PRATHAM ALOR BARTA
552 views
তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মীসভায় ঝাঁটা দিয়ে তাড়ানোর নিদান বিধায়কের"যা তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ছড়াল। সভামঞ্চে বিএলএ–২ কর্মীদের সংবর্ধনা চলাকালীন বক্তব্য রাখতে গিয়ে বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূলের বিধায়ক ডাঃ সপ্তর্ষি বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল সমালোচনা। তার বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যেমন শোরগোল পড়েছে, তেমনই প্রশ্ন উঠছে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব ও ভাষার শালীনতা নিয়েও। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওই চিকিৎসক বিধায়ক বলেন, ভোটের আগে যারা বাংলার মা-বোনেদের অপমান করে, তারা ভোটের পরে বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করবে। সেই সঙ্গে ‘ঝাঁটা’ হাতে নিয়ে ভোট-সম্পর্কিত মাফিয়াদের তাড়ানোর কথাও তিনি প্রকাশ্যে বলেন। তার এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে সভাস্থল ছাড়িয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধীদের দাবি, এই বক্তব্য সরাসরি হিংসা ও ঘৃণার উস্কানি এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে বিপজ্জনক। বিরোধী শিবিরের মতে, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মুখে এ ধরনের ভাষা সাংবিধানিক শালীনতার পরিপন্থী। ভোট প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক বিরোধকে এভাবে ‘ঝাঁটা’ ও ‘শ্মশান’-এর মতো শব্দে ব্যাখ্যা করা আসলে ভিন্নমত দমন করার মানসিকতাকেই প্রকাশ করে। তাদের অভিযোগ, শাসকদলের নেতারা ধারাবাহিকভাবে এমন আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছেন, যার ফল সমাজে বিভাজন ও অস্থিরতা। অন্যদিকে শাসক শিবিরের একাংশের দাবি, বিধায়কের বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তাদের মতে, তিনি দুর্নীতি ও ভোটে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতীকী ভাষায় কথা বলেছেন। তবে সেই যুক্তি মানতে নারাজ সমালোচকরা। তাদের বক্তব্য, প্রতীকী হলেও একজন বিধায়কের মুখে এমন শব্দচয়ন জনমানসে ভুল বার্তা দেয় এবং রাজনৈতিক হিংসাকে পরোক্ষে বৈধতা দেয়। এই ঘটনার পর বসিরহাট রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ—সব জায়গাতেই চলছে আলোচনা ও পাল্টা আক্রমণ। প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াইয়ে ভাষার সীমারেখা কোথায় টানা উচিত এবং জনপ্রতিনিধিরা আদৌ কতটা দায়িত্বশীল আচরণ করছেন। বিতর্ক যত বাড়ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—এই বক্তব্য শুধু একটি সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বাংলার রাজনীতিতে ভাষা ও সহনশীলতার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। #political #প্রথমআলোরবার্তা #prathamalorbarta