতা বইমেলায় স্টল ৬৭০ #📚ভালোবাসার গল্প💑
Uttam Purkait
534 জন দেখলো
3 ঘন্টা আগে
সুযোগটা পেয়ে যায় সাগর। বাড়ির মালকিনের অবর্তমানে কাজের মেয়েটাকে কোনোরকমে জানিয়ে বেরিয়ে পড়ে। দু’পা এগিয়ে টের পায় বুকের যন্ত্রণা। এই কদিনে এখানকার কত জনজাতির মানুষের সঙ্গে আলাপ জমিয়েছে সে। দু-একজন ছাড়া বাংলাটা কেউ সেভাবে বোঝে না, অথচ সে বুঝতে চেয়েছে নেপালি, ভুটানি। এমনকি শিখতেও চেয়েছে। এগুলো কি কাছে আসা নয়? এই পাহাড়, নদী, অর্কিড, মনাস্ট্রির দেশকে সে কদিন তন্নতন্ন করে খুঁজেছে। এটা কি ভালোবাসা নয়? কার কাছে অস্বীকার করবে? এত স্বার্থপর বা সৌজন্যবোধহীন সে আগে ছিল না। কিন্তু এখন সে বিপর্যস্ত। তাই ফিরে যাওয়ার কথা ভাবতে হলো। ডুয়ার্সের বাংলোয় আর একবার আসতে হলো তাকে। শুভঙ্করবাবুকে দেওয়া কথা সে ফেরাতে চায়। অথচ কথা রাখতে পারলেই ভালো লাগত। কিন্তু নিরুপায়। কখনো কল্পনা করতে পারেনি অনন্যার মতো বিত্তবান ঘরের একটি মেয়ে তার প্রতি আসক্ত হবে। একটা আবেগসর্বস্ব দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ভালোবাসা শব্দটার সঙ্গে আর খেলতে চায় না সাগর। এই ভয়ংকর সময়ে কারও ভালোবাসা খেলনা নয়। *********************************************** ভাসান রাত ও নাছোড়বান্দা প্রেম (সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রেম বিষয়ক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস) উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র সাগর। নামের মতো তার জীবনও উথাল-পাতাল। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বছর-দুই পরে ওপার বাংলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার শিকার হয়ে মা মারা গেলে খুব ছোট্ট বেলায় বাবা-দাদু-ঠাম্মার হাত ধরে পালিয়ে এসেছিল এপার বাংলায়। চোরাই পথে বসবাসের বন্দোবস্ত হলেও এদেশকে সেভাবে ভালোবাসতে পারেনি। বাঙাল বাঙাল কটুক্তি সারাটা কৈশোরে, যৌবনে। এইভাবে তার শিকড়হীন বেড়ে ওঠা, বেঁচে থাকা। বাবা মারা যাওয়ার পর, দাদু নিখোঁজ হওয়ার পরে সৎ মায়ের সঙ্গে সেও ধরেছিল সংসারের হাল। উপার্জনের জন্য পড়াশোনা আর টিউশানির পাশাপাশি রপ্ত করেছিল গাড়ির ড্রাইভিং ও ম্যাকানিক্যাল কাজ। যন্ত্রণা ভোলার জন্য প্রিয় বাঁশি ছিল সঙ্গী। মননে বামপন্থী ছেলেটি কলেজ জীবনে রাজনীতির চক্করে পড়া থেকে স্কুল জীবনে যাকে মনে মনে ভালোবেসেছিল তার কাছ থেকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ নিয়ে কলেজ ছাড়ে একসময়। অসম্পূর্ণ জীবন নিয়ে নিজেকে সে ভালোবাসতে পারেনি। দেশ, সমাজ, কিংবা ভালোবাসার মানুষদের কাছে নিজেকে উদ্বাস্তু মনে হতো তার। মায়ানমার থেকে ভেসে আসা রোহিঙ্গাদের মতো যেন ভেসে চলত তার জীবন। তবু সেই জীবনে এসেছিল আরও একজন। প্রথমে তার থেকে জুটেছিল অপমান, পরে জবরদস্তি ভালোবাসা। তার একপাক্ষিক ভালোবাসায় ভীত হয়ে তার গাড়ির ড্রাইভিং ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে পালায় সাগর। কিন্তু অনন্যা তাকে ছাড়ে না। চলে আসে তার বাড়িতে। তার ক্যান্সার আক্রান্ত মাকে নিয়ে তার সঙ্গে যায় মুম্বাই। বিব্রত সময়ে নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে যখন সে বিপর্যস্ত, ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী হওয়ার আশংকায় ভীত, সেই মেয়ে পাশে দাঁড়ায়। এদেশে না হলে অন্য দেশে সে গড়তে রাজি ভালোবাসার বাঁসা। ধনী চা-ব্যাবসায়ী বাবার নিরাপদ আশ্রয় বা প্রিয় কালিম্পংকে তুচ্ছ করে সহজে সে পা ফেলে সুন্দরবনের অজ গাঁয়ে। খুঁজে ফেরে নিজের হৃদয়। যে হৃদয়ে মেঘের মতো ভাসে এক আদ্যোপান্ত সৎ ও অসহায় ছেলের ভালোবাসা। *********************************************** দাঙ্গা, চরিত্রহীন রাজনীতি, জাতি-ধর্মকেন্দ্রিক মধ্যযুগীয় শ্লোগান, ভাষা বিদ্বেষ, দেশ থেকে উচ্ছেদ ষড়যন্ত্র। এই সময়ের দলিল এই উপন্যাসের পরতে পরতে ভয়ংকর খাদ থেকে উত্তরণের লড়াই। বিভেদের এই সময়ে ভালোবাসার উপন্যাস। ভাসান রাত ও নাছোড়বান্দা প্রেম লেখক : উত্তমকুমার পুরকাইত প্রচ্ছদ : ইন্দ্রিয় চক্রবর্তী প্রকাশক : মাথামোটার দপ্তর মুদ্রিত মূল্য ৩৮৯/- কলকাতা বইমেলায় স্টল ৬৭০। ৯ নম্বর গেটের কাছে। #কলকাতা বইমেলায় স্টল ৬৭০ #📚ভালোবাসার গল্প💑
Uttam Purkait
530 জন দেখলো
6 ঘন্টা আগে
সমস্তটা শুনে গা ছমছম করে। মূর্তির স্বচ্ছ, স্থির জলে চেয়ে শুভঙ্করবাবুর পাশে দাঁড়িয়ে থাকে সাগর। বড় একা লাগে। চারপাশের চা-বাগান, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন জনজাতির মানুষগুলোর মতো নিঃস্ব। এদের অনেকে এই বাংলায় থাকতে চায়, আবার অনেকে গোর্খাদের হয়ে আন্দোলনে প্রাণ দিতে চায়। অথচ কালিম্পং সহ এই পুরো ডুয়ার্স এলাকাটা ভুটানেরও হতে পারত। ইংরেজরা চায়নি। ঠিক যেমনভাবে চায়নি পূর্ব বাংলাটা থাকুক এপার বাংলার সঙ্গে। সাগরের বুকের ভেতরে তিরতির করে নদীটা বয়ে যায়। শুভঙ্করবাবু বলেন, অনন্যার জন্মের বছর দেড়েক পরে গোর্খাদের হয়ে লড়াই চলাকালীন ওর মা প্রাণ দিল। মেয়েকে নিয়ে আমার আর শিলিগুড়ি বা কলকাতা ফেরা হলো না। এখন বুঝি ভালোবাসাকে রক্ষা করতে হয় নিজেকে মেরে। তাই এত মানুষ আজও মরে, গোর্খাল্যান্ড চেয়ে। সাগর ভাবে, যেভাবে আলাদা বাংলাদেশ চেয়ে মরেছিল পূর্ব পাকিস্তানের লোকগুলো। যেভাবে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর মরেছিল তার মা। জাতি, ধর্ম, ভাষা যেন প্রাণের চেয়েও নিষ্ঠুর। কিন্তু প্রলয়দা মরল কেন? তারা কি কোনো দেশের হতে পারেনি বলে? উদ্বাস্তুদের কোনো ঘর নেই, দেশ নেই। তাই চট্টগ্রাম থেকে একদিন যারা বৌদ্ধ ধর্মের দেশ মায়ানমারে গিয়েছিল, সেই রোহিঙ্গাদেরও আজ বিতাড়িত হতে হয় সেখান থেকে। ফিরতে হয় বাংলাদেশে। কিন্তু ভিটে হারালে কি আর পাওয়া যায়? নিজভূমটা যে কবে তাদের থেকে হারিয়ে গেছে! ********************************************** ভাসান রাত ও নাছোড়বান্দা প্রেম (সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রেম বিষয়ক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস) উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র সাগর। নামের মতো তার জীবনও উথাল-পাতাল। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বছর-দুই পরে ওপার বাংলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার শিকার হয়ে মা মারা গেলে খুব ছোট্ট বেলায় বাবা-দাদু-ঠাম্মার হাত ধরে পালিয়ে এসেছিল এপার বাংলায়। চোরাই পথে বসবাসের বন্দোবস্ত হলেও এদেশকে সেভাবে ভালোবাসতে পারেনি। বাঙাল বাঙাল কটুক্তি সারাটা কৈশোরে, যৌবনে। এইভাবে তার শিকড়হীন বেড়ে ওঠা, বেঁচে থাকা। বাবা মারা যাওয়ার পর, দাদু নিখোঁজ হওয়ার পরে সৎ মায়ের সঙ্গে সেও ধরেছিল সংসারের হাল। উপার্জনের জন্য পড়াশোনা আর টিউশানির পাশাপাশি রপ্ত করেছিল গাড়ির ড্রাইভিং ও ম্যাকানিক্যাল কাজ। যন্ত্রণা ভোলার জন্য প্রিয় বাঁশি ছিল সঙ্গী। মননে বামপন্থী ছেলেটি কলেজ জীবনে রাজনীতির চক্করে পড়া থেকে স্কুল জীবনে যাকে মনে মনে ভালোবেসেছিল তার কাছ থেকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ নিয়ে কলেজ ছাড়ে একসময়। অসম্পূর্ণ জীবন নিয়ে নিজেকে সে ভালোবাসতে পারেনি। দেশ, সমাজ, কিংবা ভালোবাসার মানুষদের কাছে নিজেকে উদ্বাস্তু মনে হতো তার। মায়ানমার থেকে ভেসে আসা রোহিঙ্গাদের মতো যেন ভেসে চলত তার জীবন। তবু সেই জীবনে এসেছিল আরও একজন। প্রথমে তার থেকে জুটেছিল অপমান, পরে জবরদস্তি ভালোবাসা। তার একপাক্ষিক ভালোবাসায় ভীত হয়ে তার গাড়ির ড্রাইভিং ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে পালায় সাগর। কিন্তু অনন্যা তাকে ছাড়ে না। চলে আসে তার বাড়িতে। তার ক্যান্সার আক্রান্ত মাকে নিয়ে তার সঙ্গে যায় মুম্বাই। বিব্রত সময়ে নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে যখন সে বিপর্যস্ত, ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী হওয়ার আশংকায় ভীত, সেই মেয়ে পাশে দাঁড়ায়। এদেশে না হলে অন্য দেশে সে গড়তে রাজি ভালোবাসার বাঁসা। ধনী চা-ব্যাবসায়ী বাবার নিরাপদ আশ্রয় বা প্রিয় কালিম্পংকে তুচ্ছ করে সহজে সে পা ফেলে সুন্দরবনের অজ গাঁয়ে। খুঁজে ফেরে নিজের হৃদয়। যে হৃদয়ে মেঘের মতো ভাসে এক আদ্যোপান্ত সৎ ও অসহায় ছেলের ভালোবাসা। *********************************************** দাঙ্গা, চরিত্রহীন রাজনীতি, জাতি-ধর্মকেন্দ্রিক মধ্যযুগীয় শ্লোগান, ভাষা বিদ্বেষ, দেশ থেকে উচ্ছেদ ষড়যন্ত্র। এই সময়ের দলিল এই উপন্যাসের পরতে পরতে ভয়ংকর খাদ থেকে উত্তরণের লড়াই। বিভেদের এই সময়ে ভালোবাসার উপন্যাস। ভাসান রাত ও নাছোড়বান্দা প্রেম লেখক : উত্তমকুমার পুরকাইত প্রচ্ছদ : ইন্দ্রিয় চক্রবর্তী প্রকাশক : মাথামোটার দপ্তর মুদ্রিত মূল্য ৩৮৯/- কলকাতা বইমেলায় স্টল ৬৭০। ৯ নম্বর গেটের কাছে। #কলকাতা বইমেলায় স্টল ৬৭০ #📚ভালোবাসার গল্প💑
Uttam Purkait
496 জন দেখলো
10 ঘন্টা আগে
সমস্তটা শুনে গা ছমছম করে। মূর্তির স্বচ্ছ, স্থির জলে চেয়ে শুভঙ্করবাবুর পাশে দাঁড়িয়ে থাকে সাগর। বড় একা লাগে। চারপাশের চা-বাগান, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন জনজাতির মানুষগুলোর মতো নিঃস্ব। এদের অনেকে এই বাংলায় থাকতে চায়, আবার অনেকে গোর্খাদের হয়ে আন্দোলনে প্রাণ দিতে চায়। অথচ কালিম্পং সহ এই পুরো ডুয়ার্স এলাকাটা ভুটানেরও হতে পারত। ইংরেজরা চায়নি। ঠিক যেমনভাবে চায়নি পূর্ব বাংলাটা থাকুক এপার বাংলার সঙ্গে। সাগরের বুকের ভেতরে তিরতির করে নদীটা বয়ে যায়। শুভঙ্করবাবু বলেন, অনন্যার জন্মের বছর দেড়েক পরে গোর্খাদের হয়ে লড়াই চলাকালীন ওর মা প্রাণ দিল। মেয়েকে নিয়ে আমার আর শিলিগুড়ি বা কলকাতা ফেরা হলো না। এখন বুঝি ভালোবাসাকে রক্ষা করতে হয় নিজেকে মেরে। তাই এত মানুষ আজও মরে, গোর্খাল্যান্ড চেয়ে। সাগর ভাবে, যেভাবে আলাদা বাংলাদেশ চেয়ে মরেছিল পূর্ব পাকিস্তানের লোকগুলো। যেভাবে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর মরেছিল তার মা। জাতি, ধর্ম, ভাষা যেন প্রাণের চেয়েও নিষ্ঠুর। কিন্তু প্রলয়দা মরল কেন? তারা কি কোনো দেশের হতে পারেনি বলে? উদ্বাস্তুদের কোনো ঘর নেই, দেশ নেই। তাই চট্টগ্রাম থেকে একদিন যারা বৌদ্ধ ধর্মের দেশ মায়ানমারে গিয়েছিল, সেই রোহিঙ্গাদেরও আজ বিতাড়িত হতে হয় সেখান থেকে। ফিরতে হয় বাংলাদেশে। কিন্তু ভিটে হারালে কি আর পাওয়া যায়? নিজভূমটা যে কবে তাদের থেকে হারিয়ে গেছে! ********************************************** ভাসান রাত ও নাছোড়বান্দা প্রেম (সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রেম বিষয়ক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস) উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র সাগর। নামের মতো তার জীবনও উথাল-পাতাল। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বছর-দুই পরে ওপার বাংলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার শিকার হয়ে মা মারা গেলে খুব ছোট্ট বেলায় বাবা-দাদু-ঠাম্মার হাত ধরে পালিয়ে এসেছিল এপার বাংলায়। চোরাই পথে বসবাসের বন্দোবস্ত হলেও এদেশকে সেভাবে ভালোবাসতে পারেনি। বাঙাল বাঙাল কটুক্তি সারাটা কৈশোরে, যৌবনে। এইভাবে তার শিকড়হীন বেড়ে ওঠা, বেঁচে থাকা। বাবা মারা যাওয়ার পর, দাদু নিখোঁজ হওয়ার পরে সৎ মায়ের সঙ্গে সেও ধরেছিল সংসারের হাল। উপার্জনের জন্য পড়াশোনা আর টিউশানির পাশাপাশি রপ্ত করেছিল গাড়ির ড্রাইভিং ও ম্যাকানিক্যাল কাজ। যন্ত্রণা ভোলার জন্য প্রিয় বাঁশি ছিল সঙ্গী। মননে বামপন্থী ছেলেটি কলেজ জীবনে রাজনীতির চক্করে পড়া থেকে স্কুল জীবনে যাকে মনে মনে ভালোবেসেছিল তার কাছ থেকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ নিয়ে কলেজ ছাড়ে একসময়। অসম্পূর্ণ জীবন নিয়ে নিজেকে সে ভালোবাসতে পারেনি। দেশ, সমাজ, কিংবা ভালোবাসার মানুষদের কাছে নিজেকে উদ্বাস্তু মনে হতো তার। মায়ানমার থেকে ভেসে আসা রোহিঙ্গাদের মতো যেন ভেসে চলত তার জীবন। তবু সেই জীবনে এসেছিল আরও একজন। প্রথমে তার থেকে জুটেছিল অপমান, পরে জবরদস্তি ভালোবাসা। তার একপাক্ষিক ভালোবাসায় ভীত হয়ে তার গাড়ির ড্রাইভিং ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে পালায় সাগর। কিন্তু অনন্যা তাকে ছাড়ে না। চলে আসে তার বাড়িতে। তার ক্যান্সার আক্রান্ত মাকে নিয়ে তার সঙ্গে যায় মুম্বাই। বিব্রত সময়ে নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে যখন সে বিপর্যস্ত, ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী হওয়ার আশংকায় ভীত, সেই মেয়ে পাশে দাঁড়ায়। এদেশে না হলে অন্য দেশে সে গড়তে রাজি ভালোবাসার বাঁসা। ধনী চা-ব্যাবসায়ী বাবার নিরাপদ আশ্রয় বা প্রিয় কালিম্পংকে তুচ্ছ করে সহজে সে পা ফেলে সুন্দরবনের অজ গাঁয়ে। খুঁজে ফেরে নিজের হৃদয়। যে হৃদয়ে মেঘের মতো ভাসে এক আদ্যোপান্ত সৎ ও অসহায় ছেলের ভালোবাসা। *********************************************** দাঙ্গা, চরিত্রহীন রাজনীতি, জাতি-ধর্মকেন্দ্রিক মধ্যযুগীয় শ্লোগান, ভাষা বিদ্বেষ, দেশ থেকে উচ্ছেদ ষড়যন্ত্র। এই সময়ের দলিল এই উপন্যাসের পরতে পরতে ভয়ংকর খাদ থেকে উত্তরণের লড়াই। বিভেদের এই সময়ে ভালোবাসার উপন্যাস। ভাসান রাত ও নাছোড়বান্দা প্রেম লেখক : উত্তমকুমার পুরকাইত প্রচ্ছদ : ইন্দ্রিয় চক্রবর্তী প্রকাশক : মাথামোটার দপ্তর মুদ্রিত মূল্য ৩৮৯/- কলকাতা বইমেলায় স্টল ৬৭০। ৯ নম্বর গেটের কাছে। #কলকাতা বইমেলায় স্টল ৬৭০ #📚ভালোবাসার গল্প💑
Uttam Purkait
509 জন দেখলো
10 ঘন্টা আগে
সমস্তটা শুনে গা ছমছম করে। মূর্তির স্বচ্ছ, স্থির জলে চেয়ে শুভঙ্করবাবুর পাশে দাঁড়িয়ে থাকে সাগর। বড় একা লাগে। চারপাশের চা-বাগান, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন জনজাতির মানুষগুলোর মতো নিঃস্ব। এদের অনেকে এই বাংলায় থাকতে চায়, আবার অনেকে গোর্খাদের হয়ে আন্দোলনে প্রাণ দিতে চায়। অথচ কালিম্পং সহ এই পুরো ডুয়ার্স এলাকাটা ভুটানেরও হতে পারত। ইংরেজরা চায়নি। ঠিক যেমনভাবে চায়নি পূর্ব বাংলাটা থাকুক এপার বাংলার সঙ্গে। সাগরের বুকের ভেতরে তিরতির করে নদীটা বয়ে যায়। শুভঙ্করবাবু বলেন, অনন্যার জন্মের বছর দেড়েক পরে গোর্খাদের হয়ে লড়াই চলাকালীন ওর মা প্রাণ দিল। মেয়েকে নিয়ে আমার আর শিলিগুড়ি বা কলকাতা ফেরা হলো না। এখন বুঝি ভালোবাসাকে রক্ষা করতে হয় নিজেকে মেরে। তাই এত মানুষ আজও মরে, গোর্খাল্যান্ড চেয়ে। সাগর ভাবে, যেভাবে আলাদা বাংলাদেশ চেয়ে মরেছিল পূর্ব পাকিস্তানের লোকগুলো। যেভাবে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর মরেছিল তার মা। জাতি, ধর্ম, ভাষা যেন প্রাণের চেয়েও নিষ্ঠুর। কিন্তু প্রলয়দা মরল কেন? তারা কি কোনো দেশের হতে পারেনি বলে? উদ্বাস্তুদের কোনো ঘর নেই, দেশ নেই। তাই চট্টগ্রাম থেকে একদিন যারা বৌদ্ধ ধর্মের দেশ মায়ানমারে গিয়েছিল, সেই রোহিঙ্গাদেরও আজ বিতাড়িত হতে হয় সেখান থেকে। ফিরতে হয় বাংলাদেশে। কিন্তু ভিটে হারালে কি আর পাওয়া যায়? নিজভূমটা যে কবে তাদের থেকে হারিয়ে গেছে! ********************************************** ভাসান রাত ও নাছোড়বান্দা প্রেম (সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রেম বিষয়ক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস) উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র সাগর। নামের মতো তার জীবনও উথাল-পাতাল। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বছর-দুই পরে ওপার বাংলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার শিকার হয়ে মা মারা গেলে খুব ছোট্ট বেলায় বাবা-দাদু-ঠাম্মার হাত ধরে পালিয়ে এসেছিল এপার বাংলায়। চোরাই পথে বসবাসের বন্দোবস্ত হলেও এদেশকে সেভাবে ভালোবাসতে পারেনি। বাঙাল বাঙাল কটুক্তি সারাটা কৈশোরে, যৌবনে। এইভাবে তার শিকড়হীন বেড়ে ওঠা, বেঁচে থাকা। বাবা মারা যাওয়ার পর, দাদু নিখোঁজ হওয়ার পরে সৎ মায়ের সঙ্গে সেও ধরেছিল সংসারের হাল। উপার্জনের জন্য পড়াশোনা আর টিউশানির পাশাপাশি রপ্ত করেছিল গাড়ির ড্রাইভিং ও ম্যাকানিক্যাল কাজ। যন্ত্রণা ভোলার জন্য প্রিয় বাঁশি ছিল সঙ্গী। মননে বামপন্থী ছেলেটি কলেজ জীবনে রাজনীতির চক্করে পড়া থেকে স্কুল জীবনে যাকে মনে মনে ভালোবেসেছিল তার কাছ থেকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ নিয়ে কলেজ ছাড়ে একসময়। অসম্পূর্ণ জীবন নিয়ে নিজেকে সে ভালোবাসতে পারেনি। দেশ, সমাজ, কিংবা ভালোবাসার মানুষদের কাছে নিজেকে উদ্বাস্তু মনে হতো তার। মায়ানমার থেকে ভেসে আসা রোহিঙ্গাদের মতো যেন ভেসে চলত তার জীবন। তবু সেই জীবনে এসেছিল আরও একজন। প্রথমে তার থেকে জুটেছিল অপমান, পরে জবরদস্তি ভালোবাসা। তার একপাক্ষিক ভালোবাসায় ভীত হয়ে তার গাড়ির ড্রাইভিং ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে পালায় সাগর। কিন্তু অনন্যা তাকে ছাড়ে না। চলে আসে তার বাড়িতে। তার ক্যান্সার আক্রান্ত মাকে নিয়ে তার সঙ্গে যায় মুম্বাই। বিব্রত সময়ে নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে যখন সে বিপর্যস্ত, ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী হওয়ার আশংকায় ভীত, সেই মেয়ে পাশে দাঁড়ায়। এদেশে না হলে অন্য দেশে সে গড়তে রাজি ভালোবাসার বাঁসা। ধনী চা-ব্যাবসায়ী বাবার নিরাপদ আশ্রয় বা প্রিয় কালিম্পংকে তুচ্ছ করে সহজে সে পা ফেলে সুন্দরবনের অজ গাঁয়ে। খুঁজে ফেরে নিজের হৃদয়। যে হৃদয়ে মেঘের মতো ভাসে এক আদ্যোপান্ত সৎ ও অসহায় ছেলের ভালোবাসা। *********************************************** দাঙ্গা, চরিত্রহীন রাজনীতি, জাতি-ধর্মকেন্দ্রিক মধ্যযুগীয় শ্লোগান, ভাষা বিদ্বেষ, দেশ থেকে উচ্ছেদ ষড়যন্ত্র। এই সময়ের দলিল এই উপন্যাসের পরতে পরতে ভয়ংকর খাদ থেকে উত্তরণের লড়াই। বিভেদের এই সময়ে ভালোবাসার উপন্যাস। ভাসান রাত ও নাছোড়বান্দা প্রেম লেখক : উত্তমকুমার পুরকাইত প্রচ্ছদ : ইন্দ্রিয় চক্রবর্তী প্রকাশক : মাথামোটার দপ্তর মুদ্রিত মূল্য ৩৮৯/- কলকাতা বইমেলায় স্টল ৬৭০। ৯ নম্বর গেটের কাছে। #কলকাতা বইমেলায় স্টল ৬৭০ #📚ভালোবাসার গল্প💑
Uttam Purkait
515 জন দেখলো
1 দিন আগে
#😍মজার মজার পোষ্ট🤩 #কলকাতা_বইমেলা_২০২৬ #নতুন_বই মেয়েটা আবার একদিন সামনে এসে দাঁড়াল। স্ট্রেট কাট বলল, যদি আমার স্বাধীন চেতনাকে মর্যাদা না দাও তাহলে ভালোবাসো কেন? হকচকিয়ে গিয়েছিলাম। তৎক্ষণাৎ কোনো জবাব দিতে পারিনি। কিন্তু পাহাড়ে তাদের বশ সুভাষ ঘিসিং যখন সরকারের কাছে একটু একটু করে নতজানু হতে শুরু করল, যখন তার অনুগামীরা নিজেরা আলাদা দল গোছাতে ব্যস্ত হলো, আবার পাহাড়ে খুনখারাপি শুরু হলো, তখন মেয়েটা চলে এল আমার কাছে। শুধু একটা কথাই বলেছিল, তুমি কি পালাবে এখান থেকে? না। আমি কিন্তু গোর্খাল্যান্ড চাই। এই পাহাড়, এই দার্জিলিং, এই কালিম্পং ছেড়ে কোথাও যাব না। এমনকি শিলিগুড়িতেও। হাসলেন মানুষটা, নিজের ঠিকানা তখনো ঠিক করা হয়ে ওঠেনি, বাবা একদিন বললেন, নীতা কিন্তু তোকে ভালোবাসে, ওকে ছাড়িস না। তখনই নীতার গর্ভে এসেছিল অনন্যা। ও মেয়েটাকে মারতে চেয়েছিল কিন্তু আমি পারিনি। সামনে একটা উত্তাল সময় আসছে বুঝেও শিলিগুড়ি কিংবা কলকাতা আসার পরিকল্পনা ভুলে তিস্তাগ্রামে থেকে গেলাম। একটা মেয়ে যদি সব ছেড়ে একটা পুরুষের কাছে থাকতে পারে, আমি পারব না কেন? ভালোবেসে কতজন তো মরে! ******************************************** ভাসান রাত ও নাছোড়বান্দা প্রেম (সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রেম বিষয়ক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস) উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র সাগর। নামের মতো তার জীবনও উথাল-পাতাল। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বছর-দুই পরে ওপার বাংলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার শিকার হয়ে মা মারা গেলে খুব ছোট্ট বেলায় বাবা-দাদু-ঠাম্মার হাত ধরে পালিয়ে এসেছিল এপার বাংলায়। চোরাই পথে বসবাসের বন্দোবস্ত হলেও এদেশকে সেভাবে ভালোবাসতে পারেনি। বাঙাল বাঙাল কটুক্তি সারাটা কৈশোরে, যৌবনে। এইভাবে তার শিকড়হীন বেড়ে ওঠা, বেঁচে থাকা। বাবা মারা যাওয়ার পর, দাদু নিখোঁজ হওয়ার পরে সৎ মায়ের সঙ্গে সেও ধরেছিল সংসারের হাল। উপার্জনের জন্য পড়াশোনা আর টিউশানির পাশাপাশি রপ্ত করেছিল গাড়ির ড্রাইভিং ও ম্যাকানিক্যাল কাজ। যন্ত্রণা ভোলার জন্য প্রিয় বাঁশি ছিল সঙ্গী। মননে বামপন্থী ছেলেটি কলেজ জীবনে রাজনীতির চক্করে পড়া থেকে স্কুল জীবনে যাকে মনে মনে ভালোবেসেছিল তার কাছ থেকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ নিয়ে কলেজ ছাড়ে একসময়। অসম্পূর্ণ জীবন নিয়ে নিজেকে সে ভালোবাসতে পারেনি। দেশ, সমাজ, কিংবা ভালোবাসার মানুষদের কাছে নিজেকে উদ্বাস্তু মনে হতো তার। মায়ানমার থেকে ভেসে আসা রোহিঙ্গাদের মতো যেন ভেসে চলত তার জীবন। তবু সেই জীবনে এসেছিল আরও একজন। প্রথমে তার থেকে জুটেছিল অপমান, পরে জবরদস্তি ভালোবাসা। তার একপাক্ষিক ভালোবাসায় ভীত হয়ে তার গাড়ির ড্রাইভিং ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে পালায় সাগর। কিন্তু অনন্যা তাকে ছাড়ে না। চলে আসে তার বাড়িতে। তার ক্যান্সার আক্রান্ত মাকে নিয়ে তার সঙ্গে যায় মুম্বাই। বিব্রত সময়ে নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে যখন সে বিপর্যস্ত, ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী হওয়ার আশংকায় ভীত, সেই মেয়ে পাশে দাঁড়ায়। এদেশে না হলে অন্য দেশে সে গড়তে রাজি ভালোবাসার বাঁসা। ধনী চা-ব্যাবসায়ী বাবার নিরাপদ আশ্রয় বা প্রিয় কালিম্পংকে তুচ্ছ করে সহজে সে পা ফেলে সুন্দরবনের অজ গাঁয়ে। খুঁজে ফেরে নিজের হৃদয়। যে হৃদয়ে মেঘের মতো ভাসে এক আদ্যোপান্ত সৎ ও অসহায় ছেলের ভালোবাসা। #📚ভালোবাসার গল্প💑 #📚ভালোবাসার গল্প💑 ******************************************** দাঙ্গা, চরিত্রহীন রাজনীতি, জাতি-ধর্মকেন্দ্রিক মধ্যযুগীয় শ্লোগান, ভাষা বিদ্বেষ, দেশ থেকে উচ্ছেদ ষড়যন্ত্র। এই সময়ের দলিল এই উপন্যাসের পরতে পরতে ভয়ংকর খাদ থেকে উত্তরণের লড়াই। বিভেদের এই সময়ে ভালোবাসার উপন্যাস। ভাসান রাত ও নাছোড়বান্দা প্রেম লেখক : উত্তমকুমার পুরকাইত প্রচ্ছদ : ইন্দ্রিয় চক্রবর্তী প্রকাশক : মাথামোটার দপ্তর মুদ্রিত মূল্য ৩৮৯/- কলকাতা বইমেলায় স্টল ৬৭০। ৯ নম্বর গেটের কাছে।
See other profiles for amazing content