LAST LAUGH
458 views • 3 days ago
“আয়না নয়, ক্যামেরা”
প্রতিদিন সকালে আরিয়ান আয়নায় নয়—ক্যামেরার স্ক্রিনে নিজের মুখ দেখে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেই ঠোঁটের কোণে একটা হাসি চলে আসে। অদ্ভুত ব্যাপার… এই হাসিটা আয়নার সামনে কখনো আসে না।
সেদিনও ঘুম থেকে উঠেই আরিয়ান ফোনটা হাতে নিল। নতুন শার্ট পরল। চুল ঠিক করল। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে কয়েকটা ছবি তুলল। সবচেয়ে ভালো ছবিটা বেছে নিয়ে ক্যাপশন দিল— “New day. New goals. Living my best life.”
দশ মিনিটের মধ্যে ৮০০ লাইক। আরিয়ান মুচকি হাসল। তারপর টেবিলের ওপর পড়ে থাকা ক্রেডিট কার্ডের বিলটা চুপচাপ ড্রয়ারের ভেতর ঢুকিয়ে দিল।
দুপুরে শহরের সবচেয়ে দামি ক্যাফেতে গেল আরিয়ান। কফির কাপটা সামনে রাখল।
Click. “Perfect.”
ছবিটা পোস্ট করার আগে একবার ব্যালেন্স চেক করল। তারপর আবার। আরেকবার। কারণ কফিটার দাম দেওয়ার পরও মাসের বাকি দিনগুলো কীভাবে চলবে, সেটা আরিয়ান নিজেও জানে না।
বিকেলে জিম। আয়নার সামনেও একটা ছবি তুলল। তারপর একটা দামি গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আরেকটা ছবি।
কমেন্ট এল—“Bro, you're living the dream!”
আরিয়ান শুধু একটা ❤️ দিল।
কেউ জানল না—গাড়িটা তার নয়, জামাটাও পুরোপুরি তার নয়। আর যে “স্বপ্নের জীবন” সবাই দেখছে… সেটার বেশিরভাগটাই EMI-তে কেনা।
রাত এগারোটা। ঘর অন্ধকার।
টেবিলের ওপর পড়ে আছে অর্ধেক খাওয়া ঠান্ডা কফি। ঘরের নীরবতার মধ্যে শুধু ফোনের আলো আরিয়ানের মুখে পড়ে আছে। আরিয়ান নিজের পুরোনো পোস্টগুলো scroll করতে থাকে।
২,৩০০ লাইক। ৫,৮০০। ৭,৪০০। তারপর ৯,০০০।
একটার পর একটা সংখ্যা। কিন্তু আশ্চর্যভাবে… লাইক যত বাড়ছে, তার ভেতরের শূন্যতাটাও যেন তত বড় হচ্ছে।
হঠাৎ—টিং!
নতুন notification। আরিয়ান ভেবেছিল আরও একটা like এসেছে। কিন্তু সেটা ছিল ব্যাংকের মেসেজ।
“Your loan repayment is overdue.”
আরিয়ানের আঙুল থেমে গেল। চোখ দুটো বন্ধ করল। কয়েক সেকেন্ড নিঃশব্দে বসে রইল। তারপর সকালে তোলা ছবিটা খুলল।
ছবির মধ্যে আরিয়ান হাসছে। চোখে আত্মবিশ্বাস। মুখে সুখ। ছবির নিচে—10,000 likes.
আরিয়ান কিছুক্ষণ ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ফোনটা নামিয়ে রেখে ধীরে ধীরে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
এবার কোনো camera নেই, কোনো filter নেই, কোনো caption নেই। শুধু আরিয়ান… আর তার নিজের মুখ।
কয়েক মুহূর্ত পর খুব আস্তে বলল—“আমি কি সত্যিই সুখী?”
আয়না কোনো উত্তর দিল না। কারণ আয়না likes গোনে না। Filter দিয়ে সত্যিটা লুকায় না। আয়না শুধু মুখটা দেখায় না… চোখের গভীরে লুকিয়ে থাকা আসল সত্যিটাও দেখিয়ে দেয়।
সেদিন প্রথমবার আরিয়ান বুঝল—এতদিন সে নিজের জীবনটা বাঁচেনি। সে শুধু এমন একটা জীবন বানিয়েছে, যেটা অন্যরা দেখে বলবে—“ইশ! আমার জীবনটাও যদি এমন হতো!”
কিন্তু ছবির বাইরে? একটা ঋণের পাহাড়। একটা নীরব ঘর। আর একটা মানুষ… যে প্রতিদিন হাজার মানুষের attention পাচ্ছে, কিন্তু নিজের কষ্টটা বলার জন্য একজন মানুষও খুঁজে পাচ্ছে না।
**স্ক্রিনে আরিয়ান সফল,** কিন্তু বাস্তবে?
বাস্তবে—ভীষণ ক্লান্ত।
হয়তো এটাই আমাদের সময়ের সবচেয়ে নির্মম সত্যি। আমরা জীবনটা বাঁচার চেয়ে, জীবনটাকে দেখানোর জন্য বেশি ব্যস্ত। কারণ একটা perfect ছবি হাজারটা like এনে দিতে পারে, হাজারটা মানুষকে নিজের জীবন নিয়ে হিংসে করাতে পারে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে যখন ফোনটা নিঃশব্দ হয়ে যায়… তখন সেই হাজারটা like-এর একটাও পাশে এসে বসে না। এক কাপ কফি এগিয়ে দেয় না। একবার জিজ্ঞেসও করে না—“তুই ঠিক আছিস তো?”
সেই কাজটা হয়তো করে একজন বন্ধু। হয়তো একজন বাবা। হয়তো একজন মা… যে আপনার perfect ছবিটা দেখে না, আপনাকেই দেখে।
তাই কখনো কখনো ফোনটা নামিয়ে পাশে তাকান। হয়তো খুব কাছেই এমন একজন মানুষ বসে আছে, যে আপনার ১০,০০০ likes চায় না। আপনার perfect life-টাও চায় না। শুধু চায়—আপনি সত্যিই ভালো থাকুন।
কারণ শেষ পর্যন্ত, দুনিয়ার কাছে আপনি কতটা সুখী দেখাচ্ছেন, সেটা বড় কথা নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো—ফোনটা বন্ধ করার পর, আপনি সত্যিই সুখী কি না। #👉 অজানা গল্পের কাহিনী 😜😜 #trending #story
13 shares