LAST LAUGH
657 views • 3 days ago
"যে “পরে” আর আসেনি "
রিক জীবনে অনেক কিছু কিনেছে। দামি ঘড়ি, গাড়ি, নিজের অফিস—সবই। শুধু কিনতে পারেনি সেই দশ টাকার এক কাপ চায়ের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া সময়টা। স্কুলের টিফিনে ক্যান্টিনের জানালার পাশে বসেই শুরু হয়েছিল রিক আর স্নেহার গল্প।
“তুই এত চা খাস কী করে?”
রিক হেসে বলত, “চা না, তোর সঙ্গে বসার একটা অজুহাত মাত্র।”
স্কুল ছুটির পর পাশাপাশি সাইকেলে বাড়ি ফেরা, বর্ষার দিনে একই ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে থাকা—এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোর মধ্যেই কখন যে বন্ধুত্বটা ভালোবাসা হয়ে গিয়েছিল, ওরা নিজেরাও বুঝতে পারেনি।
উচ্চমাধ্যমিকের পর দুজনের কলেজ আলাদা হলো। প্রথমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা হতো। তারপর সেই কথাগুলো কমতে কমতে একসময় শুধু প্রয়োজনের মধ্যেই আটকে গেল।
একদিন স্নেহা ফোন করেছিল। রিক তখন জীবনের একটা বড় সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে। ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠেছিল—স্নেহা। রিক ফোনটা ধরল। ওপাশ থেকে স্নেহা কিছু বলার আগেই সে তাড়াহুড়ো করে বলল, “এখন একটু ব্যস্ত আছি। পরে ফোন করছি।”
সেই “পরে” আর আসেনি।
কয়েক দিন পর এক রাতে রিক ফোন করেছিল। ওপাশে ফোন বেজেছিল অনেকক্ষণ। কিন্তু স্নেহা ধরেনি। অভিমান জমে ছিল তার মনে। কেউ নিজের অভিমানটা সরিয়ে আর একবার ফোন করেনি।
সময় গড়িয়ে গেল। অভিমান ধীরে ধীরে অদৃশ্য একটা দেওয়াল হয়ে দাঁড়াল। কেউ কাউকে হারানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবু একসময় দুজনেই একে অপরের জীবনের বাইরে চলে গেল।
প্রায় দশ বছর পর, এক বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় রিক শহরের এক অভিজাত ক্যাফেতে বসে ছিল। সামনে দামি কফি। জানালার কাঁচে বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ। সেই শব্দেই হঠাৎ মনে পড়ে গেল স্কুলের ক্যান্টিনটার কথা। বহু বছর পর , সেদিন রিক ফোনে ফেসবুক খুলে স্নেহার নামটা টাইপ করল। প্রোফাইলটা খুলতেই সামনে এল একটা ছবি।
স্নেহা হাসছে।
পাশে একজন পুরুষ।
আর মাঝখানে ছোট্ট একটা মেয়ে।
ছবির নিচে লেখা— “My whole world.”
রিক অনেকক্ষণ ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ফোনটা নামিয়ে রাখল। টেবিলের কফিটা ততক্ষণে ঠান্ডা হয়ে গেছে। বিল মিটিয়ে ক্যাফে থেকে বেরিয়ে রাস্তার পাশের একটা ছোট চায়ের দোকানে গিয়ে দাঁড়াল। চুলোর ওপর কেটলিতে চা ফুটছিল। বৃষ্টির ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে মিশে ছিল চায়ের গরম গন্ধ।
দোকানদার তাকিয়ে বলল, “দাদা, চা দেব?”
রিক হালকা মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ, এক কাপ।” দোকানদার গরম চায়ের ভাঁড়টা তার দিকে এগিয়ে দিল। রিক ভাঁড়টা হাতে নিয়ে এক চুমুক দিতেই চোখ দুটো আপনাআপনি বন্ধ হয়ে গেল।
চায়ের গন্ধের সঙ্গে হঠাৎ ফিরে এল স্কুলের সেই দুপুর।
ক্যান্টিনের বেঞ্চ।
স্নেহার হাসি।
আর সেই পুরোনো প্রশ্ন— “তুই এত চা খাস কী করে?”
রিক চোখ খুলল। সামনে কেউ নেই। শুধু বৃষ্টির মধ্যে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা। সে আবার ফোনটা বের করল।
মেসেজ বক্স খুলে লিখল— “কেমন আছিস?”
কয়েক সেকেন্ড স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর মেসেজটা মুছে ফোনটা পকেটে রেখে দিল।
দশ বছর আগে যে কথাটা “পরে” বলার জন্য রেখে দিয়েছিল, আজও সেটা বলা হলো না।
খালি ভাঁড়টা পাশে রেখে রিক বৃষ্টির মধ্যে হাঁটতে শুরু করল। পেছনে পড়ে রইল একটা মাটির ভাঁড়।
রিক বুঝতে পারলো—জীবনের সবচেয়ে দামি জিনিসগুলো সবসময় দামি হয় না। #story #trending #👉 অজানা গল্পের কাহিনী 😜😜
7 shares