#🙂ভক্তি😊 শ্রীশ্রী অদ্বৈত আচার্য প্রভুর আবির্ভাব তিথি 🌼
আজকে পঞ্চতত্ত্বের অন্যতম ভগবান মহাবিষ্ণুর অবতার, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অন্যতম অঙ্গ—গৌর আনা ঠাকুর শ্রীশ্রী অদ্বৈত আচার্য প্রভুর আবির্ভাব তিথি। এই পবিত্র তিথি বৈষ্ণব জগতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তির সাথে পালিত হয়।
শ্রী অদ্বৈত আচার্য প্রভু তাঁর করুণাময় আহ্বান ও অশ্রুধারায় শালগ্রাম শিলার পূজা ও গঙ্গাজলের অর্চনার মাধ্যমে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে এই ধরাধামে অবতীর্ণ হতে আহ্বান করেছিলেন। পতিত জীবের উদ্ধার ও ভক্তিধর্ম প্রচারের জন্য তাঁর ভূমিকা অনন্য ও চিরস্মরণীয়।
তিনি পঞ্চতত্ত্বের মধ্যে ভক্ত-অবতার হিসেবে আমাদের শিক্ষা দেন—নম্রতা, বৈরাগ্য ও নিখাদ ভক্তির মাধ্যমে কীভাবে ভগবানের কৃপা লাভ করা যায়। তাঁর জীবন ও আদর্শ আমাদের নিত্য সাধনা ও ভক্তিজীবনে আলোকবর্তিকা স্বরূপ।
📿 এই পবিত্র তিথিতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপবাস পালন করা হয়।
আসুন, আমরা সকলে ভক্তিসহকারে হরিনাম সংকীর্তন, শাস্ত্র পাঠ ও প্রভুর চরণে প্রার্থনার মাধ্যমে এই শুভ দিনটি যথাযথভাবে উদযাপন করি
🙏 শ্রী অদ্বৈত আচার্য প্রভুর কৃপায় আমাদের হৃদয়ে চিরস্থায়ীভাবে ভক্তির প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত হোক।
জয় শ্রী অদ্বৈত আচার্য প্রভু!
জয় শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু! 🌺
জয় শ্রীল প্রভুপাদ
#🙂ভক্তি😊 জড় জগতে সরস্বতী দেবীর আবির্ভাব হয়েছিল?
পঞ্চমবেদ রুপে প্রসিদ্ধ অষ্টাদশ মহা পুরাণের মধ্যে ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ শাস্ত্রের প্রকৃতিখন্ডে কেন বিষ্ণুপত্নী মূল সরস্বতী তাঁর অংশরুপে বিনাশশীল এ জড় জগতে ব্রহ্মার পত্নী এবং নদীরুপে আবির্ভূূত হয়েছিলেন তার স্পষ্ট বর্ণনা প্রদান করা হয়েছে। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হল-
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ, প্রকৃতিখন্ড ৬/১২- ৫৩ শ্লোকের
বর্ণনা অনুযায়ী, চিন্ময় জগতের বৈকুণ্ঠে পরমেশ্বর শ্রীবিষ্ণুর তিন পত্নি-লক্ষ্মী,সরস্বতী এবং গঙ্গা সর্বদা প্রভু নারায়নের প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত। একবার বৈকুন্ঠ জগতে গঙ্গা এবং সরস্বতীর মাঝে মনোমালিন্য হয়। তাতে গঙ্গা সরস্বতী দেবীকে পৃথিবীতে নদীরূপে পতিত হওয়ার জন্য অভিশাপ প্রদান করেন। আর সরস্বতী দেবীও গঙ্গাকে অভিশাপ প্রদান করেন এই বলে যে, সে যেন নদীরুপে পৃথিবীতে পতিত হয়ে পাপীদের পাপ গ্রহণ করে।সে সময় ভগবান শ্রীবিষ্ণু সেখানে এসে উপস্থিত হন এবং সমস্ত ঘটনা শ্রবণ করে দুঃখ প্রকাশ করে গঙ্গা এবং সরস্বতীকে বলেন-
গঙ্গে যাস্যসি পশ্চাৎ ত্বমংশেন বিশ্বপাবনী।
ভারতং ভারতীশাপাৎ পাপদাহায় দেহিনাম্ ॥৪৯।।
ভগীরথস্য তপসা তেন নীতা সুদুষ্করাৎ।
নায়া ভাগীরথী পুতা ভবিষ্যসি মহীতলে ॥ ৫০।।
মদংশস্য সমুদ্রস্য জায়া জায়ে মমাজ্ঞয়া।
মৎকলাংশস্য ভূপস্য শান্তনোশ্চ সুরেশ্বরি॥ ৫১।।
- (ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণঃ প্রকৃতিখন্ড ৬/৪৯-৫১)
অনুবাদঃ হে গঙ্গে। তুমি সরস্বতীর অভিশাপ বশতঃ তোমার অংশরূপে বিশ্বপাবনী হয়ে শরীরী জীবের পাপরাশি ভস্মসাৎ করার নিমিত্তে ভারতে অবতীর্ণ হবে। ভগীরথ কঠোর তপস্যা দ্বারা তোমাকে পৃথিবীতে অবতীর্ণ করাবে। সেই জন্য তোমার নাম ভাগীরথী নামে ভূমণ্ডলে বিখ্যাত হবে। হে প্রিয়ে সুরেশ্বরি! তুমি আমার আজ্ঞানুসারে ভূতলে গমন করে আমার অংশভূত সমুদ্রের এবং অংশের অংশ-সম্ভূত শান্তনুরাজার সহধর্মিণী হয়ে কিছুকাল অবস্থান কর।
গঙ্গাশাপেন কলয়া ভারতং গচ্ছ ভারতি।
কলহস্য ফলং ভুঙৃক্ষ্ব সপত্নীভ্যাং সহাচ্যুতে ॥ ৫২।।
স্বয়ঞ্চ ব্রহ্মসদনং ব্রহ্মণঃ কামিনী ভব।৫৩
- (ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণঃ প্রকৃতিখন্ড ৬/৫২-৫৩)
অনুবাদঃ হে সরস্বতী ! তুমিও গঙ্গার অভিশাপ বশতঃ নদীরুপে ধরাতে গমন কর।এবং তোমার অংশরূপে সপত্নীসহ কলহের ফলভোগ কর। স্বয়ং ব্রহ্মার সমীপে গমন করে তাঁহার সহধর্মিণী হও।"
এরপর গঙ্গার অভিশাপে সরস্বতী তাঁর একটি অংশরুপে পৃথিবীতে সরস্বতী নদীরুপে আবির্ভূত হন এবং অপর অংশে নারায়নের ইচ্ছায় ব্রহ্মার পত্নীরুপে বৈদিক শাস্ত্রসমূহের রক্ষা ও সৃষ্টিকার্যে ব্রহ্মাকে সাহায্য কল্পে ব্রহ্মার মুখ থেকে তাঁর পত্নিরুপে আবির্ভূত হন।
#🙂ভক্তি😊 নদীয়ালীলায় শ্রীমন্মহাপ্রভু কাহাকে গুপ্ত রাখিলেন?
#মহাপ্রভু_কর্তৃক_রাধা_নাম_প্রচার_ও_প্রচ্ছন্ন_রহস্য!
শ্রীমদ্ভাগবতের প্রহ্লাদ স্তুতিতে কলিযুগের অবতার শ্রীমন্মহাপ্রভুর প্রচ্ছন্নতার উল্লেখ রহিয়াছে, যথাঃ- ❝চ্ছন্ন কলৌ❞-ভাঃ ৭/৯/৩৮। কিন্তু শ্রীসাধন দীপিকায় প্রচ্ছন্নত্ত্বের ক্রম ব্যাখ্যা করা হইয়েছেঃ-
" গূঢ়ং পরং ব্রহ্ম মনুষ্যলিঙ্গং (শ্রীভাগবতে ৭/১০/৪৮,৭/১৫/৭৫) ইত্যাদেঃ। ততোহপি গূঢ়তরং শচীনন্দনস্য, ততো গূঢ়োতমং প্রেয়সীনাম্,পরমশক্তিং পার্ষদানাম্;- ৭ম কক্ষা।
অর্থাৎ, মনুষ্যদেহধারী শ্রীভগবান গূঢ় হইলেও,তাহার চাইতেও শ্রীশচীনন্দন গূঢ়তর, তাঁহার চাইতে প্রেয়সীগণ এবং পরমশক্তিগণ গূঢ়তম।
কিন্তু সেই প্রচ্ছন্ন অবতার তাঁহার কোন্ অন্তরঙ্গ পার্ষদকে সংগোপন করিয়াছেন ইহা জ্ঞাতব্য!
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পূর্ণ পরিচয় প্রদান প্রসঙ্গে শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী উল্লেখ করিয়াছেনঃ-
সকল বৈষ্ণব শুন করি এক মন।
চৈতন্যকৃষ্ণের শাস্ত্রমত নিরূপণ।।
কৃষ্ণ গুরুদ্বয় ভক্ত অবতার প্রকাশ।
শক্তি এই ছয়রূপে করেন বিলাস।চৈ,চ ১/১/১৬
অর্থাৎ, পীতবর্ণ গৌরহরি স্বয়ং পঞ্চতত্ত্বরূপে (শ্রীগৌর, শ্রীনিত্যানন্দ , শ্রীঅদ্বৈত, শ্রীগদাধর ও শ্রীবাস) বিলাস করেন। অর্থাৎ এই পঞ্চজনের মধ্যে কে মহাগূঢ়?
★শ্রীগৌর গুপ্ত হইলেও নিজ ভক্তের নিকট ব্যক্ত হনঃ-
আপনা লুকাইতে প্রভু নানা যত্ন করে।
তথাপি তাঁহার ভক্ত জানয়ে তাঁহারে।।-চৈ,চ ১/৩/৬৯
★ শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুঃ-
অতিগূঢ় নিত্যানন্দ এই অবতারে।
শ্রীচৈতন্য যাঁরে জানায় সে জানিতে পারে।-চৈ,ভা ২/৩
শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু গূঢ় হইলেও কিন্তু শ্রীমন্মহাপ্রভুর সর্বসমক্ষে তাঁহার মহিমা ব্যক্ত করিয়াছেন। নন্দনাচার্য্যের গৃহে নিত্যানন্দ মিলন, শ্রীবাসগৃহে নিত্যানন্দের ব্যাসপূজা,তাঁহার প্রসাদী কৌপীন প্রদান প্রভৃতির মাধ্যমে তিনি তাঁহার মহিমা গুপ্ত না রাখিয়া ব্যক্তই করিলেন! যথাঃ-
তিলার্ধেক তোমারে যাহার দ্বেষ রহে।
ভজিলেও সে আমার প্রিয় কভু নহে।।-চৈ,ভা ২/৫
★শ্রীঅদ্বৈত প্রভুঃ- শ্রীমন্মহাপ্রভু নিজমুখে গৌর আনা শ্রীঅদ্বৈত প্রভুর মহিমা ব্যক্ত করিলেনঃ-
অদ্বৈত লাগি মোর এই অবতার।
মোর কর্ণে বাজি আসে নাঢ়ার হুঙ্কার।।
শয়নে আছিনু মুঞি ক্ষীরোদসাগরে।
জাগাই আনিল মোরে নাঢ়ার হুঙ্কারে।।-চৈ, ভা ৩/১০
শ্রীঅদ্বৈত প্রভুর দ্বারা শ্রীরূপ-সনাতনাদিকে প্রেম দান করিয়া তাঁহার মহিমাও সুব্যক্ত করিলেনঃ-
প্রেমভক্তি বাঞ্চা যদি করহ এখনে।
তবে ধরি পড় এই অদ্বৈত চরণে।।
ভক্তির ভাণ্ডারী শ্রীঅদ্বৈত মহাশয়।
অদ্বৈতের কৃপায় সে কৃষ্ণভক্তি হয়।।
শুনিয়া প্রভুর আজ্ঞা দুই মহাজনে।
দণ্ডবৎ পড়িলেন অদ্বৈত চরণে।।
জয় জয় শ্রীঅদ্বৈত পতিতপাবন।
মুই দুই পতিতেরে করহ মোচন।।-চৈ, ভা ৩/১০
★শ্রীবাস পণ্ডিতঃ-
বহুস্থলে শ্রীবাস পণ্ডিতের মহিমাও ভক্তসমাজে ব্যক্ত করিয়াছেনঃ-
বিড়াল কুক্কুর আদি বাড়ির তোমার।
স্থির হইবেক ভক্তি আমাতে সভার।।-চৈ, ভা ২/৮
প্রভু বলে কি বলিলি পণ্ডিত শ্রীবাস।
তোর কি অন্ন দুঃখে হৈব উপবাস।।
যদি কদাচিৎ বা লক্ষ্মী ভিক্ষা করে।
তথাপিও দারিদ্র্য নহিব তোর ঘরে।।-চৈ,ভা ৩/৫/৫৪
★শ্রীগদাধর পণ্ডিতঃ-
শ্রীচৈতন্য ভাগবত ও শ্রীচরিতামৃতে মহাপ্রভু কর্তৃক শ্রীগদাধর পণ্ডিতের মহিমা প্রায় ব্যক্ত হয় নাই বলিলে অত্যুক্তি হয় না! শ্রীনরহরি সরকার শ্রীকৃষ্ণভজনামৃতেঃ-
তথাপি রাধেতি নাম রূপঞ্চ ব্যক্তং ধরণীমণ্ডলে ন প্রকাশিতবান্। শ্রীরাধা গদাধর পণ্ডিত এব, সকলচরিত্রভাবঞ্চ প্রশস্য স্বৈর্বিখ্যাতঃ। তথাপি নাম তস্যাপি রূপঞ্চ নিগূঢ়ং কৃতম্। ভাবৈস্তু রাধাকৃষ্ণমেব গীতবান্,রাধাকৃষ্ণং বিনা কিমন্যং ন বোধয়ামাস।রাধাকৃষ্ণভাবময়ং জগদেব কৃতং, তদেব সম্প্রকাশিতবান্।রাধানাম্নঃ শ্রবণাৎ স্মরণাদ্বিলপিতবান্, রুদিতবান্, প্রমুদিতবান্, নর্ত্তিতবান্,তথাপি সংগোপিতবানেব।
অনুবাদঃ মহাপ্রভু জগতে ❝রাধা❞ এই নাম ও ইহার রূপ স্পষ্টভাবে পৃথিবীতে প্রকাশ করেন নাই। শ্রীগদাধর পণ্ডিতই "রাধা" বলিয়া (মহাপ্রভুর) নিজগণকর্তৃক সকল চরিত্র ও ভাবের প্রশংসাপূর্বক বিশেষভাবে প্রচারিত হইয়াছেন। তথাপি, তাঁহার নাম এবং রূপও বিশেষভাবে গোপন রাখা হইয়াছে। কেবল অনুরাগভরে শ্রীরাধাকৃষ্ণেরই কীর্তন করিয়াছেন, (কাহাকেও) শ্রীরাধাকৃষ্ণ ব্যতীত অপর কাহাকেও (তত্ত্বকে) বুঝান নাই। সমগ্র জগৎকে শ্রীরাধাকৃষ্ণের ভাবময়ই করিয়াছেন এবং তাহাই সম্যকরূপে প্রকাশ করিয়াছেন। শ্রীরাধার নামের শ্রবণে ও স্মরণে বিলাপ, রোদন, প্রমোদ ও নৃত্য করিয়াছেন,তথাপি তাঁহাকে (শ্রীগদাধরকে) সংগোপনই করিয়াছেন।
শ্রীনরহরি সরকার ঠাকুর স্বলিখিত শ্রীকৃষ্ণভজনামৃত গ্রন্থের (৩৯ পৃষ্ঠায় ১২ নং শ্লোকে) অধিক উল্লেখ করিয়াছেন যে,
"-----শ্রীমন্মহাপ্রভু যেই প্রকার সর্ব অবতার শিরোমণি, গৌরশক্তি শ্রীল গদাধর পণ্ডিত গোস্বামীও সেইরূপ সমগ্র বৈভবময়ী লক্ষ্মীসমূহের প্রধানা কিংবা (স্ত্রী) ভগবৎকান্তা সমূহের শিরোমণি!------"
"শ্রীগদাধর পণ্ডিতস্তু যথা শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যঃ সর্বাবতার প্রকাশভূমি স্তথা সকল বৈভবময় শ্রী-সমূহপ্রধানভূতঃ।...ততস্তত্রৈব পণ্ডিত দেহে রাধাভাবেন বিলাসং কুরুতে। বৈভবপক্ষ চাতুর্যে লক্ষ্মী, রুক্মিণী, সীতা, কাত্যায়নী পরমপ্রেয়সী, সর্বময়স্তু পণ্ডিত এব!"
শ্রীকৃষ্ণভজনামৃতে গৌর-গদাধরের মিলনের সত্যতা ও নিত্যত্বঃ-
কৃষ্ণস্যোদাসীনভাবেন বিলাসবিনোদময় সকল স্বভাবস্তেন রাধাকৃষ্ণ মিলনমেব সত্যম্।তথা ❝শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য-গদাধর পণ্ডিত- মিলনম্ ( এব সত্যম্)❞ ইতি।ভক্তানামিদমেব সত্যম্ জীবনঞ্চেতি।।
অনুবাদঃ কৃষ্ণের সমগ্র স্বভাবটি, (অন্য) নিরপেক্ষরূপে বিলাসবিনোদনময়, সেইহেতু শ্রীরাধাকৃষ্ণের মিলনই সত্য বস্তু। তদ্রুপ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ও শ্রীগদাধর পণ্ডিতের মিলনও সত্য ইহাই ভক্তগণের নিকট যথার্থ বস্তু এবং জীবন বটে।।
শ্রীল কর্ণপূরের সিদ্ধান্ত অনুসারে গৌরগণোদ্দেশ দীপিকায় বলিয়াছেনঃ-
শ্রীরাধা প্রেমরূপা যা পুরা বৃন্দাবনেশ্বরী।
সা শ্রীগদাধরো গৌরবল্লভঃ পণ্ডিতাখ্যকঃ।।১৪৭
পূর্বে যিনি বৃন্দাবনেশ্বরী প্রেমরূপা শ্রীরাধা ছিলেন, তিনিই অধুনা গৌরবল্লভ শ্রীগদাধর পণ্ডিত গোস্বামী।
সুতারাং শ্রীশ্রীগৌর-গদাধর যুগলই কলিকালের একমাত্র মুখ্য বিষয় কিন্তু ভক্তবাক্য রক্ষার্থে চ্ছন্ন।
জয় গৌর-গদাধর জয় নিত্যানন্দ
শ্রীঅদ্বৈত শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ।।
#🙂ভক্তি😊 ষটতিলা একাদশী ও মকর সংক্রান্তি — এক মহাপুণ্য যোগ 🪁🕉️
📅 ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | বুধবার
এবছর এক বিরল ও পুণ্যময় সংযোগ—
ত্যাগের ষটতিলা একাদশী ব্রত
উৎসবের মকর সংক্রান্তি (পৌষ সংক্রান্তি)
একই দিনে সংঘটিত হচ্ছে 🙏
🔸 একাদশী দিনে পিঠাপুলি ভোজন করবেন কি?
❌ না। একাদশী ব্রতদিনে পিঠাপুলি ভোজন করা যাবে না।
✅ ব্রতের পরদিন পারণের সময় গ্রহণ করবেন।
🔸 সংক্রান্তির বিধিনিয়ম পালন করা যাবে কি?
✅ হ্যাঁ, একাদশী ব্রত অক্ষুণ্ণ রেখে সংক্রান্তির সকল বিধি পালন করা যাবে।
🔸 কোন তিল উত্তম?
⚫ কালো তিল সর্বাধিক শুভ।
তিল দ্বারা স্নান, পূজা, অর্ঘ্য, দান এবং তিলের নাড়ু, পিঠা, সন্দেশ, পায়েস প্রভৃতি প্রস্তুত করা বিশেষ পুণ্যদায়ক।
🙏 সম্ভব হলে শুদ্ধ ব্রাহ্মণ / বৈষ্ণব / মন্দিরে তিল দান করুন।
🍽️ ভোগ নিবেদন
বুধবার বা বৃহস্পতিবার (অথবা উভয় দিনেই)
তিলের নাড়ু, পিঠা, সন্দেশ, পায়েস প্রভৃতি
ভগবানকে নিবেদন করা যেতে পারে 🙌
🌞 মকর সংক্রান্তি মহাপুণ্য কাল
🇮🇳 ভারত: বিকেল ৩:১৩ – ৫:০২
🇧🇩 বাংলাদেশ: বিকেল ৩:৪৩ – ৫:৩২
🌊 গঙ্গাস্নানের মহাপুণ্য তিথি (বাংলাদেশ)
🕰️ বুধবার দুপুর ১:৩৮ ➝ বৃহস্পতিবার দুপুর ১:৩৮
👉 গঙ্গাসাগর যেতে না পারলে—
যেকোনো পবিত্র নদী/জলাশয়ে স্নান করুন
অথবা বাড়িতে স্নানের সময় ৩ বার “গঙ্গা” উচ্চারণ করুন।
🙏 আসুন সকলে মিলিতভাবে—
একাদশী ব্রত পালন,
ভগবানের সেবাপূজা,
হরিনাম জপ ও কীর্তন,
দান, শাস্ত্র অধ্যয়ন, তুলসী পূজন ও গঙ্গাস্নানের মাধ্যমে
ভগবানের বিশেষ কৃপাশীর্বাদ লাভ করি।
🙌 হরে কৃষ্ণ 🙏
#🙂ভক্তি😊
*#অজানা_পৌরাণিক_কাহিনী*
📌 মকর সংক্রান্তি বা পৌষ সংক্রান্তিতে ঘুড়ি ওড়ানো একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং আনন্দদায়ক প্রথা। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে গুজরাট, রাজস্থান এবং পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটিতে আকাশ রঙিন ঘুড়িতে ভরে ওঠে। 🕉️🙏🕉️
এই প্রথার পেছনে বৈজ্ঞানিক কারণের পাশাপাশি সুন্দর কিছু পৌরাণিক কাহিনীও জড়িয়ে আছে। বিস্তারিত আলোচনা করা হলো : 👇👇👇
📌 ১. পৌরাণিক কাহিনী: শ্রী রামচন্দ্র ও ঘুড়ি
সবচেয়ে প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনীটি তুলসীদাসের 'রামচরিতমানস'-এ পাওয়া যায়। 🚩🕉️🙏
✅ * কাহিনী : ত্রেতা যুগে ভগবান শ্রী রামচন্দ্র মকর সংক্রান্তির দিনেই প্রথম ঘুড়ি উড়িয়েছিলেন বলে বর্ণিত আছে। বলা হয়, শ্রী রাম যখন ঘুড়ি ওড়াচ্ছিলেন, তখন সেই ঘুড়িটি উড়তে উড়তে দেবলোকে ইন্দ্রের সভায় গিয়ে পৌঁছায়। 🚩🚩🕉️🙏
✅ * ইন্দ্রের পুত্রবধূর কৌতূহল: ইন্দ্রের পুত্রবধূ (জয়ন্তের স্ত্রী) সেই সুন্দর ঘুড়িটি দেখতে পান এবং সেটি ধরে নিজের কাছে রেখে দেন। তিনি ভাবেন, যে ব্যক্তি এত সুন্দর ঘুড়ি উড়িয়েছেন, তিনি নিশ্চয়ই দেখতে আরও সুন্দর হবেন। তাই তিনি ঘুড়িটি আটকে রাখেন যাতে সেই ব্যক্তিকে তিনি দেখতে পান।
✅ * হনুমানজীর ভূমিকা: রামচন্দ্র যখন দেখেন ঘুড়ি ফিরছে না, তখন তিনি হনুমানজীকে পাঠান ঘুড়িটি খুঁজতে। হনুমানজি ইন্দ্রলোকে গিয়ে ঘুড়ি ফেরত চাইলে ইন্দ্রের পুত্রবধূ শর্ত দেন যে, তিনি শ্রী রামের দর্শন পেলেই ঘুড়ি ফেরত দেবেন। অবশেষে শ্রী রাম তাকে দর্শন দেন এবং ঘুড়িটি ফেরত পান।
এই কাহিনী থেকেই বিশ্বাস করা হয় যে, মকর সংক্রান্তিতে ঘুড়ি ওড়ানোর প্রথাটি প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে এবং এটি শুভ ও আনন্দের প্রতীক।
📌 ২. বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত কারণ 🕉️☀️🕉️
প্রাচীন ঋষিরা উৎসবের সাথে বিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন। ঘুড়ি ওড়ানোর পেছনে একটি বড় স্বাস্থ্যগত কারণও রয়েছে :
✅ * সূর্যের তাপ গ্রহণ : মকর সংক্রান্তির সময় শীতকাল থাকে। দীর্ঘ শীতের পর সূর্যের উত্তরায়ন শুরু হয়, অর্থাৎ সূর্য উত্তর গোলার্ধের দিকে সরে আসে। এই সময় সূর্যের রশ্মি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। 🌻☀️🌻🌿
✅ * রোগমুক্তি: মানুষ যখন খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘক্ষণ ঘুড়ি ওড়ায়, তখন তারা সরাসরি সূর্যের সংস্পর্শে আসে। এই সূর্যালোক ত্বকের নানা সংক্রমণ ও শীতকালীন অসুস্থতা দূর করতে এবং শরীরে ভিটামিন-ডি এর অভাব পূরণ করতে সাহায্য করে।
📌 ৩. আধ্যাত্মিক ও প্রতীকী অর্থ
✅ * সূর্য দেবতার প্রতি কৃতজ্ঞতা : ঘুড়িকে সূর্যের দিকে ওড়ানো হয়, যা সূর্য দেবতার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের প্রতীক। মনে করা হয়, ঘুড়ির মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের কাছে আমাদের বার্তা ও প্রার্থনা পৌঁছে দিচ্ছি। ☀️🙏☀️
✅ * উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও মুক্তি : ঘুড়ি আকাশের অনেক উঁচুতে ওড়ে। এটি মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, আত্মার উন্নতি এবং জাগতিক বন্ধন থেকে মুক্তির প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়। 'কাটা ঘুড়ি' যেমন মুক্ত হয়ে অসীমে ভেসে যায়, মানুষও তেমনই মোক্ষ লাভের কামনা করে। 🌀🌏🌻
📌📌📌 🙏🕉️উপসংহার🕉️🙏
মকর সংক্রান্তিতে ঘুড়ি ওড়ানো কেবল একটি খেলা নয়, এটি প্রকৃতির পরিবর্তনের সাথে মানুষের সংযোগ, ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি এবং স্বাস্থ্যের উন্নতির একটি সম্মিলিত উদযাপন। গুজরাটে একে 'উত্তরায়ণ' বলা হয় এবং সেখানে "কাই পো চে" ধ্বনিতে আকাশ মুখরিত হয়। 🌻🌾🌾🌻🌸
মকর সংক্রান্তি বা পৌষ সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতির পাশাপাশি সারা ভারতেই অত্যন্ত ধুমধামের সাথে পালিত হয়। ঘুড়ি ওড়ানো ছাড়াও এই দিনটিতে পালন করা হয় এমন কিছু বিশেষ আচার ও প্রথার মাধ্যমে
📌 ১. পিঠে-পুলি ও নবান্ন উৎসব (পৌষ পার্বণ)
বাঙালিদের কাছে এই দিনটি মূলত ‘পৌষ পার্বণ’ নামেই পরিচিত। 🌾🌻🌾
✅ * পিঠে-পুলি: এই দিনে বাঙালির ঘরে ঘরে নতুন চালের গুঁড়ো, খেজুর গুড় (নলেন গুড়) এবং নারকেল দিয়ে নানা স্বাদের পিঠে তৈরি হয়। পাটিসাপটা, দুধ পুলি, গোকুল পিঠে, চসি পিঠে ইত্যাদি তৈরি করে দেবতাকে নিবেদন করা হয় এবং আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়ানো হয়। 💠🌻💠⛅
✅ * নবান্ন: গ্রাম বাংলায় নতুন ধান কাটার পর সেই চাল দিয়ে প্রথম রান্না বা পায়েস তৈরি করে ইষ্টদেবতা ও লক্ষ্মী দেবীকে অর্পণ করা হয়। এটি সমৃদ্ধির প্রতীক।
📌 ২. গঙ্গাসাগর স্নান ও পুণ্যস্নান
মকর সংক্রান্তির দিন ভোরবেলা নদী বা সাগরে স্নান করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। 🌊⛅
✅ * গঙ্গাসাগর মেলা : পশ্চিমবঙ্গে এই দিনে গঙ্গাসাগরে (যেখানে গঙ্গা নদী বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে) লক্ষ লক্ষ মানুষ পুণ্যস্নানের জন্য সমবেত হন। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে ওখানে স্নান করলে সমস্ত পাপ ধুয়ে যায় এবং পুণ্য লাভ হয়। 🕉️☀️🌊🕉️
✅ * সূর্য প্রণাম : স্নানের পর সূর্য দেবতাকে অর্ঘ্য (জল) প্রদান করা এবং প্রার্থনা করা এই দিনের একটি প্রধান নিয়ম। 🙏☀️🙏
📌 ৩. টুসু পূজা
পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মেদিনীপুর এবং ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন অঞ্চলে এই সময় ‘টুসু পরব’ বা টুসু পূজা হয়। ☀️🌺☀️
✅ * এটি মূলত একটি লোকউৎসব। অগ্রহায়ণ মাসের শেষ দিন থেকে পৌষ মাসের শেষ দিন পর্যন্ত অবিবাহিত মেয়েরা টুসু দেবীর আরাধনা করে। সংক্রান্তির দিন টুসু বিসর্জন দেওয়া হয় এবং মেলা বসে। 🪴🎉🌻🌾
📌 ৪. 'আওনি-বাওনি' বা শস্য বন্ধন
গ্রাম বাংলার অনেক জায়গায় সংক্রান্তির দিন বা তার আগের দিন ক্ষেতের পাকা ধান বা শস্যের গোছাকে খড় দিয়ে বিশেষ কায়দায় বাঁধা হয়। একে 'আওনি-বাওনি' বলা হয়।
✅ * ছড়া কেটে বলা হয়: "আওনি বাওনি চাউল কর, দিন থাকতে ঘরে ফির..." 🌾🍃🌾
✅ * এর অর্থ হলো, শস্য যেন লক্ষ্মীরূপে গৃহস্থের ঘরে বাঁধা থাকে এবং ভাণ্ডার সবসময় পূর্ণ থাকে।
📌 ৫. দান ও ধ্যান
শাস্ত্র মতে, মকর সংক্রান্তির দিন দান করা অত্যন্ত পুণ্যের কাজ। 🌿🌻🌿
✅ * এই দিনে তিল, গুড়, কম্বল বা গরম কাপড় এবং খিচুড়ি দান করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে দান করলে তার ফল বহুগুণে ফিরে পাওয়া যায়। 🌻🌾🌻
📌 ৬. ভারতের অন্যান্য প্রান্তে
* লোহরি (পাঞ্জাব): সংক্রান্তির আগের রাতে আগুন জ্বালিয়ে নতুন শস্য, বাদাম ও ভুট্টার খই আগুনে অর্পণ করা হয়। 🌾🌿🌾
✅ * পোঙ্গল (তামিলনাড়ু): এখানেও নতুন চাল, গুড় ও দুধ দিয়ে বিশেষ পায়েস (পোঙ্গল) রান্না করে সূর্যকে নিবেদন করা হয়। 🌾🍃🌾
✅ * বিহু (আসাম): আসামে এই সময় ভোগালি বিহু পালিত হয়, যা মূলত ভোজ বা খাওয়ার উৎসব।
মকর সংক্রান্তি মূলত ঋতু পরিবর্তন এবং নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দ। প্রকৃতি ও সূর্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোই এর মূল উদ্দেশ্য।। ☀️🕉️☀️
#🙂ভক্তি😊 নিঃসন্তান ও স্বজনহীনের গতি কি হবেঃ──
·٠•●⊰🌀💠🌀⊱●•٠·
🍃🌷 একবার পক্ষীরাজ গরুড় বৈকুন্ঠ ধামে শ্রীহরি বিষ্ণুর চরণসেবা করছিলেন। হঠাৎ গরুড়দেবের মনে মর্ত্যলোকের মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা ভেসে উঠল। তিনি দেখলেন, সংসারে যার পুত্র আছে, স্বামী আছে, তার মৃত্যুর পর পিণ্ডদান করার লোক আছে। কিন্তু যার কেউ নেই, তার কী হবে?
·٠•●∞| ✠ |∞●•٠·
🍃🌷 গরুড় জোড়হাতে ভগবান বিষ্ণুকে প্রশ্ন করলেনঃ──
"হে প্রভু! শাস্ত্রে বলা আছে 'পুৎ' নামক নরক থেকে যে ত্রাণ করে, সেই পুত্র। কিন্তু সংসারে এমন অনেক নারী বা পুরুষ আছেন যারা নিঃসন্তান, স্বামীহীন বা স্বজনহীন। তাদের মৃত্যুর পর কে পিণ্ড দেবে? তাদের আত্মার সদগতি বা মুক্তি কীভাবে হবে? তারা কি তবে অনন্তকাল প্রেতযোনিতে ঘুরে বেড়াবে?"
·٠•●∞| ✠ |∞●•٠·
⚜️ ভগবান বিষ্ণু গরুড়ের এই করুণাময় প্রশ্ন শুনে স্মিতহাস্য করলেন এবং অত্যন্ত গূঢ় এক সত্য প্রকাশ করলেন।
"হে পক্ষীশ্রেষ্ঠ! তুমি ঠিকই বলেছ যে পুত্র পিণ্ডদান করলে জীবের তৃপ্তি হয়। কিন্তু জানো, আমার প্রতি ভক্তিই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ পিণ্ড। যার কেউ নেই, আমি স্বয়ং তার ভার গ্রহণ করি।"
⚜️ভগবান বিষ্ণু একটি শ্লোকের মাধ্যমে পরম সত্যটি ব্যাখ্যা করলেন:
·٠•●∞| #শ্লোক |∞●•٠·
ন দানৈঃ ন চ ইজ্যাভিঃ ন চ পুত্ৰৈঃ ন বান্ধবৈঃ।
তস্যোদ্ধারো ভবেৎ পক্ষিন্ যস্য ভক্তিঃ মায়ি স্থিরা।।
·٠•●∞| ✠ |∞●•٠·
⚜️ হে পক্ষীরাজ! প্রচুর দান, যজ্ঞ, পুত্র বা বান্ধব—এদের দ্বারা জীবের প্রকৃত উদ্ধার হয় না। যার আমার (ঈশ্বরের) প্রতি অচলা ভক্তি আছে, তার উদ্ধারের দায়িত্ব আমি স্বয়ং গ্রহণ করি।
·٠•●⊰🌀💠🌀⊱●•٠·
⚜️ অনাথের নাথ জগন্নাথঃ──
🍃🌷ভগবান বিষ্ণু বিষয়টি বুঝিয়ে বলার জন্য একটি প্রাচীন (তত্ত্বকথা) বললেনঃ──
একবার এক বৃদ্ধা ব্রাহ্মণী ছিলেন, যার স্বামী বা পুত্র কেউই ছিল না। তিনি অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন এবং সারাজীবন এই চিন্তায় কাঁদতেন যে,
"আমার মৃত্যুর পর কে আমার শ্রাদ্ধ করবে? কে আমাকে এক গণ্ডুষ জল দেবে?"
🍃🌷একদিন তিনি তার কুঁড়েঘরে বসে কাঁদছেন, এমন সময় এক দিব্য ঋষি সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি বৃদ্ধাকে বললেন, "মা, তুমি কাঁদছ কেন?"
🍃🌷 বৃদ্ধা বললেন, "বাবা, আমি বড়ই অভাগা। আমার পিণ্ড দেওয়ার কেউ নেই। আমার কি নরকবাস হবে?"
🍃🌷 ঋষি তখন গরুড় পুরাণের সারকথা তাকে বুঝিয়ে বললেন। তিনি বললেনঃ──
"মা, যার লৌকিক পুত্র নেই, তার জন্য শাস্ত্র তিনটি পথের কথা বলেছে:
🔸১. #ভক্তিযোগঃ── যে ব্যক্তি মৃত্যুর আগে গোবিন্দ বা হরিকথা শ্রবণ করেন এবং ঈশ্বরের নাম জপ করেন, তার কোনো পিণ্ডের প্রয়োজন হয় না। স্বয়ং যমরাজ তাকে স্পর্শ করতে পারেন না।
🔹২. #জীবিত_শ্রাদ্ধঃ── গরুড় পুরাণ অনুসারে, যার কেউ নেই, তিনি জীবিত থাকাকালেই নিজের শ্রাদ্ধ নিজে করে যেতে পারেন। একে *'জীবৎশ্রাদ্ধ'* বলে।
💠৩. #জগৎ_সংসারই_পরিবারঃ── তুমি তোমার সাধ্যমতো ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও, পশুপাখিকে জল দাও। এই নিঃস্বার্থ দানই তোমার পারলৌকিক পাথেয় হবে।"
·٠•●∞| ✠ |∞●•٠·
⚜️ ভগবান বিষ্ণু গরুড়কে বললেন, "হে গরুড়! ওই বৃদ্ধা আমার ওপর ভরসা করে শেষ জীবনে নাম জপে মন দিলেন। যেদিন তিনি দেহত্যাগ করলেন, সেদিন তার সংস্কার করার জন্য কোনো লৌকিক পুত্র ছিল না বটে, কিন্তু আমার পার্ষদগণ (বিষ্ণুদূত) এসে তাকে সসম্মানে বৈকুন্ঠে নিয়ে গেলেন। কারণ, যে আমাকে পিতা, মাতা, বন্ধু বলে মেনে নেয়, আমিই তার পুত্র হয়ে তার সমস্ত কর্মভার গ্রহণ করি।"
·٠•●⊰🌀💠🌀⊱●•٠·
🍃🌷 রামায়ণেও আমরা দেখি,
গৃধ্ররাজ জটায়ুর কোনো সন্তান ছিল না। কিন্তু তিনি যখন রামের সেবায় প্রাণ দিলেন, তখন স্বয়ং ভগবান শ্রীরামচন্দ্র তার 'পুত্র' হয়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন।
·٠•●∞| #শ্লোক |∞●•٠·
অনাথস্য জগন্নাথঃ ত্রাতা ভবতি সর্বদা।
যস্য নাস্তি গতিঃ কাচিৎ তস্য গতিঃ জনার্দনঃ।।
·٠•●∞| ✠ |∞●•٠·
⚜️ যার কেউ নেই (অনাথ), জগন্নাথ (জগতের নাথ) সর্বদা তার ত্রাতা হন। যার কোনো গতি নেই, শ্রীহরি জনার্দনই তার একমাত্র গতি।
·٠•●⊰🌀💠🌀⊱●•٠·
⚜️ #পরামর্শ_ও_সান্ত্বনাঃ──
আপনি নিজেকে একা ভাববেন না। গরুড় পুরাণ শাস্ত্র অনুযায়ী আপনার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু করণীয় আছে যা করলে আপনি নিঃসংশয়ে সদ্গতি লাভ করবেন।
🏵️ ১. #ইষ্টনাম_জপঃ── সংসারে লৌকিক স্বামী বা সন্তান নশ্বর, তারা আজ আছে কাল নেই। কিন্তু ঈশ্বর অবিনশ্বর। আপনি রোজ নিয়ম করে ইষ্টনাম জপ করুন। গীতায় ভগবান বলেছেন, "যে আমাকে স্মরণ করে দেহত্যাগ করে, সে আমাকেই পায়।"
🏵️ ২. #সেবা_ও_দানঃ── আপনার সাধ্যমতো পশুপাখিকে (যেমন কুকুর, বিড়াল বা পাখিকে) খাবার দিন। গরুড় পুরাণে বলা হয়েছে, ক্ষুধার্ত প্রাণীকে অন্ন দিলে তা সরাসরি পিতৃপুরুষ ও ঈশ্বরের কাছে পৌঁছায়।
🏵️৩. #মানস_পূজাঃ── নিজেকে ঈশ্বরের চরণে সমর্পণ করুন। ভাবুন যে, ঈশ্বরই আপনার পিতা, তিনিই আপনার সন্তান।
যার স্বামী বা সন্তান নেই, তার বন্ধন অনেক কম। তার জন্য ঈশ্বরের কাছে যাওয়া অনেক সহজ। আপনি 'অভাগা' নন, আপনি ঈশ্বরের বিশেষ কৃপাপ্রার্থী। যিনি দ্রৌপদীকে ভরা সভায় রক্ষা করেছেন, যিনি জটায়ুর সৎকার করেছেন— সেই ঈশ্বর আপনারও হাত ধরে আছেন। নির্ভয়ে তাঁর নাম নিন, আপনার গতি নিশ্চিতভাবেই মঙ্গলের হবে।
•──•●✦|| হরিবোল ||✦●•──•
┄❈❥ًً❀──●❀🌹🍒🌻
"হরে"কৃষ্ণ"হরে"কৃষ্ণ"কৃষ্ণ"কৃষ্ণ"হরে"হরে।"
"হরে"রাম"হরে"রাম"রাম"রাম"হরে"হরে।।"
┄❈❥ًً❀──●❀🌹🍒🌻
🧚♂️𝄞⋆⃝ 🧚♂️𝖍𝖆𝖗𝖎𝖇𝖔𝖑🧚♂️𝄞⋆⃝🧚♂️
━───────⊱❉✸❉⊰────────━
⚜️জয় শ্রীরাধাকৃষ্ণ⚜️
🙏🏻 👣👣🙏🏻
#হরেকৃষ্ণ_হরেকৃষ্ণ_কৃষ্ণকৃষ্ণ_হরেহরেঃ #সনাতন_ধর্ম #রাধে_রাধে #শ্রীকৃষ্ণ
#🙂ভক্তি😊 ভক্তের কাছে ভগবানের উপস্থিতিই কি জীবনের একমাত্র আনন্দ?💐💐🌷🌷
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রত্যাবর্তন ও ভক্ত-মিলন
দীর্ঘ দুই বছর দক্ষিণ ভারত ভ্রমণ শেষে মহাপ্রভু পুরীর নিকটবর্তী ‘আলালনাথ’-এ এসে পৌঁছালেন। তিনি জানতেন তাঁর বিরহে পুরীর ভক্তরা মৃতপ্রায় হয়ে আছেন। তাই তিনি কালবিলম্ব না করে তাঁর সঙ্গে থাকা সেবক কৃষ্ণদাসকে বললেন,
"তুমি এখনই পুরীতে যাও এবং নিত্যানন্দ প্রভুকে সংবাদ দাও যে আমি এসেছি।"
কৃষ্ণদাস ছুটে পুরীতে গেলেন। সেখানে নিত্যানন্দ প্রভু, জগদানন্দ পন্ডিত, দামোদর এবং মুকুন্দ দত্ত—সবাই বিষাদগ্রস্ত হয়ে বসেছিলেন। কৃষ্ণদাস গিয়ে যখনই সংবাদ দিলেন, তখন এক অদ্ভুত দৃশ্য তৈরি হলো।
শ্লোক
“মহাপ্রভু আইলা” শুনি আনন্দিত মন।
উঠি’ ধাঞা চলে সবে, না বহে জীবন॥
প্রেমে বিহ্বল হঞা সব, আনন্দিত মনে।
শীঘ্র আসি’ মিলিলা প্রভুর শ্রীচরণে॥
"মহাপ্রভু এসেছেন"—এ কথা শোনামাত্র ভক্তদের মনে আনন্দের বন্যা বয়ে গেল। তাঁরা এতটাই অধৈর্য হয়ে পড়লেন যে, শরীরের যত্ন বা শিষ্টাচারের অপেক্ষা না করে দৌড়াতে শুরু করলেন। প্রেমে বিহ্বল হয়ে তাঁরা দ্রুত প্রভুর চরণে এসে মিলিত হলেন।
নিত্যানন্দ প্রভু ও মহাপ্রভুর মিলন
সবার আগে নিত্যানন্দ প্রভু এবং অন্য ভক্তরা আলালনাথে পৌঁছালেন। মহাপ্রভুকে দেখামাত্র নিত্যানন্দ প্রভুর চোখের জল বাঁধ মানল না। মহাপ্রভুও তাঁর প্রিয় পার্ষদদের দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না।
শ্লোক
অন্যোন্যে আলিঙ্গিয়া দোঁহে ভূমিতে পড়িলা।
আনন্দে সবারে প্রভু আলিঙ্গন কৈলা॥
মহাপ্রভু ও নিত্যানন্দ প্রভু একে অপরকে আলিঙ্গন করলেন এবং আবেগের আতিশয্যে দুজনেই মাটিতে পড়ে গেলেন। এরপর মহাপ্রভু একে একে জগদানন্দ, দামোদর, মুকুন্দ—সকলকে পরম স্নেহে আলিঙ্গন করলেন।
সার্বভৌম ভট্টাচার্যের ব্যাকুলতা
এদিকে পুরীতে সার্বভৌম ভট্টাচার্য সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। মহাপ্রভু ভক্তদের নিয়ে যখন পুরীতে প্রবেশ করলেন, সার্বভৌম দৌড়ে এসে তাঁর পায়ে পড়লেন। মহাপ্রভু তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।
সার্বভৌম ভট্টাচার্য গদগদ কণ্ঠে বললেন,
"প্রভু, আপনি জগৎ উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু আমাদের কথা একবারও ভাবলেন না? আপনার বিহনে আমরা কীভাবে বেঁচে ছিলাম, তা কেবল আমরাই জানি।"
শ্লোক
সার্বভৌম কহে,—“প্রভু, আপন-ইচ্ছাতে।
বিশ্ব নিস্তারিতে ভ্রম’, কে পারে জানিতে?
তথাপি যে এই পুরীতে আইলা পুনবার।
আজিকারে দিনে আমি হৈলাম সনাথ॥”
সার্বভৌম বললেন,
"প্রভু, আপনি নিজের ইচ্ছায় বিশ্ব উদ্ধারের জন্য ভ্রমণ করেন, আপনার লীলা কেউ বুঝতে পারে না। তবুও যে আপনি আবার এই পুরীতে ফিরে এসেছেন, তাতে আজ আমি নিজেকে 'সনাথ' (অভিভাবকযুক্ত) মনে করছি। আমাদের জীবন সার্থক হলো।"
জগন্নাথ দর্শন ও পুরীবাসীর আনন্দ
মহাপ্রভু ভক্তদের সঙ্গে নিয়ে জগন্নাথ মন্দিরে প্রবেশ করলেন। দীর্ঘদিন পর জগন্নাথদেবকে দেখে মহাপ্রভু প্রেমে উন্মত্ত হয়ে নৃত্য ও কীর্তন শুরু করলেন। মন্দিরের সেবকরা এবং পুরীর সাধারণ মানুষ মহাপ্রভুকে ফিরে পেয়ে আনন্দে ‘হরি’ ধ্বনি দিতে লাগল।
কবিরাজ গোস্বামী লিখছেন, মহাপ্রভুর আগমনে সকলের দুঃখ এমনভাবে মিলিয়ে গেল, যেন সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূর হয়ে গেল।
শ্লোক
আইলা মহাপ্রভু, শুনি’ সব ভক্তগণ।
পরম আনন্দে আসি’ করিলা মিলন॥
সবাকার দুঃখ গেল, পাইল আনন্দ।
সব লঞা কৈলা প্রভু ভোজন-প্রবন্ধ॥
মহাপ্রভু এসেছেন শুনে সব ভক্তরা ছুটে এসে মিলিত হলেন। সবার দুঃখ ঘুচে গেল এবং অপার আনন্দ লাভ করলেন। এরপর মহাপ্রভু সবাইকে নিয়ে প্রসাদ ভোজনের ব্যবস্থা করলেন।
ভক্তের কাছে ভগবানের উপস্থিতিই জীবনের একমাত্র আনন্দ। মহাপ্রভুর ফিরে আসা কেবল একটি ভৌগোলিক প্রত্যাবর্তন ছিল না, এটি ছিল ভক্তদের মৃতপ্রায় দেহে প্রাণ ফিরে আসার মতো ঘটনা। এই ঘটনাগুলো ভক্ত ও ভগবানের প্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।💐💐🥰
#শ্রীগৌরাঙ্গমহাপ্রভু #ভক্ত












![🙂ভক্তি😊 - (4 ] (4 ] - ShareChat 🙂ভক্তি😊 - (4 ] (4 ] - ShareChat](https://cdn4.sharechat.com/bd5223f_s1w/compressed_gm_40_img_953765_200949b0_1767019951861_sc.jpg?tenant=sc&referrer=user-profile-service%2FrequestType50&f=861_sc.jpg)
