ভক্তির পথে আগমন
ShareChat
click to see wallet page
@2598649328
2598649328
ভক্তির পথে আগমন
@2598649328
আই লাভ শেয়ারচ্যাট
#🙂ভক্তি😊 নিঃসন্তান ও স্বজনহীনের গতি কি হবেঃ── ·٠•●⊰🌀💠🌀⊱●•٠· 🍃🌷 একবার পক্ষীরাজ গরুড় বৈকুন্ঠ ধামে শ্রীহরি বিষ্ণুর চরণসেবা করছিলেন। হঠাৎ গরুড়দেবের মনে মর্ত্যলোকের মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা ভেসে উঠল। তিনি দেখলেন, সংসারে যার পুত্র আছে, স্বামী আছে, তার মৃত্যুর পর পিণ্ডদান করার লোক আছে। কিন্তু যার কেউ নেই, তার কী হবে? ·٠•●∞| ✠ |∞●•٠· 🍃🌷‌ গরুড় জোড়হাতে ভগবান বিষ্ণুকে প্রশ্ন করলেনঃ── "হে প্রভু! শাস্ত্রে বলা আছে 'পুৎ' নামক নরক থেকে যে ত্রাণ করে, সেই পুত্র। কিন্তু সংসারে এমন অনেক নারী বা পুরুষ আছেন যারা নিঃসন্তান, স্বামীহীন বা স্বজনহীন। তাদের মৃত্যুর পর কে পিণ্ড দেবে? তাদের আত্মার সদগতি বা মুক্তি কীভাবে হবে? তারা কি তবে অনন্তকাল প্রেতযোনিতে ঘুরে বেড়াবে?" ·٠•●∞| ✠ |∞●•٠· ⚜️ ভগবান বিষ্ণু গরুড়ের এই করুণাময় প্রশ্ন শুনে স্মিতহাস্য করলেন এবং অত্যন্ত গূঢ় এক সত্য প্রকাশ করলেন। "হে পক্ষীশ্রেষ্ঠ! তুমি ঠিকই বলেছ যে পুত্র পিণ্ডদান করলে জীবের তৃপ্তি হয়। কিন্তু জানো, আমার প্রতি ভক্তিই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ পিণ্ড। যার কেউ নেই, আমি স্বয়ং তার ভার গ্রহণ করি।" ⚜️ভগবান বিষ্ণু একটি শ্লোকের মাধ্যমে পরম সত্যটি ব্যাখ্যা করলেন: ·٠•●∞| #শ্লোক |∞●•٠· ন দানৈঃ ন চ ইজ্যাভিঃ ন চ পুত্ৰৈঃ ন বান্ধবৈঃ। তস্যোদ্ধারো ভবেৎ পক্ষিন্ যস্য ভক্তিঃ মায়ি স্থিরা।। ·٠•●∞| ✠ |∞●•٠· ⚜️ হে পক্ষীরাজ! প্রচুর দান, যজ্ঞ, পুত্র বা বান্ধব—এদের দ্বারা জীবের প্রকৃত উদ্ধার হয় না। যার আমার (ঈশ্বরের) প্রতি অচলা ভক্তি আছে, তার উদ্ধারের দায়িত্ব আমি স্বয়ং গ্রহণ করি। ·٠•●⊰🌀💠🌀⊱●•٠· ⚜️ অনাথের নাথ জগন্নাথঃ── 🍃🌷ভগবান বিষ্ণু বিষয়টি বুঝিয়ে বলার জন্য একটি প্রাচীন (তত্ত্বকথা) বললেনঃ── একবার এক বৃদ্ধা ব্রাহ্মণী ছিলেন, যার স্বামী বা পুত্র কেউই ছিল না। তিনি অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন এবং সারাজীবন এই চিন্তায় কাঁদতেন যে, "আমার মৃত্যুর পর কে আমার শ্রাদ্ধ করবে? কে আমাকে এক গণ্ডুষ জল দেবে?" 🍃🌷একদিন তিনি তার কুঁড়েঘরে বসে কাঁদছেন, এমন সময় এক দিব্য ঋষি সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি বৃদ্ধাকে বললেন, "মা, তুমি কাঁদছ কেন?" 🍃🌷 বৃদ্ধা বললেন, "বাবা, আমি বড়ই অভাগা। আমার পিণ্ড দেওয়ার কেউ নেই। আমার কি নরকবাস হবে?" 🍃🌷 ঋষি তখন গরুড় পুরাণের সারকথা তাকে বুঝিয়ে বললেন। তিনি বললেনঃ── "মা, যার লৌকিক পুত্র নেই, তার জন্য শাস্ত্র তিনটি পথের কথা বলেছে: 🔸১. #ভক্তিযোগঃ── যে ব্যক্তি মৃত্যুর আগে গোবিন্দ বা হরিকথা শ্রবণ করেন এবং ঈশ্বরের নাম জপ করেন, তার কোনো পিণ্ডের প্রয়োজন হয় না। স্বয়ং যমরাজ তাকে স্পর্শ করতে পারেন না। 🔹২. #জীবিত_শ্রাদ্ধঃ── গরুড় পুরাণ অনুসারে, যার কেউ নেই, তিনি জীবিত থাকাকালেই নিজের শ্রাদ্ধ নিজে করে যেতে পারেন। একে *'জীবৎশ্রাদ্ধ'* বলে। 💠৩. #জগৎ_সংসারই_পরিবারঃ── তুমি তোমার সাধ্যমতো ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও, পশুপাখিকে জল দাও। এই নিঃস্বার্থ দানই তোমার পারলৌকিক পাথেয় হবে।" ·٠•●∞| ✠ |∞●•٠· ⚜️ ভগবান বিষ্ণু গরুড়কে বললেন, "হে গরুড়! ওই বৃদ্ধা আমার ওপর ভরসা করে শেষ জীবনে নাম জপে মন দিলেন। যেদিন তিনি দেহত্যাগ করলেন, সেদিন তার সংস্কার করার জন্য কোনো লৌকিক পুত্র ছিল না বটে, কিন্তু আমার পার্ষদগণ (বিষ্ণুদূত) এসে তাকে সসম্মানে বৈকুন্ঠে নিয়ে গেলেন। কারণ, যে আমাকে পিতা, মাতা, বন্ধু বলে মেনে নেয়, আমিই তার পুত্র হয়ে তার সমস্ত কর্মভার গ্রহণ করি।" ·٠•●⊰🌀💠🌀⊱●•٠· 🍃🌷 রামায়ণেও আমরা দেখি, গৃধ্ররাজ জটায়ুর কোনো সন্তান ছিল না। কিন্তু তিনি যখন রামের সেবায় প্রাণ দিলেন, তখন স্বয়ং ভগবান শ্রীরামচন্দ্র তার 'পুত্র' হয়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন। ·٠•●∞| #শ্লোক |∞●•٠· অনাথস্য জগন্নাথঃ ত্রাতা ভবতি সর্বদা। যস্য নাস্তি গতিঃ কাচিৎ তস্য গতিঃ জনার্দনঃ।। ·٠•●∞| ✠ |∞●•٠· ⚜️ যার কেউ নেই (অনাথ), জগন্নাথ (জগতের নাথ) সর্বদা তার ত্রাতা হন। যার কোনো গতি নেই, শ্রীহরি জনার্দনই তার একমাত্র গতি। ·٠•●⊰🌀💠🌀⊱●•٠· ⚜️ #পরামর্শ_ও_সান্ত্বনাঃ── আপনি নিজেকে একা ভাববেন না। গরুড় পুরাণ শাস্ত্র অনুযায়ী আপনার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু করণীয় আছে যা করলে আপনি নিঃসংশয়ে সদ্গতি লাভ করবেন। 🏵️ ১. #ইষ্টনাম_জপঃ── সংসারে লৌকিক স্বামী বা সন্তান নশ্বর, তারা আজ আছে কাল নেই। কিন্তু ঈশ্বর অবিনশ্বর। আপনি রোজ নিয়ম করে ইষ্টনাম জপ করুন। গীতায় ভগবান বলেছেন, "যে আমাকে স্মরণ করে দেহত্যাগ করে, সে আমাকেই পায়।" 🏵️ ২. #সেবা_ও_দানঃ── আপনার সাধ্যমতো পশুপাখিকে (যেমন কুকুর, বিড়াল বা পাখিকে) খাবার দিন। গরুড় পুরাণে বলা হয়েছে, ক্ষুধার্ত প্রাণীকে অন্ন দিলে তা সরাসরি পিতৃপুরুষ ও ঈশ্বরের কাছে পৌঁছায়। 🏵️৩. #মানস_পূজাঃ── নিজেকে ঈশ্বরের চরণে সমর্পণ করুন। ভাবুন যে, ঈশ্বরই আপনার পিতা, তিনিই আপনার সন্তান। যার স্বামী বা সন্তান নেই, তার বন্ধন অনেক কম। তার জন্য ঈশ্বরের কাছে যাওয়া অনেক সহজ। আপনি 'অভাগা' নন, আপনি ঈশ্বরের বিশেষ কৃপাপ্রার্থী। যিনি দ্রৌপদীকে ভরা সভায় রক্ষা করেছেন, যিনি জটায়ুর সৎকার করেছেন— সেই ঈশ্বর আপনারও হাত ধরে আছেন। নির্ভয়ে তাঁর নাম নিন, আপনার গতি নিশ্চিতভাবেই মঙ্গলের হবে। •──•●✦|| হরিবোল ||✦●•──• ┄❈❥ًً❀──●❀🌹🍒🌻 "হরে"কৃষ্ণ"হরে"কৃষ্ণ"কৃষ্ণ"কৃষ্ণ"হরে"হরে।" "হরে"রাম"হরে"রাম"রাম"রাম"হরে"হরে।।" ┄❈❥ًً❀──●❀🌹🍒🌻 🧚‍♂️𝄞⋆⃝ 🧚‍♂️𝖍𝖆𝖗𝖎𝖇𝖔𝖑🧚‍♂️𝄞⋆⃝🧚‍♂️ ━───────⊱❉✸❉⊰────────━ ⚜️জয় শ্রীরাধাকৃষ্ণ⚜️ 🙏🏻 👣👣🙏🏻 #হরেকৃষ্ণ_হরেকৃষ্ণ_কৃষ্ণকৃষ্ণ_হরেহরেঃ #সনাতন_ধর্ম #রাধে_রাধে #শ্রীকৃষ্ণ
🙂ভক্তি😊 - (4  ] (4  ] - ShareChat
#🙂ভক্তি😊 ভক্তের কাছে ভগবানের উপস্থিতিই কি জীবনের একমাত্র আনন্দ?💐💐🌷🌷 শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রত্যাবর্তন ও ভক্ত-মিলন দীর্ঘ দুই বছর দক্ষিণ ভারত ভ্রমণ শেষে মহাপ্রভু পুরীর নিকটবর্তী ‘আলালনাথ’-এ এসে পৌঁছালেন। তিনি জানতেন তাঁর বিরহে পুরীর ভক্তরা মৃতপ্রায় হয়ে আছেন। তাই তিনি কালবিলম্ব না করে তাঁর সঙ্গে থাকা সেবক কৃষ্ণদাসকে বললেন, "তুমি এখনই পুরীতে যাও এবং নিত্যানন্দ প্রভুকে সংবাদ দাও যে আমি এসেছি।" কৃষ্ণদাস ছুটে পুরীতে গেলেন। সেখানে নিত্যানন্দ প্রভু, জগদানন্দ পন্ডিত, দামোদর এবং মুকুন্দ দত্ত—সবাই বিষাদগ্রস্ত হয়ে বসেছিলেন। কৃষ্ণদাস গিয়ে যখনই সংবাদ দিলেন, তখন এক অদ্ভুত দৃশ্য তৈরি হলো। শ্লোক “মহাপ্রভু আইলা” শুনি আনন্দিত মন। উঠি’ ধাঞা চলে সবে, না বহে জীবন॥ প্রেমে বিহ্বল হঞা সব, আনন্দিত মনে। শীঘ্র আসি’ মিলিলা প্রভুর শ্রীচরণে॥ "মহাপ্রভু এসেছেন"—এ কথা শোনামাত্র ভক্তদের মনে আনন্দের বন্যা বয়ে গেল। তাঁরা এতটাই অধৈর্য হয়ে পড়লেন যে, শরীরের যত্ন বা শিষ্টাচারের অপেক্ষা না করে দৌড়াতে শুরু করলেন। প্রেমে বিহ্বল হয়ে তাঁরা দ্রুত প্রভুর চরণে এসে মিলিত হলেন। নিত্যানন্দ প্রভু ও মহাপ্রভুর মিলন সবার আগে নিত্যানন্দ প্রভু এবং অন্য ভক্তরা আলালনাথে পৌঁছালেন। মহাপ্রভুকে দেখামাত্র নিত্যানন্দ প্রভুর চোখের জল বাঁধ মানল না। মহাপ্রভুও তাঁর প্রিয় পার্ষদদের দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না। শ্লোক অন্যোন্যে আলিঙ্গিয়া দোঁহে ভূমিতে পড়িলা। আনন্দে সবারে প্রভু আলিঙ্গন কৈলা॥ মহাপ্রভু ও নিত্যানন্দ প্রভু একে অপরকে আলিঙ্গন করলেন এবং আবেগের আতিশয্যে দুজনেই মাটিতে পড়ে গেলেন। এরপর মহাপ্রভু একে একে জগদানন্দ, দামোদর, মুকুন্দ—সকলকে পরম স্নেহে আলিঙ্গন করলেন। সার্বভৌম ভট্টাচার্যের ব্যাকুলতা এদিকে পুরীতে সার্বভৌম ভট্টাচার্য সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। মহাপ্রভু ভক্তদের নিয়ে যখন পুরীতে প্রবেশ করলেন, সার্বভৌম দৌড়ে এসে তাঁর পায়ে পড়লেন। মহাপ্রভু তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। সার্বভৌম ভট্টাচার্য গদগদ কণ্ঠে বললেন, "প্রভু, আপনি জগৎ উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু আমাদের কথা একবারও ভাবলেন না? আপনার বিহনে আমরা কীভাবে বেঁচে ছিলাম, তা কেবল আমরাই জানি।" শ্লোক সার্বভৌম কহে,—“প্রভু, আপন-ইচ্ছাতে। বিশ্ব নিস্তারিতে ভ্রম’, কে পারে জানিতে? তথাপি যে এই পুরীতে আইলা পুনবার। আজিকারে দিনে আমি হৈলাম সনাথ॥” সার্বভৌম বললেন, "প্রভু, আপনি নিজের ইচ্ছায় বিশ্ব উদ্ধারের জন্য ভ্রমণ করেন, আপনার লীলা কেউ বুঝতে পারে না। তবুও যে আপনি আবার এই পুরীতে ফিরে এসেছেন, তাতে আজ আমি নিজেকে 'সনাথ' (অভিভাবকযুক্ত) মনে করছি। আমাদের জীবন সার্থক হলো।" জগন্নাথ দর্শন ও পুরীবাসীর আনন্দ মহাপ্রভু ভক্তদের সঙ্গে নিয়ে জগন্নাথ মন্দিরে প্রবেশ করলেন। দীর্ঘদিন পর জগন্নাথদেবকে দেখে মহাপ্রভু প্রেমে উন্মত্ত হয়ে নৃত্য ও কীর্তন শুরু করলেন। মন্দিরের সেবকরা এবং পুরীর সাধারণ মানুষ মহাপ্রভুকে ফিরে পেয়ে আনন্দে ‘হরি’ ধ্বনি দিতে লাগল। কবিরাজ গোস্বামী লিখছেন, মহাপ্রভুর আগমনে সকলের দুঃখ এমনভাবে মিলিয়ে গেল, যেন সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূর হয়ে গেল। শ্লোক আইলা মহাপ্রভু, শুনি’ সব ভক্তগণ। পরম আনন্দে আসি’ করিলা মিলন॥ সবাকার দুঃখ গেল, পাইল আনন্দ। সব লঞা কৈলা প্রভু ভোজন-প্রবন্ধ॥ মহাপ্রভু এসেছেন শুনে সব ভক্তরা ছুটে এসে মিলিত হলেন। সবার দুঃখ ঘুচে গেল এবং অপার আনন্দ লাভ করলেন। এরপর মহাপ্রভু সবাইকে নিয়ে প্রসাদ ভোজনের ব্যবস্থা করলেন। ভক্তের কাছে ভগবানের উপস্থিতিই জীবনের একমাত্র আনন্দ। মহাপ্রভুর ফিরে আসা কেবল একটি ভৌগোলিক প্রত্যাবর্তন ছিল না, এটি ছিল ভক্তদের মৃতপ্রায় দেহে প্রাণ ফিরে আসার মতো ঘটনা। এই ঘটনাগুলো ভক্ত ও ভগবানের প্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।💐💐🥰 #শ্রীগৌরাঙ্গমহাপ্রভু #ভক্ত
🙂ভক্তি😊 - ShareChat
#🙂ভক্তি😊 বেড়া দাও যত্ন করি। পাতা আর মূল যেন নাহি যায় ছিঁড়ি।। নিরন্তর জলসেচ করিবে যতনে। সজীব রাখিবে লতা তীক্ষ্ণ নিরীক্ষণে।।"
🙂ভক্তি😊 - ShareChat
#🙂ভক্তি😊 ও ভগবান কি এক?💐💐🌷🌷 সূর্যের আলো ও ঘরের অন্ধকার পুরীর জগন্নাথ মন্দির। মহাপ্রভু তখন বাসুদেব সার্বভৌম ভট্টাচার্যের সাথে বেদান্ত নিয়ে আলোচনা করছেন (মধ্য লীলা, ৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ)। সার্বভৌম ভট্টাচার্য বোঝাচ্ছিলেন যে, “জীবই ব্রহ্ম। জীবের আলাদা কোনো অস্তিত্ব নেই। মুক্তি পেলে জীব ভগবানে লীন হয়ে যায়।” মহাপ্রভু তখন একটি চমৎকার উপমা দিয়ে এই তত্ত্ব খণ্ডন করলেন এবং ‘অচিন্ত্যভেদাভেদ’ স্থাপন করলেন। মনে করুন, একটি অন্ধকার ঘরে আপনি বসে আছেন। বাইরে আকাশে সূর্য জ্বলছে। সূর্যের আলো জানলা দিয়ে আপনার ঘরে ঢুকল। এখন প্রশ্ন হলো: জানলা দিয়ে যা ঢুকল, তা কি সূর্য? নাকি সূর্য থেকে আলাদা? যদি বলেন ‘সূর্য’ (অভেদ): তবে ভুল হবে। কারণ সূর্য যদি সত্যি সত্যি ঘরে ঢুকত, তবে ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যেত। জানলা দিয়ে এসেছে কেবল সূর্যের কিরণ বা শক্তি। যদি বলেন ‘সূর্য থেকে আলাদা’ (ভেদ): তবেও ভুল হবে। কারণ এই আলো সূর্য থেকেই এসেছে। যেখানে আলো আছে, সেখানে সূর্যও আছে। রোদকে সূর্য থেকে আলাদা করা যায় না। মহাপ্রভু সার্বভৌমকে বললেন: “ভট্টাচার্য! ভগবান হলেন সেই সূর্যস্বরূপ। আর আমরা (জীব) হলাম সেই সূর্যের কিরণ বা কণা। গুণের দিক থেকে আমরা এক (দুজনেই আলো), কিন্তু পরিমাণের দিক থেকে আমরা ভিন্ন (সূর্য বিশাল, আমরা ক্ষুদ্র)।” এটিই হলো—একই সঙ্গে ভেদ এবং অভেদ। মহাপ্রভু এই দর্শনটি তিনটি শব্দের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন: ১. ভেদ (পার্থক্য): ভগবান হলেন ‘প্রভু’ বা মালিক, আর জীব হলো ‘দাস’। ভগবান হলেন ‘বিভূ’ (অসীম), জীব হলো ‘অণু’ (ক্ষুদ্র)। ভগবান মায়াকে নিয়ন্ত্রণ করেন, আর জীব মায়ার দ্বারা বিভ্রান্ত হয়। তাই জীব ও ভগবান কখনোই এক হতে পারে না। ২. অভেদ (একত্ব): কিন্তু গুণের দিক থেকে জীব ও ভগবান এক। সমুদ্রের এক ফোঁটা জলেও যেমন লবণ আছে, পুরো সমুদ্রেও লবণ আছে। ভগবান ‘সচ্চিদানন্দ’ (সৎ, চিৎ, আনন্দ), জীবের আত্মাও ‘সচ্চিদানন্দ’। তাই গুণগতভাবে আমরা এক। ৩. অচিন্ত্য (বুদ্ধির অতীত): আগুন ও তার দাহিকা শক্তি (তাপ) যেমন আলাদা করা যায় না, আবার আগুন ও তাপ একও নয় (আগুন দেখা যায়, তাপ অনুভব করা যায়)—এই যে একই সাথে এক ও দুই হওয়ার ক্ষমতা, এটি ভগবানের এক অলৌকিক বা অচিন্ত্য শক্তির দ্বারা সম্ভব। এই তত্ত্বটি মহাপ্রভু মনগড়া বলেননি, তিনি পুরাণ ও উপনিষদ থেকে এর প্রমাণ দিয়েছেন। ১. বিষ্ণু পুরাণের প্রমাণ (সূর্য ও কিরণ উপমা) বিষ্ণু পুরাণে পরাশর মুনি এই তত্ত্বটি পরিষ্কার করেছেন। মহাপ্রভু এই শ্লোকটি প্রায়ই উদ্ধৃত করতেন। শ্লোক: একদেশস্থিতস্যাগ্নের্জ্যোৎস্না বিস্তারিনী যথা। পরস্য ব্রহ্মণঃ শক্তিস্তথেদং অখিলং জগৎ॥ (বিষ্ণু পুরাণ ১/২২/৫৩) আগুন যেমন এক স্থানে থেকেও তার তাপ ও আলো চারদিকে ছড়িয়ে দেয়, ঠিক তেমনি পরমব্রহ্ম ভগবান (শ্রীকৃষ্ণ) এক স্থানে (গোলোকে) থেকেও তাঁর শক্তির দ্বারা সারা বিশ্ব চরাচরে ব্যাপ্ত হয়ে আছেন। (অর্থাৎ, জগত ভগবানের শক্তি, তাই জগত ভগবানের চেয়ে ভিন্ন হয়েও অভিন্ন।) ২. ভগবদ্গীতার প্রমাণ (অংশ ও অংশী) শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন যে জীব তাঁর অংশ। অংশ কখনো পূর্ণ বস্তুর সমান হতে পারে না, আবার পূর্ণ থেকে আলাদা হয়েও টিকতে পারে না। শ্লোক: মমৈবাংশো জীবলোকে জীবভূতঃ সনাতনঃ। (গীতা ১৫/৭) এই জড় জগতে বদ্ধ জীবসমূহ আমারই সনাতন ‘অংশ’। ৩. শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতের সিদ্ধান্ত কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী মহাপ্রভুর শিক্ষা অনুযায়ী এই তত্ত্বটি সংক্ষেপে একটি পয়ারে লিখেছেন: শ্লোক: জীব-ঈশ্বর-তত্ত্ব কভু নহে ‘এক’ মানি। ‘ভিন্ন’ করি’ মানিলে হয় ‘দুই’ ত’ বাখানি॥ অচিন্ত্য-শক্তি ঈশ্বরের, জানিহ নিশ্চয়। ‘ভেদ’ ও ‘অভেদ’ তত্ত্বে—অন্য নাহি হয়॥ জীব ও ঈশ্বরকে পুরোপুরি ‘এক’ বলা যাবে না, আবার পুরোপুরি ‘আলাদা’ও বলা যাবে না। ঈশ্বরের অচিন্ত্য শক্তির প্রভাবে তাঁরা একই সাথে ভিন্ন এবং অভিন্ন। সিদ্ধান্ত: এই তত্ত্ব কেন শ্রেষ্ঠ? মহাপ্রভু এই দর্শনের মাধ্যমে ভক্তিকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করলেন। যদি আমরা শুধুই ভগবান হতাম (অদ্বৈতবাদ): তবে কার পূজা করতাম? আমিই তো ভগবান! তাহলে ভক্তি বা প্রেমের কোনো স্থান থাকত না। যদি আমরা ভগবান থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হতাম (দ্বৈতবাদ): তবে ভগবানের সাথে আমাদের কোনো আত্মিক সম্পর্ক থাকত না। অনেকটা রাজা ও প্রজার মতো শুকনো সম্পর্ক হতো। অচিন্ত্যভেদাভেদ বলে: আমরা ভগবানেরই অংশ (আত্মীয়), তাই তাঁর সাথে আমাদের প্রেমের সম্পর্ক আছে। আবার আমরা তাঁর দাস (ছোট), তাই আমাদের কাজ হলো তাঁর সেবা করা। মহাপ্রভুর শেষ কথা: “সূর্য-অংশ কিরণ, যৈছে অগ্নি-জ্বালা চয়। স্বাভাবিক কৃষ্ণ-শক্তি, কভু কৃষ্ণ-ভিন্ন নয়॥” (আমরা কৃষ্ণের স্বাভাবিক শক্তি। আগুন থেকে যেমন জ্বালাকে আলাদা করা যায় না, কৃষ্ণ থেকে আমাদের আলাদা করা যায় না। আমাদের কাজ সেই উৎসে বা কৃষ্ণে ফিরে গিয়ে তাঁর সেবা করা।) এটিই হলো গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনের প্রাণ—অচিন্ত্যভেদাভেদ তত্ত্ব।💐💐🙏 #শ্রীগৌরাঙ্গমহাপ্রভু #অচিন্ত্যভেদাভেদ
🙂ভক্তি😊 - ShareChat
#🙂ভক্তি😊 ও মাতৃগর্ভের রহস্য💐💐🌷🌷 একদিন গরুড় শ্রীবিষ্ণুকে প্রশ্ন করলেন, "হে প্রভু! নরকে পাপ ভোগ করার পর বা স্বর্গে পুণ্য ভোগ করার পর আত্মা কীভাবে পুনরায় মর্ত্যলোকে (পৃথিবীতে) ফিরে আসে? এবং মায়ের পেটে শিশু কীভাবে তৈরি হয়?" শ্রীবিষ্ণু তখন সৃষ্টিতত্ত্বের এক গভীর রহস্য উন্মোচন করলেন। ফিরে আসার যাত্রা (আকাশ থেকে মাতৃগর্ভে) শ্রীবিষ্ণু বললেন, "হে তাক্ষ্য! কর্মফল শেষ হলে আত্মাকে আবার পৃথিবীতে আসতে হয়। এই যাত্রাটি বড়ই বিচিত্র।" বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়া: নরক বা স্বর্গ থেকে আত্মা প্রথমে ধোঁয়া বা মেঘের রূপ নিয়ে আকাশ থেকে বৃষ্টির ফোঁটার মাধ্যমে মাটিতে পড়ে। শস্যে প্রবেশ: সেই বৃষ্টির জল শস্য, ধান, গম বা শাকসবজির মধ্যে প্রবেশ করে। পিতার দেহ: সেই শস্য যখন কোনো পুরুষ ভোজন করে, তখন সেই শস্যরস থেকে পুরুষের দেহে বীর্য উৎপন্ন হয় এবং আত্মা সেই বীর্যের মধ্যে আশ্রয় নেয়। মায়ের গর্ভ: এরপর ঋতুকালে পুরুষের মাধ্যমে সেই আত্মা নারীর গর্ভে প্রবেশ করে। শ্লোক: কর্মণা দৈবনেত্রেণ জন্তুর্দেহোপপত্তয়ে । স্ত্রিয়াঃ প্রবিষ্ট উদরং পুংসো রেতঃকণাশ্রয়ঃ ॥ প্রাক্তন কর্মের প্রভাবে এবং ঈশ্বরের ইচ্ছায় জীব বিশেষ দেহ লাভের জন্য পুরুষের বীর্যের কণা আশ্রয় করে নারীর উদরে (গর্ভে) প্রবেশ করে। ভ্রূণ গঠনের পর্যায়ক্রম শ্রীবিষ্ণু গরুড় পুরাণে ভ্রূণ বিকাশের যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে অনেকটা মিলে যায়। ১ম রাত্রি: শুক্র ও শোণিতের (ডিম্বাণু) মিলনে তরল অবস্থা (কলল)। ১০ দিন: কুল ফলের মতো আকার। ১ মাস: একটি পিণ্ড বা মাংসের দলা। ৩ মাস: হাত, পা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গজাতে শুরু করে। গর্ভবাসের অসহ্য যন্ত্রণা শ্রীবিষ্ণু বললেন, "হে গরুড়! নরকের কষ্টের মতোই গর্ভের কষ্ট। মায়ের জঠর বা পেট হলো মল-মূত্র, রক্ত ও কৃমিতে পূর্ণ একটি অন্ধকার গহ্বর। সেখানে শিশুটি সংকুচিত হয়ে থাকে।" মা যখন ঝাল, টক বা খুব গরম খাবার খায়, তখন গর্ভের শিশুর কোমল শরীরে তা আগুনের মতো জ্বালা দেয়। সেখানে সূঁচের মতো মুখওয়ালা কৃমিরা শিশুটিকে কামড়াতে থাকে। শিশুটি নড়াচড়া করতে পারে না, অনেকটা খাঁচায় বন্দি পাখির মতো থাকে। শ্লোক: গর্ভবাসে মহারৌদ্রে পচ্যমানঃ স্বকর্মভিঃ । অত্রৈব নরকঘোরং ভুজ্যতে দেহিনা ধ্রুবম্ ॥ নিজের পূর্বজন্মের কর্মফল অনুযায়ী জীব গর্ভবাসের ভয়ানক তাপে পচতে থাকে বা সিদ্ধ হতে থাকে। প্রকৃতপক্ষে, দেহধারী জীব মায়ের গর্ভেই এক প্রকার ঘোর নরক যন্ত্রণা ভোগ করে। ৪. সপ্তম মাসে জ্ঞানলাভ ও প্রার্থনা (গর্ভস্তুতি) সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সপ্তম মাসে শিশুর চেতনা বা জ্ঞান ফিরে আসে। সে তার পূর্বজন্মের সব কথা—কোন্ পাপে সে নরকে গিয়েছিল, কে তার আপন ছিল—সব মনে করতে পারে। তখন সে ভয়ে শিউরে ওঠে এবং ভগবানের কাছে কাতর প্রার্থনা করে। একে বলা হয় 'গর্ভস্তুতি'। শিশু হাত জোড় করে ভাবে: "হে প্রভু! আমাকে এই মল-মূত্রের কুণ্ড (গর্ভ) থেকে উদ্ধার করো। আমি কথা দিচ্ছি, এবার পৃথিবীতে গিয়ে আমি আর মায়ার টানে পাপ করব না। আমি শুধু তোমার ভজন করব।" (শিশুর প্রতিজ্ঞা): কদা নির্গত্য ভবিষ্যেহং জ্ঞানবিজ্ঞানসংযুতঃ । তদা ধ্যায়ামি শ্রীবিষ্ণুং কদাপি ন চ বিস্মরে ॥ (শিশু ভাবে) কবে আমি এই জঠর থেকে বের হয়ে জ্ঞান ও বিজ্ঞান লাভ করব? বের হয়েই আমি সর্বদা শ্রীবিষ্ণুর ধ্যান করব এবং তাঁকে কখনোই ভুলে যাব না। প্রসবের কষ্ট ও স্মৃতিভ্রম (মায়ার খেলা) নবম বা দশম মাসে প্রসবের সময় আসে। তখন 'প্রসূতি বায়ু' নামে এক প্রবল বাতাস শিশুটিকে উল্টে দেয় এবং ঠেলতে ঠেলতে জঠর থেকে বাইরে নিয়ে আসে। একটি সরু ছিদ্র দিয়ে বের হওয়ার সময় শিশুটি মৃত্যুতুন্য কষ্ট পায়, তাই সে কাঁদে। কিন্তু বাইরে আসার সাথে সাথেই ঘটে আসল বিপর্যয়। শ্রীবিষ্ণু বললেন, "হে গরুড়! ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথেই বিষ্ণুর 'মায়া' বায়ুরূপে শিশুটিকে স্পর্শ করে।" এই মায়ার স্পর্শে শিশুটি তার পূর্বজন্মের সব স্মৃতি, সব জ্ঞান এবং গর্ভে করা সেই প্রতিজ্ঞা ("আমি ভজন করব")—সব ভুলে যায়। সে কেবল ক্ষুধা আর তৃষ্ণায় "কোঁয়া কোঁয়া" করে কাঁদতে থাকে। শ্লোক: তৎ স্পৃষ্টো ন স্মরেৎ কিঞ্চিজ্জন্মকোটিশতৈঃ কৃতম্ । ততো রুদতি তারস্বরৈঃ বিপরাতগতির্গতঃ ॥ মায়ার বায়ু স্পর্শ করার সাথে সাথে সে শত কোটি জন্মের সব কথা ভুলে যায়। তার গতি ও জ্ঞান বিপরীত হয়ে যায়, তাই সে উচ্চস্বরে রোদন (কান্নাকাটি) করতে শুরু করে। আবার নতুন জীবন (চক্র চলমান) এরপর শিশুটি বড় হয়। ছোটবেলায় সে খেলাধুলার মোহে থাকে, যৌবনে নারী ও অর্থের মোহে পড়ে পাপ করে, আর বার্ধক্যে রোগে কষ্ট পায়। সে ভুলে যায় যে সে কথা দিয়েছিল ভজন করবে। ফলে মৃত্যু হলে তাকে আবার সেই নরক বা স্বর্গ এবং আবার সেই গর্ভবাসের চক্রে ঘুরতে হয়। শিক্ষা শ্রীবিষ্ণু গরুড়কে বললেন, "এই জন্ম-মৃত্যুর চক্র বা পুনর্জন্ম থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো—মানব জন্ম পেয়ে মায়ার মোহে না পড়ে হরিভক্তি করা এবং সৎকর্ম করা। তবেই গর্ভবাসের যন্ত্রণা থেকে চিরমুক্তি বা মোক্ষ লাভ সম্ভব।
🙂ভক্তি😊 - পুনর্জন্ম মাতৃগর্ভের রহস্য Mukunda Priya বিস্তারিত ক্যাপশনে পড়ুন পুনর্জন্ম মাতৃগর্ভের রহস্য Mukunda Priya বিস্তারিত ক্যাপশনে পড়ুন - ShareChat
#🙂ভক্তি😊 বলেন এই জন্মে তো কোনো পাপ করিনি তাহলে এই নরক যন্ত্রনা কেন সহ্য করছি ❓ আপনাদের প্রশ্নের উত্তর স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ মহাভারতের যুদ্ধ শেষের পর গান্ধারীকে দিয়ে গেছিলেন। মহাভারতের যুদ্ধ শেষে গান্ধারী শ্রী কৃষ্ণকে অভিশাপ দিলেন। আমি যে কষ্ট যন্ত্রনা সহ্য করছি। তুমিও তোমার সব হারিয়ে একদিন এই ভাবেই একাকী মৃত্যু বরণ করবে। রাগ আর ক্ষোভের মাথায় অভিশাপ দিয়েই বুঝতে পারলেন তিনি কি করে ফেললেন। অনুতপ্ত হয়ে শ্রী কৃষ্ণকে জিজ্ঞাসা করলেন আমি কি এমন পাপ করেছি তুমি এই জন্মে এত কষ্ট দিলে। আমি রাজার মেয়ে দেখতে সুন্দরী তাও আমার অন্ধ স্বামী। চোখ থাকতেও আমি চোখ বেঁধে অন্ধ সেজে থাকি। রানী হয়েও কোনো মর্যাদা পাইনি। আমার ১০০ সন্তান থাকা সত্বেও আজ আমার চোখের সামনে নৃশংস ভাবে তোমরা মেরে ফেলে আমাকে সন্তান হারানোর দুঃখ যন্ত্রনা দিলে। আমি তো এই জন্মে কোনো পাপ করিনি। তাহলে আমাকে এই নরক যন্ত্রনা কেন দিলে হে কেশব বলো তুমি ❓ শ্রী কৃষ্ণ বললেন হে দেবী আপনি এই জন্মে কোনো পাপ করেন নি। কিন্তু একশো জন্ম আগে আপনি কৈশোরী অবস্থায় ১০০ প্রজাপতিকে ধরে ঘাসের শীষ দিয়ে প্রজাপতির চোখের মধ্যে ঢুকিয়ে মালা বানিয়ে গলায় পরে বিয়ে বিয়ে খেলেছিলেন। সেই পাপের কারণে আপনি এই জন্মে অন্ধ স্বামী পেয়েছেন। সাথে আপনি চোখ থাকতেও অন্ধ সেজে থাকছেন। সেই ১০০ প্রজাপতি যাদের আপনি নৃশংস ভাবে মেরে বিয়ে বিয়ে খেলেছিলেন।তারাই এই জন্মে আপনার সন্তান রূপে জন্ম নিয়ে আপনাকে সন্তান হারানোর দুঃখ দিলো। দেবী আপনার তো আনন্দ করবার কথা প্রতি জন্মে তিলে তিলে আপনাকে এই নরক যন্ত্রনা পেতে হয়নি। গান্ধারী হতবাক ! একশো জন্ম আগের পাপের শাস্তি এই জন্মে দিলে ❓ শ্রী কৃষ্ণ বললেন আপনার কর্ম অনুযায়ী পুন্য কর্ম শেষ হলে পাপ কর্মের শাস্তি পান। আপনার পুন্য কর্ম শেষ হতেই আপনার পাপ কর্মের শাস্তি পেলেন। ধৃতরাষ্ট্র সব শোনার পরে বললেন আমি কি পাপ করেছি যে তুমি আমাকে জন্মান্ধ করে আমার ১০০ বীর সন্তান কে নৃশংস ভাবে খুন করলে। শ্রী কৃষ্ণ বললেন হে রাজন আপনি ১০০ জন্ম আগে রাজা ছিলেন। আপনি এক বর্ষার দিনে শিকার করতে গিয়ে পথ হারান হটাৎ বজ্র বিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির জেরে সঙ্গী পাত্র মিত্ররা এদিক ওদিক ছড়িয়ে পরে আপনি একা হয়ে পথ খুঁজতে থাকেন। এদিকে বনের মধ্যে হিংস্র পশুর আনাগোনা সাথে সন্ধ্যা নামছে দেখে আপনি একটা উঁচু গাছে উঠে বসেন। সেই গাছে বাসা করে ছিলো এক শুক দম্পতি পাখি। শুক পাখি আপনাকে চিনতে পারে। সে তার স্ত্রী কে বলে আমাদের অতিথি হয়ে রাজা এসেছেন। তিনি এই ঝর জলের রাতে বৃষ্টিতে ভিজে ঠান্ডায় কাঁপছেন আমি একটু আগুনের ব্যবস্থা করি। বলেই সেই শুক পাখি উড়ে গ্রামে গিয়ে ঠোঁটে করে এক টুকরো আগুন আর কিছু শুকনো ডাল পাতা এনে আপনার সামনে জ্বেলে দেয়। আপনি হাত পা শেকে গরম হন। শুক পাখি বুঝতে পারে আপনার খিদে পেয়েছে । শুক পাখি তার স্ত্রী কে বলে বাসায় অতিথি এসেছে তাকে খেতে দেওয়া উচিত। অতিথি সেবা নারায়ণ সেবার সমান। বলেই সে বলে তুমি সন্তান দের দেখো আমি আগুনে প্রাণ দিয়ে অতিথি সেবা করি। এই বলে শুক পাখি আগুনে প্রাণ বিসর্জন দেয়। আপনি সেই শুক পাখিকে খান। এই দেখে শুক পাখির স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পরে ভাবে স্বামী স্বর্গ গেলেন এভাবে অনাথ করে আমাদের তবে আমারো বাঁচার দরকার নেই আমিও সহ মরণে গিয়ে অতিথি সেবা করে স্বর্গে গমন করি। এই বলে সেও আগুনে প্রাণ বিসর্জন দেয়। আপনি সেই পাখিকেও খেয়ে ফেলেন। এই পাখি দুটোকে খেয়ে আপনার খিদের কারণে লোভ বাড়ে। আপনি খাবার খুঁজতে এদিক ওদিক তাকাতেই শুক পাখির ১০০ উড়তে না পারা সন্তান কে দেখতে পেয়ে গরম গাছের ডালে করে সেই অসহায় পাখি শিশুদের চোখের মধ্যে ঢুকিয়ে গেথে আপনি নিজের পেট ভরান। এর মধ্যে রাত ফুরিয়ে ভোরের আলো ফুটছিলো। আপনার সন্ধানে সবাই খুঁজতে এসেছিলো আপনি তাদের গলার স্বর শুনে নিচে নেমে আসেন গাছ থেকে। তারপর সবাই নিজের রাজ্যে ফিরে যান। আপনার এই নৃশংসভাবে শুক পাখি দম্পতির ১০০ সন্তান কে মারার পাপে আপনি ১০০ জন্ম পরে জন্মান্ধ সাথে সেই শুক পাখি দম্পতির ১০০ সন্তান ই এই জন্মে আপনার সন্তান রূপে জন্ম নিয়ে আপনাকে সন্তান হারানোর দুঃখ যন্ত্রনা দিলো। শ্রী কৃষ্ণ বললেন আপনি এই জন্মে বা আগের জন্মে যে পাপ করবেন আপনার পুন্য কর্ম শেষ হতেই আপনি সেই পাপ কর্মের শাস্তি হিসাবে ফল ভোগ করবেন। এটাই নিয়তি এতে ঈশ্বরের হাত নেই। আপনার কর্ম অনুযায়ী আপনি ফল পান।
🙂ভক্তি😊 - এই জন্মে কোনো পাপ করিনি   তাহলে কেনো নরক যন্ত্রণা এই জন্মে কোনো পাপ করিনি   তাহলে কেনো নরক যন্ত্রণা - ShareChat