জয় মাকালী

Abhijit
700 views
5 months ago
🕉️ অষ্টমুখী গাণ্ডাভেরুণ্ডার দফারফা — বীরভদ্রের অবতার অষ্টপদী শরভ দ্বারা বর্তমানে এই গাণ্ডাভেরুণ্ডা নিয়ে খুব অহংকার করে বেড়ায় ““““ বৈষ্ণব নামক অবোধ””” প্রানীরা। কিন্তু এরা ভুলে যাচ্ছে যে এদের পেছনে যদি আমরা শৈবরা লেগে পড়ি , তাহলে এরা নরকে গিয়েও শান্তি পাবে না। এদের আরাধ্য বিষ্ণুকে দধীচ ঋষিই কাঁদাজলে চুবনি খাইয়েছিল, এরা সেটা ভুলে যাচ্ছে । আমরা শৈবরা বৈষ্ণবদের অসভ্যতার জবাব দিচ্ছি, ভেদাভেদ করা বৈষ্ণবদের স্বভাব। আমরা তার প্রতিবাদ করতে এই পোষ্ট লিখছি। যে অজ্ঞ ব্যক্তি কিছু না জেনে বুঝে জ্ঞান দিতে আসবে, তাদের উপর বীরভদ্র ও কালভৈরবের রোষ পড়ুক। 🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸 আদিগারুড় তন্ত্রের ২য় পটলে বলা হয়েছে — নৃসিংহো বীরভদ্রস্য সম্মুখে গর্বিতো ভবেৎ । অহংকারবশাৎ দেবো বিষ্ণুরূপধরঃ স্বয়ম্ ॥ ১ ॥ তস্মিন্মুহূর্তে শরীরাৎ বীরভদ্রস্য নির্গতঃ । বালরূপধরঃ পক্ষী শরভো ভীষণাকৃতিঃ ॥ ২ ॥ নৃসিংহকেশরং ধৃত্বা আকর্ষৎ বালশরভঃ । বিদার্য কেশরাজ্ঞঞ্চ ভূমৌ ন্যপাতয়ৎ প্রভুম্ ॥ ৩ ॥ আঘাতে তস্য দেবস্য মূর্ছা জাতা মহাবলে । জ্ঞানপ্রাপ্তে তু কুপিতো নৃসিংহো ভীষণাকৃতিঃ ॥ ৪ ॥ গাণ্ডাভেরুণ্ডরূপং স ধৃত্বা ভীষণবিক্রমঃ । শরভং গ্রহিতুং ক্রুদ্ধো ডানাভ্যাং ছেদয়ৎ প্রভুঃ ॥ ৫ ॥ ততো হসিত্বা শরভো মহারূপে প্রসারিতঃ । অষ্টপাদধরো ভূত্বা মুখানষ্টৌ ধরৎ প্রভোঃ ॥ ৬ ॥ নৃসিংহস্য মুখানষ্টৌ ছিত্বা স্বমুখমার্পয়ৎ । অবশিষ্টশিরঃ স্থানে গাণ্ডাভেরুণ্ডরূপধৃক্ ॥ ৭ ॥ পুনরপ্যাঘাতমাসাদ্য শরভেণ মহাবলঃ । চরণতলে নৃসিংহো দত্তো দুঃখবশং গতঃ ॥ ৮ ॥ আর্তনাদং করোতি দেবো দেহঃ কম্পতি ভূতলে । তস্মিন্কালে সমাযাতা প্রত্যঙ্গিরা মহাবলাঃ ॥ ৯ ॥ প্রত্যঙ্গিরা উচুঃ। এষ বিষ্ণুঃ নৃসিংহদেব অহংকারসমন্বিতঃ । মোহয়ামো ভবিষ্যৎ তং অধিকং দেবনিন্দকঃ ॥ ১০ ॥ শরভ উবাচ— ‘ন মোহার্থং প্রেরিতো’হং মহেশ্বরাৎ । উদ্ধারার্থং বিষ্ণোশ্চ আদিষ্টো’স্মি মহেশ্বরঃ ॥ ১১ ॥ দেব্যুবাচ— ‘ভবিষ্যন্তি বৈষ্ণবাঃ অসুরাকৃতিঃ । শিবনিন্দাং করিষ্যন্তি স্মারয় তানিদং প্রভো ॥ ১২ ॥ শিবঃ সূর্যসমো দেবো বিষ্ণুর্ভাতি খদ্যোতবৎ । গণশক্তিমিদং দৃষ্ট্বা শিবশক্তিং স্মরিষ্যতি ॥ ১৩ ॥ তথাস্তুক্ত্বা শরভো তু পাদং সংহৃত্য মূর্ধনি । নৃসিংহস্য পদাঘাতং দত্ত্বা দূরে ন্যপাতয়ৎ ॥ ১৪ ॥ কন্দুকবৎ পতিতো দেবো পুনর্মূর্ছাং গতো হরি । উত্তিষ্ঠন্নারসিংহীং দদর্শ কামরূপিণীম্ ॥ ১৫ ॥ কামবাণাহতঃ সত্ত্বা সম্ভোগায় ধাবিতঃ । তৎক্ষণাৎ পুচ্ছধৃত্বা অধঃশীর্ষ লম্বিতঃ প্রভুঃ ॥ ১৬ ॥ জিহ্বাতঃ স্রবতে তস্য জলং কামসমুদ্ভবম্ । লক্ষ্মী দৃষ্ট্বা দশাং দীনাং রোদিতুং সমুপাস্থিতা ॥ ১৭ ॥ বীরভদ্রপদে ভ্রান্ত্বা প্রণিপত্য বরাঙ্গনা । উবাচ করুণং বাক্যং শিবদাসী সদা হ্যহম্ ॥ ১৮ ॥ স্তনৌ দত্তৌ ময়া দেব শিবপূজাপ্রসাদতঃ । বিল্ববৃক্ষসমুত্পন্না শ্রীপ্রদা’হং ভবাম্যহম্ ॥ ১৯ ॥ স্বামিনং ন করোতু কামুকং লম্পটং প্রভো । পতিহীনা ভবিষ্যামি প্রাণত্যাগং করোম্যহম্ ॥ ২০ ॥ ততো বীরভদ্র উবাচ শরভং স্থিরধারণে । স্বয়ং গত্বা নৃসিংহস্য শিরশ্ছিন্নং চকার সঃ ॥ ২১ ॥ ব্যাঘ্রচর্ম সমুদ্ধৃত্য পৃষ্ঠদেশাৎ হরেঃ প্রভুঃ । মহাদেবায় দত্ত্বা তৎ প্রীতিমাপনয়ৎ বিভুঃ ॥ ২২ ॥ শিরসা কটিবন্ধঞ্চ ব্যাঘ্রচর্মোত্তরীয়কম্ । ধৃত্বা শঙ্করদেবোঽপি লীলয়াভূদলঙ্কৃতঃ ॥ ২৩ ॥ মায়ামুক্তো হরিস্তত্র শিবপূজামকারয়ৎ । অহংকারক্ষয়ং প্রাপ্য লক্ষ্ম্যাসার্ধং গতো হরিঃ ॥ ২৪ ॥ এবং শাস্ত্বা নৃসিংহঞ্চ গাণ্ডাভেরুণ্ডমেব চ । শরভো গণরূপেণ স্বমাহাত্ম্যং প্রকাশয়ৎ ॥ ২৫ ॥ শরভভক্তং দৃষ্ট্বা নৃসিংহো ভীতিমান্ সদা । অভিচারে নৃসিংহস্য শরভমন্ত্র আশ্রয়ঃ ॥ ২৬ ॥ ফলশ্রুতি ইতি শরভমাহাত্ম্যং যঃ পাঠেৎ শ্রদ্ধয়ান্বিতঃ । শিবভক্তিঃ দৃঢ়া তস্য সর্বশত্রুবিনাশিনী ॥ ২৭ ॥ 🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹🔹 ✅ অনুবাদ — নৃসিংহ যখন বীরভদ্রের সামনে অহংকারী হয়ে উঠেছিল তখন বীরভদ্রের শরীর থেকে একটি শিশু শরভ পক্ষী নৃসিংহ কেশর ধরে টান মেরে ছিঁড়ে ফেলেছিল, এবং নৃসিংহ কে এমন আছাড় মেরেছিল যে নৃসিংহ তখন মূর্ছা গিয়েছিল, তারপর জ্ঞান ফিরে পেয়ে নৃসিংহ অত্যধিক রেগে গিয়ে গাণ্ডা ভেরুণ্ড নামক ভয়ংকর রূপ ধরেছিল, শিশু শরভ পক্ষীকে ধরে তার ডানা ছিঁড়ে ফেলতে শুরু করেছিল। তখন ঐ শরভ অট্টহাস্য করে বৃহৎ হয়ে আটটি পদবিশিষ্ট হয়ে নৃসিংহের ঐ আটটি মুখকে ধরে ছিঁড়ে নিজের মুখে ঢুকিয়ে নিতে থাকলেন, অবশিষ্ট মস্তক থাকাকালীন অবস্থায় গাণ্ডাভেরুণ্ড নৃসিংহরূপে ফিরে এলেন। তখন শরভ তাকে আছাড় মেরে নিজের চরণের তলে নৃসিংহের শুধু মাথাটা চেপে ধরল, নৃসিংহ তখন যন্ত্রণায় চিৎকার করে দেহটা আছাড় খেতে লাগল। তখন প্রত্যঙ্গিরা দেবী অষ্টপদী শরভের কাছে এসে বললেন হে প্রভো ! এই বিষ্ণুর ভীষন অহংকার হয়েছে, একে আরো মোহে মোহিত করবো। প্রভু বীরভদ্রের গণ শরভ বললেন দেবী ! পরমেশ্বর শঙ্কর বিষ্ণুকে তার মোহ থেকে উদ্ধার করতে বলেছেন, মোহিত করতে নয়। তখন দেবী বললেন ! এই বিষ্ণুর ভক্ত গুলো ভবিষ্যতে শিবনিন্দা করবে, এক একটা অসুর বৈষ্ণব সেজে শিবনিন্দা করবে, তরা যাতে এটি স্মরণে রাখে যে শিবের গণের অনুচরের‌ই এত ক্ষমতা, তাহলে শিবের ক্ষমতার তো কোনো তুলনাই নেই। শিব হলেন সূর্য, বিষ্ণু হলেন জোনাকি মাত্র। তখন শরভ তথাস্তু বলে, নৃসিংহের মাথা থেকে নিজের পা সরিয়ে নিয়ে, নৃসিংহের মাথায় ভয়ংকর ভাবে লাথি মেরে ছিটকে দূরে ফেলে দিলেন। কন্দুকের মতো নৃসিংহ ছিটকে গিয়ে আবার মূর্ছা গেলেন। তারপর মূর্ছা থেকে উঠে দেখলেন নারসিংহী কামুক হয়ে নৃসিংহকে ডাকছেন, নৃসিংহ কামবাণে পীড়িত হয়ে নারসিংহীকে সম্ভোগ করতে ছুটে এলেন। কিন্তু নারসিংহীর কাছে আসা মাত্র‌ই নৃসিংহের লেজ ধরে উল্টো করে ঝুলিয়ে শরভ ধরে রাখলেন, ঐ ভাবে ঝুলে থেকে নৃসিংহের জিভ থেকে জল পড়তে লাগলো কামের জ্বালায়। বিষ্ণুর এমন করুণ পরিণতি দেখে দেবী লক্ষ্মী কাঁদতে লাগলেন, বীরভদ্রের চরণে মাথা ঠেকিয়ে বলতে লাগলেন, হে জগৎস্বামী ! আপনার ক্ষুদ্র অবতার আমার পতিকে চরম শাস্তি দিয়ে চলেছে, তাকে সবাই কামুক বলবে। আপনি তো জানেন আমি প্রতি কল্পে কল্পে শিবের চরণ দাসী, শিবভক্তির কারণে নিজের স্তন পর্যন্ত আমি শিবের চরণে দিয়েছি। আমার ভক্তিতে তিনি আমাকে শ্রীপ্রদান করেছেন, আমার স্তনকেই তিনি বিল্ববৃক্ষে রূপান্তর করে আমাকে বিষ্ণুর সাথে বিবাহ হবার বরদান করেছেন। তবেই আমি আমার স্বামীর নারায়ণের প্রিয়া হতে পেরেছি, আপনি আমার স্বামীকে কামুক লম্পট বানিয়ে আমাকে পতিহীনা করবেন না। আমি স্বামী বিনে জীবন ত্যাগ করে দেবো। তখন বীরভদ্র শরভকে বললেন নৃসিংহকে ঐ ভাবে ধরে রাখার জন্য, বীরভদ্র গিয়ে নৃসিংহের মুণ্ডু ছিন্ন করে, তার দেহের পিঠের অংশের বাঘের চামড়া তুলে মহাদেবকে উপহার দিলেন। মহাদেব কোমরবন্ধ হিসেবে নৃসিংহের মস্তক ধারণ করলেন, উত্তরীয় হিসেবে বাঘের চামড়া ধারণ করলেন। নৃসিংহের মায়াময় দেহ থেকে বিষ্ণু মুক্ত হয়ে শিবের পূজা করে নিজে অহংকারের জন্য অনুতপ্ত হয়ে লক্ষ্মীকে নিয়ে বৈকুণ্ঠ ফিরে গেলেন। এইভাবে নৃসিংহ ও তার গাণ্ডাভেরুণ্ডকে শাস্তি দিয়ে বীরভদ্রের অবতাররূপী গণ শরভ নিজের ক্ষুদ্র মাহাত্ম্য প্রকট করেছিলেন। শরভের ভক্তকে দেখলেই ভয় পান নৃসিংহদেব, নৃসিংহের মন্ত্রে যদি অভিচার ক্রিয়া করা হয় তবে তা থেকে রক্ষা পাবার জন্য শরভ মন্ত্রের আশ্রয় নেওয়া উচিত। ✅ ফলশ্রুতি : যে ব্যক্তি ভক্তিসহ এই শরভ-মাহাত্ম্য পাঠ করে, তার শিবভক্তি দৃঢ় হয় এবং সমস্ত শত্রু নাশ হয়। ______________________________________________ স ন্ত্রাসী বৈষ্ণব নিপাত যাক সনাতন ধর্ম মুক্তি পাক © মহাপাশুপতাস্ত্র শৈবধর্মের জয় । #বৈষ্ণবদমন #অশোকসরকারেরযম #মধ্বাচার্যেরবাপ #ভণ্ডবৈষ্ণব #শিবনিন্দুক #মহাপাশুপতাস্ত্র #🙏নমস্কার #জয় মাকালী #🙏ওম নম:শিবায়🔱 #🙏শিবের ওয়ালপেপার🙏
Abhijit
562 views
5 months ago
🔥🔥 শিব হতেই উৎপন্ন দুই সত্ত্বার যুদ্ধ - অহংকারী অসুর অন্ধক এবং অহংকারবিনাশক দেবদেব মহাকালের কাহিনী 🔥🔥 🚩🚩 যখন কেবল মাত্র সৃষ্টি ছিল এবং দেবতা ও অসুর একে অপরের প্রতিবিম্ব মাত্র ছিল , সেই সময় জন্ম নিল এক সত্তা অন্ধক । সে জন্মেছিল অন্ধকার থেকে তাই সে ছিল অন্ধ । চক্ষুহীন এক দানব , যার চোখ ছিল না , তবু যার দৃষ্টি ছিল অহংকার ও ক্ষমতার লোভে পূর্ণ । 🔱 একদিন কৈলাসে দেবী পার্বতী কৌতুকবশতঃ শিবের নয়ন ঢেকে ধরলেন । মুহূর্তেই সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড অন্ধকারে নিমজ্জিত হল । সেই অন্ধকার জমাট বেঁধে , শিবের তৃতীয় নয়নের অগ্নিতাপের স্পর্শ পেয়ে জন্ম নিল - অন্ধক । পার্বতীর মাতৃস্নেহ ও করুণায় সে বেঁচে রইলো এবং শিবের অংশ হওয়ায় পেল অমরত্ব । কিন্তু , শর্ত ছিলো - "যতদিন সে দেবীকে মাতৃস্বরূপ বলে মনে জানবে , ততদিন তার বিনাশ হবে না । কিন্তু অন্ধক দেবীকে মাতৃরূপে জানলো না , সে চিনল কেবল ক্ষমতা । তাই সে ক্ষমতা লাভের আশায় শুরু করলো ব্রহ্মার মহাতপস্যা , তার সেই তপস্যার বলে পুরো ইন্দ্রলোক কেঁপে উঠল । অন্ধকের এমন তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে ব্রহ্মা তাকে বর দিলেন - “তুমি অজেয় হবে ততদিনই , যতদিন তুমি দেবীকে মাতৃরূপে দেখবে । কিন্তু কখনো যদি তুমি শক্তির অপব্যবহার করো ও দেবীর প্রতি আসুরিক মনোভাব পোষণ করো তবে , তুমি শিবাংশ হওয়ায় সকলের কাছে অবধ্য হলেও মহাদেব বা তার কোনো অংশের দ্বারা ধ্বংস হবে ।” কিন্তু অসুরের বুদ্ধি তো কুটিল তাই অন্ধক ভাবলো - "আমি যখন শিবেরই অংশ তাই যিনি শিবের , তিনি আমারও হবেন । আর এমনিতেও শিবের পত্নীই সর্বশক্তিময়ী দেবী , তাই সে আমার হলে আমিও সর্বশক্তি সমন্বিত হয়ে অজেয় হবো ।" এই থেকেই , তার অন্তরে জন্ম নিল বিকৃত কামনা , আর এই কামনাই তাকে অন্ধক থেকে অন্ধকাসুর বানাল । তার সেই আসুরিক বিকৃত কামনা থেকেই যখন অন্ধক কৈলাস আক্রমণ করল , আকাশ রক্তিম হল , পাহাড় কাঁপল , দেবলোক আদি সর্বলোক ভীত হয়ে পড়ল, সপ্ত সমুদ্রাদি গঙ্গার জল স্তব্ধ হয়ে গেল । শিব তখনও ধ্যানমগ্ন ও শান্ত । কিন্তু সেই শান্তি ছিল যেনো বীভৎস প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের আগে নিস্তব্ধতা বা শ্মশানের নীরবতা । অন্ধক , ধ্যানস্থ শান্ত বসে থাকা শিবের দিকে চেয়ে হাসল , আসুরিক মনোভাবাপন্ন চক্ষুহীন মুখে দাঁতের সারি ঝলসে উঠল । তখন শিবের শরীর থেকে বেরিয়ে এলেন এক বীভৎস করাল মুখ ও বিকৃত দাঁতের রুদ্র রূপ অবতার - মহাকাল ভৈরব । তাঁর গলায় নরকঙ্কাল , জিহ্বা লাল , চোখে মৃত্যু , নখ গুলি যেনো একেকটি ধারালো অস্ত্র আর অট্টহাসিতে - প্রলয়ের সঙ্গীত । বিভৎস অথচ সুন্দর সংহার রুদ্রস্বরূপ সেই ভৈরব যখন ত্রিশূল নিক্ষেপ করলেন অন্ধকের দিকে তখন প্রতিটি রক্তবিন্দু থেকে জন্ম নিল আরও অন্ধক । সেই সহস্র অন্ধক চারদিকে ছুটে বেড়াল । তখন ভৈরব যা করলেন , তা ভয়ংকর কিন্তু তাত্ত্বিকভাবে অপূর্ব । তিনি প্রতিটি অন্ধককে নিজের দেহে শোষণ করতে লাগলেন । রক্ত, মাংস, অহংকার - সবই তাঁর মধ্যে বিলীন হল । ভৈরব অন্ধককে বিনাশ করতে করতে বললেন - “অহংকার যত জন্ম নেয় , ততই আমি তাকে ধারণ করতে সজাগ হয়ে উঠি । কারণ বিনাশ আমি নই , আমি পরিবর্তন , আমি অহংকারের কাল ।” শুলাঘাতে মৃতপ্রায় অন্ধক যখন শিবের বুকে মিলিয়ে গেল , তখন এক শিশুর কান্না শোনা গেল এবং সেই মিলিয়ে যাওয়া দেহ থেকে এক নব দৈব শিশুর উৎপন্ন হোলো । কিন্তু , এই শিশু অন্ধকার থেকে উৎপন্ন অসুর অন্ধক ছিল না , এই শিশু ছিল ত্রিনয়ন যুক্ত এক দেবাংশ , যার নাম ছিল জ্ঞানাক্ষ । সেই শিশু এসে নতমস্তকে শিবের চরণে লুটিয়ে পড়ল । অন্ধক তার আসুরতা ও অজ্ঞান থেকে মুক্তি পেল । শিব তখন সেই জ্ঞানাক্ষ নামক শিশুটিকে বললেন - “যে নিজেকে অন্ধকার ভাবে , সে কখনো জ্ঞানের আলো পায় না এবং সে অন্তিমে শিবের অংশজাত হয়েও অসুর অন্ধকে পরিণত হয় । কিন্তু যে নিজের ভেতরে থাকা অজ্ঞান রূপী অন্ধকারকে চিনে নেয় ও সে সেই অসুরত্ত্ব থেকে মুক্ত হয় , তবে সে আমার অংশজাত না হয়েও আমারই সাযুজ্যতা লাভ করে ।” লেখনী ✍️--- রুদ্রনাথ শৈব 🥀 ©রুদ্রনাথশৈব #রুদ্রকণ্ঠthevoiceofrudra #রুদ্রনাথশৈব #postviralシ #সনাতনধর্ম #souviksddas #সনাতন #হিন্দুধর্ম #Shivalaya বি দ্রঃ - পোস্টটি কপি করলে সম্পূর্ণ করবেন । নমঃ শিবায় ।। 🕉️ হর হর মহাদেব ।। 🚩 শিব ওম তৎ সৎ ।। 🔱 #জয় মাকালী #🙏শিব-পার্বতীর কথা💗 #🙏শিবের ওয়ালপেপার🙏 #🙏ওম নম:শিবায়🔱 #🙏নমস্কার
Abhijit
1.4K views
5 months ago
🔥🔥 দেবীর তাঁরা ও শিবের তাঁরক স্বরূপের প্রাকট্যের অজানা এক দারুন কাহিনী 🔥🔥 🟡 দশমহাবিদ্যার দ্বিতীয় বিদ্যা দেবী তাঁরা এবং তার মহাবিদ্যাপতি তাঁরক , কিভাবে প্রকট হয়েছিলেন ? কেনই বা ভগবতী ও মহাদেব দুজনে এই স্বরূপ ধারণ করেছিলেন ? 🟡 🚩 একবার , ভগবতী পার্বতী যখন শত্রু বিনাশে উদ্যত হয় মহারৌদ্রী করালি মহাকালীকার স্বরূপে অসুর বিনাশ করে থাকেন । ফলে চরাচরের সকল অসুর তো বিনাশ হচ্ছিলোই সেই সঙ্গে দেবী কালীর সম্মুখে যেকোনো দেবতা ঋষি মুনি প্রাণী আসছিলো , দেবী তাদেরও সংহার করছিলেন । ফলে , সৃষ্টির সকল ঋষি মুনি দেবতারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ভগবতী পার্বতীকে অনুগ্রহ করলে , দেবীর আদেশে মহাকালী শান্ত হয়ে যান এবং নিজ শরীর থেকে একটি শ্যাম-নীল বর্ণের দেবীকে প্রকট করেন , যিনি ক্রোধ-করুণা বা প্রলয়-সৃষ্টির মিলিত স্বরূপ ছিলেন , যার মাথায় ছিল জুট ও কপালে অর্ধচন্দ্র , গলায় মুণ্ড-নরকংকাল ও সর্পের মালা , যিনি ছিলেন লম্বোদরী ও পরনে ব্যাঘ্রচর্ম বসন , সকল শোক তাপ পাপ তারিণী এই দেবীর নাম ছিলো "তাঁরা"। এরপর , করুণা ও ক্রোধের মিলিত স্বরূপ সেই দেবী তাঁরা , পাপী অসুরদের সংহার এবং সাধু ঋষি দেবতাদের করুণা ও রক্ষা করলেন । অতঃপর , অসুর বিনাশের পর দেবী তাঁরা ক্রোধে শ্মশানের দিকে গমন করলেন । ক্রোধে পূর্ণ দেবী তাঁরার পদভার ভূমি স্পর্শ করতেই , সেই শ্মশানভূমি কেঁপে উঠতে লাগলো আর সেই কম্পনে শ্মশানস্থিত সকল ভুতপ্রেত গণাদি পশুজীব ভীত হয়ে শ্মশানাধিপতি ভুতভাবন ভূতনাথ শঙ্করের স্মরণ করতে লাগলো । 🌟 তখন ভগবান মহাদেব তাদের রক্ষার্থে শ্মশান অধিকর্তা মহাকাল ভৈরবকে দেবী তাঁরার ক্রোধ প্রশমনের নির্দেশ দেন । মহাকাল ভৈরব মহাদেবের নির্দেশানুসারে , দেবী তাঁরার ক্রোধ শান্ত করতে এক বালকের রূপ ধারণ করে শ্মশান ভূমিতে উপস্থিত হন এবং উচ্চস্বরে কাঁদতে থাকেন । দেবী তাঁরা সেই কাঁন্নার শব্দ শুনে বিরক্তিতে আরো ক্রোধী হয়ে পরেন ও সেই কাঁন্নার শব্দ প্রশমন করতে তিনি শ্মশানের এদিক সেদিক হন্তদন্ত হয়ে খুঁজতেই হঠাৎ তিনি দেখেন একটি ছোট্ট বাচ্চা খুব মায়াভরা উচ্চস্বরে অনবরত কেঁদেই চলেছে । দেবী সেই বালকটিকে তাঁর কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সেই বালক ভৈরব বলে , সে খুব ক্ষুধার্ত এবং সে তাঁর মাকে খুঁজে পাচ্ছে না , তাই ক্ষুধার জ্বালায় সে এভাবে কেঁদেই চলেছে । 🔱 তখন , সেই কথা শুনে , দেবীর মাতৃসত্ত্বা জেগে উঠলো ও দেবীর ক্রোধ কিছুটা প্রশমিত হয়ে বালকটির ওপর জাগ্রত হলো মাতৃস্নেহের করুণা ও দয়া । সেই দয়ায় দেবী তাঁরা বালকটিকে কোলে তুলে নিলেন এবং শ্মশানের একটি স্থানে বসে বালকটিকে নিজের কোলে শুয়িয়ে নিজের স্তন দুগ্ধ পান করাতে লাগলেন । প্রকৃতপক্ষে , সেই বালক ভৈরব দেবীর স্তনদুগ্ধ পানের মাধ্যমে দেবীর সকল ক্রোধকেই পান করছিলেন , কিন্তু ভগবতীর স্তনদুগ্ধ তো সাক্ষাৎ পরমামৃত সুধা , যা দেবদূর্লভ । তাই , সেই দুগ্ধের স্বাদে বালক ভৈরব দেবীর সমস্ত স্তনসুধা পান করে নিলেন কিন্তু তবুও তাঁর পেট ভরলো না , তিনি পূর্ণতৃপ্ত হলেন না । ওদিকে দেবীর স্তনদুগ্ধ সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাওয়ায় , সেই ভৈরব বালক উদর অতৃপ্তির কারণে , এবার আরো উচ্চস্বরে কাঁদতে শুরু করলেন , যার শব্দ সহ্য সমস্ত সৃষ্টির সকলের এমনকি দেবী তাঁরার পক্ষেও অসহনীয় হয়ে গেলো । তখন দেবী তাঁরা সেই বালকের ক্ষুধা নিবারণ ও উদর তৃপ্তির জন্য মহাদেবকে স্মরণ করলেন । 🪔 তখন , মহাদেব নিজের রুদ্র স্বভাব থেকে একটি স্বরূপকে প্রকট করেন যার , মাথায় ছিলো জটা , কপালে অর্ধচন্দ্র , গলায় মুণ্ডমালা , নাগযজ্ঞপোবীত , ব্যাঘ্রচর্ম বসন ও নীল বর্ণের দেহ , যার নাম ছিল -"তাঁরক" । মহাদেবের সেই তাঁরক স্বরূপ তখন শশ্মানের সেই স্থানে পৌঁছলেন এবং সেই বালক ভৈরবকে একটি মুষ্টি করা অন্নের পিণ্ড খেতে দিলেন । সেই বালক ভৈরব সেই অন্ন পিণ্ড খেয়েই পরমতৃপ্ত হয়ে চুপ করে শান্ত হয়ে যায় । সেইক্ষণেই শশ্মানে মহাদেব , দেবী পার্বতী , মহাকাল ভৈরব ও মহাকালী প্রকট হলেন । মহাদেব তাঁরককে বললেন - "তুমি যেভাবে তাঁরা কে রক্ষা করেছো ও তাঁর সহায়ক হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছ তা একটি আদর্শ পুরুষের ন্যায় ও তোমাদের উভয়ের স্বরূপ একসমান ও তোমাদের উৎপত্তি আমার এবং দেবীর অংশ থেকেই , তাই আজ থেকে তুমি তাঁরার পানিগ্রহণ করে একত্রে আদর্শ স্বামী-স্ত্রীর ধর্মপালন করে মহাবিদ্যা ও মহাবিদ্যাপতি রূপে সংসারের সকল ভক্তদের দুঃখ কষ্ট পাপ তারণ করো ।" 👉 এরপর দেবী তাঁরাকে মহাদেব , দেবী পার্বতীর দ্বিতীয় মহাবিদ্যার স্বরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সদাসর্বদা পূজিতা ও তন্ত্রের সিদ্ধিদাত্রী হবার আশীর্বাদ প্রদান করেন । শেষে , সেই বালক ভৈরবকে মহাদেব বলেন - "যেহেতু তুমি পুত্র রূপে বালকাবস্থায় দেবীর স্তনদুগ্ধ পান করেছো ও দেবী মাতৃস্নেহে তোমায় নিজের কোলে স্থান দিয়েছেন , তাই মহাকাল ভৈরবের থেকে প্রকট হওয়া তুমি আজ থেকে ক্ষুদ্র বা বটুকভৈরব রূপেই জগতে খ্যাত হবে এবং পুত্ররূপেই অনন্তকাল দেবীর প্রধান গণাধক্ষ্য দক্ষিণীপার্ষদ রূপে দেবীর সাথে বিরাজ করবে ।" লেখনী ✍️-- রুদ্রনাথ শৈব 🥀 ©রুদ্রনাথশৈব #রুদ্রকণ্ঠthevoiceofrudra #রুদ্রনাথশৈব #postviralシ #souviksddas #শিবালয় #সনাতনধর্ম #হিন্দুধর্ম #সনাতন বি দ্রঃ- পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন এবং পোস্টটি কপি করলে সম্পূর্ণ কপি করবেন । নমঃ শিবায়ৈ চ্ নমঃ শিবায় ।। 🕉️ জয় মহাকাল জয় মহাকালী ।। 🚩 জয় বাবা তাঁরক জয় মা তাঁরা ।। 🔱 #🙏শিব-পার্বতীর কথা💗 #🙏ওম নম:শিবায়🔱 #হর হর মহাদেব #🙏শিবের ওয়ালপেপার🙏 #জয় মাকালী