এক নজরে প্রথম দফার প্রার্থীদের জীবনপঞ্জী - লজ্জায় অনেকটাই মাথা নেমে যায়
বিধানসভা ভোটে প্রতিদ্বান্দ্বীতা করতে চলেছেন, অথচ সেই অর্থে সম্পূর্ণ নিরক্ষর এমন প্রার্থী ঝখন দাঁড়ান, তখন বাংলার শিক্ষার দৈন্যের কথা বোঝা যায়। নির্বাচন কমিশন অফিস সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফার ১৫২ টি কেন্দ্রে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের মধ্যে ১৪ জন প্রার্থীই নিরক্ষর। নাম সই পর্যন্ত করতে পারেন না। বিশ্বাস হচ্ছে না? বিশ্বাস না হলে আবার পড়ন। যাঁদের ভোট দিয়ে রাজ্যের বিধানসভায় পাঠাবেন সাধারণ মানুষ, তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখে পিলে চমকানোর জোগাড়। সম্প্রতি প্রার্থীরা যে হলফনামা জমা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে, তা বিশ্লেষণ করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস। সেখানকার তথ্যেই দেখা যাচ্ছে, ১৪ জন প্রার্থী নিরক্ষর। ২৯ জন নাম সইটুকু করতে পারেন। মানে স্বাক্ষর। ভোটে লড়া প্রার্থীদের মধ্যে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করেছেন ৩২জন। আর অষ্টম শ্রেণি পাশ করে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন ১৮০ জন। এই তথ্য দেখে অনেকেই হয়তো ভুরু কোঁচকাবেন। তবে এখানেই শেষ নয়, ক্লাস টেন পাস করে এবার ভোটে দাঁড়িয়েছেন ২৪৬ জন। এই পরিসংখ্যান আমাদের লজ্জা দিচ্ছে। বোঝাই যায়, এখানে শিক্ষা থেকেও প্রাধান্য পেয়েছে রাজনীতি।
যে দেশে শিক্ষার এই হাল, সেই দেশে যে খুবই বেশি দূর এগোতে পরনে বলে মনে হয় না। তাই এই মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলোকে লড়াই করা উচিৎ শিক্ষা, স্বাস্থ্যর জন্য, ধর্ম ও রাজনীতির জন্য নয়। এবার নির্বাচনে ৭০টির বেশি দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে মোট ১৪৭৫ জন প্রার্থী। তবে বেশিরভাগেরই যে পড়াশোনা নেই, তেমন নয়। এই প্রার্থীদের মধ্যে স্নাতক প্রার্থী রয়েছেন ৩৬১জন। আর স্নাতকোত্তর প্রার্থী ২২৫ জন। ডক্টরেট প্রার্থীও আছেন সেই তালিকায়। সংখ্যাটা ২০। এবারের এই প্রার্থীদের বয়সসীমার ভিত্তিতে যে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে প্রথম দফার ভোটে ২৫-৩০ বছর বয়সি প্রার্থী রয়েছে ১০৩ জন। ৩১-৪০ বছর বয়সি ৩৪৭, ৪১-৫০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৪৫৩ জন প্রার্থী। ৭১-৮০ বছর বয়সিদের মধ্যে ৪৯ জন। এবং সবচেয়ে প্রবীণ ৮১-৮৫ বছর বয়সিদের মধ্যে ২ জন। এবার লড়াইয়ে ১৪৭৫ জন প্রার্থীর মধ্যে পুরুষ প্রার্থী রয়েছেন ১৩০৮ জন, আর মহিলা প্রার্থী ১৬৭জন।
#political
#প্রথমআলোরবার্তা
#prathamalorbarta