Chinmoy Tewary
ShareChat
click to see wallet page
@1449220574
1449220574
Chinmoy Tewary
@1449220574
pingla Barta Journalists Coucil of India
#আজকের এই দিনটি আমাদের ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়। ১৯৫৬ সালের ২০শে এপ্রিল, মানভূমের মাটিতে মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষার অদম্য আপনার এলাকার সব ভাইরাল ভিডিওর জন্য ডাউনলোড করুন শুরু অ্যাপ (Shuru App) 👇🏻 https://shuru.co.in/dl/tosUsX #pingla barta
pingla barta - ShareChat
#আজকের এই দিনটি আমাদের ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়। ১৯৫৬ সালের ২০শে এপ্রিল, মানভূমের মাটিতে মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষার অদম্য সংকল্প নিয়ে পুঞ্চা থানার পাকবিড়রা গ্রাম থেকে শুরু হয়েছিল এক ঐতিহাসিক পদযাত্রা। সেই দিন ১০২৫ জন সংগ্রামী একসাথে পা বাড়িয়েছিলেন—পাকবিড়রা থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে—নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয়ে। এই পদযাত্রা শুধু একটি আন্দোলন ছিল না, এটি ছিল আত্মপরিচয়, অধিকার ও ভালোবাসার এক অমর প্রতীক। তাঁদের সাহস, ত্যাগ ও সংগ্রাম আজও আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায় এবং আমাদের শিখিয়ে দেয়—মাতৃভাষার জন্য লড়াই কখনো বৃথা যায় না। এই মহান দিনে, মানভূমের সকল বাংলা ভাষা আন্দোলনের বীর সেনানীদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। তাঁদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রাম চিরকাল আমাদের হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে। 🙏
সাহিত্যিক, কবি এবং সমাজসাধিকা অনুরূপা দেবী (জন্মঃ- ৯ সেপ্টেম্বর, ১৮৮২ - মৃত্যুঃ- ১৯ এপ্রিল, ১৯৫৮) অনুরূপা দেবী তাঁর দিদি আপনার এলাকার সব ভাইরাল ভিডিওর জন্য ডাউনলোড করুন শুরু অ্যাপ (Shuru App) 👇🏻 https://shuru.co.in/dl/hGAD0g #pingla barta
pingla barta - ShareChat
সাহিত্যিক, কবি এবং সমাজসাধিকা অনুরূপা দেবী (জন্মঃ- ৯ সেপ্টেম্বর, ১৮৮২ - মৃত্যুঃ- ১৯ এপ্রিল, ১৯৫৮) অনুরূপা দেবী তাঁর দিদি ইন্দিরা দেবীর অনুপ্রেরণায় সাহিত্য চর্চা আরম্ভ করেন। তাঁর প্রথম কবিতা ঋজুপাঠ অবলম্বনে রচিত। ‘কুন্তালিন পুরস্কার’ প্রতিযোগিতায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গল্প। ‘রানী দেবী’ ছদ্মনামে তিনি এই গল্পটি লেখেন। পরবর্তীসময়ে তিনি ছোটগল্পের পাশাপাশি উপন্যাস রচনায় মনোনিবেশ করেন। ১৯০৪ সালে ‘নবনূর’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘টিলকুঠি’। এরপর ১৯১১ সালে ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর পরবর্তী উপন্যাস ‘পোষ্যপুত্র’। এই উপন্যাসটি সাহিত্যসমাজে ভীষণভাবে সমাদৃত হয়। এরপর তাঁর লেখনীর স্বর্ণস্পর্শ বাংলা সাহিত্যে একাধিক জনপ্রিয় উপন্যাসের জন্ম দেয়। কালানুসারে সজ্জিত অনুরূপা দেবীর রচিত উপন্যাসগুলি হল –‘পোষ্যপুত্র’ (১৯১১), ‘বাগদত্তা’ (১৯১৪), ‘জ্যোতিহারা’ (১৯১৫), ‘মন্ত্রশক্তি’ (১৯১৫), ‘মহানিশা’(১৯১৯), ‘মা’(১৯২০), উত্তরায়ণ’ (১৯২৩), পথহারা’(১৯২৩) প্রভৃতি। মা, মহানিশা, মন্ত্রশক্তি ও বাগদত্তা এই চারটি উপন্যাস পরবর্তীকালে নাট্যরূপ দিয়ে মঞ্চস্থও করা হয়। তাঁর অন্যান্য জনপ্রিয় গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল –‘বিদ্যারত্ন’ (১৯২০), ‘রামগড়’ (১৯১৮), ‘পথের সাথী’ (১৯১৮), ‘রাঙাশাঁখা’ (১৯১৮) ‘সোনার খনি’ (১৯২২) প্রভৃতি। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩৩টি। তাঁর পিতার নাম মুকুন্দদেব মুখোপাধ্যায় এবং পিতামহ ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ভূদেব মুখোপাধ্যায়। তাঁর দিদি ইন্দিরা দেবী ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার এবং কবি। তিনি তাঁর আইন ব্যবসায়ী স্বামী শিখরনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে মজঃফরপুরে বসবাস করতেন। তিনি সমকালীন নারীর অধিকার আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৪৯ সালে তিনি ‘সাহিত্যে নারী -স্রস্টী ও সৃষ্টি’ নামে একটি আলোচনাধর্মী নিবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন। গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের এক অন্যতম সমাদৃত গ্রন্থবিশেষ। ভারতী পত্রিকার পৌষ সংখ্যায় ১৩১৭ বঙ্গাব্দ (জানুয়ারি ১৯১১) ‘দেবদূতের প্রতি রাজা অরিস্টনেমি’ এবং বৈশাখ সংখ্যা, ১৩২৩ (মে, ১৯১৬) তে ‘মৃত্যুঞ্জয়’ নামে অনুরূপা দেবী রচিত দুটি কবিতা পাওয়া যায়। সাহিত্যরচনার পাশাপাশি একজন সমাজসেবী হিসেবেও অনুরূপা দেবী ছিলেন অগ্রগণ্য। মেয়েদের শিক্ষার প্রসার ও প্রচারের কাজে তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেন। কাশী এবং কোলকাতায় বেশ কয়েকটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনের সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন। একাধিক নারীকল্যাণ আশ্রমেরও প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ‘মহিলা সমবায় প্রতিষ্ঠান’ স্থাপন করেন। সাহিত্য কৃতীর পুরষ্কারস্বরূপ অনুরূপা দেবী একাধিক সাহিত্য সম্মানে ভূষিত হন। কুন্তালিন সাহিত্যপুরস্কার প্রতিযোগিতার জন্যই তিনি তাঁর প্রথম ছোটগল্প লেখেন এবং ‘কুন্তালিন পুরস্কারে’ পুরস্কৃত হন। নিজ ধর্মের প্রতি অনুরাগ এবং সংস্কারমূলক কাজকর্মের জন্য শ্রীভারতধর্ম মহামণ্ডল নামক ধর্মীয় সংগঠন থেকে তিনি ১৯১৯ সালে ‘ধর্মচন্দ্রিকা’ এবং শ্রী শ্রী বিশ্বমানব মহামণ্ডল থেকে ১৯২৩ সালে ‘ভারতী’ উপাধি লাভ করেন। অনুরূপা দেবী ১৯৩৫ সালে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ‘জগত্তারিনী স্বর্ণপদক’-এ সম্মানিত হন। ছাড়াও ১৯৪১ সালে তিনি ‘ভুবনমোহিনী দাসী স্বর্ণপদক’ লাভ করার মধ্য দিয়ে তাঁর মুকুটে আরও একটি স্বর্ণপালক সংযোজিত হয়। ১৯৪৪ সালে তিনি ‘লীলা লেকচারার’ পদে অধিষ্ঠিত হন। তাঁর রচিত উপন্যাস মন্ত্রশক্তি, মা, মহানিশা, পথের সাথী, বাগদত্তা প্রভৃতি নাটক এবং চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছিল। তিনি ৩৩টি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। জীবনের স্মৃতিলেখা তাঁর অসমাপ্ত রচনা। আপনি সন্ন্যাসী তুমি, সর্ব্বত্যাগী শিব, ভোলা ব্যোমকেশ। তাই নিজ ভক্ত পেলে তারেও সন্ন্যাসী সাজাও মহেশ! আপনি শ্মশানবাসী, অঙ্গে মাখ ছাই, ভিক্ষাপাত্র সার, শ্মশানবহ্নির দাহ, বক্ষে দাও তাই, ভক্তে আপনার। উন্মাদ তাণ্ডব খেলা তব, প্রলয়ের গরজন গান তোমার আনন্দ-গীত ভকতের রোদনের তান। কালকূটে কন্ঠ ভরা তবু মৃত্যু-জয়ী, তুমি মৃত্যুঞ্জয়। অসীম দুঃখের বিষে জর্জ্জরিত নর তবু বেঁচে রয়।
রক্তে লেখা ইতিহাসের পাতায় এক অগ্নিময় নাম- অনন্ত লক্ষ্মণ কানহেরে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই উত্তাল সময়ে, যখন দাসত্ আপনার এলাকার সব ভাইরাল ভিডিওর জন্য ডাউনলোড করুন শুরু অ্যাপ (Shuru App) 👇🏻 https://shuru.co.in/dl/QjWlbu #pingla barta
pingla barta - ShareChat
রক্তে লেখা ইতিহাসের পাতায় এক অগ্নিময় নাম- অনন্ত লক্ষ্মণ কানহেরে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই উত্তাল সময়ে, যখন দাসত্বের শৃঙ্খল ছিঁড়ে ফেলতে বুকের রক্ত উথলে উঠছিল, তখনই জন্ম নেয় এক তরুণ বিপ্লবীর অদম্য সংকল্প। তিনি ছিলেন অভিনব ভারত-এর সাহসী সদস্য— যে সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন গণেশ দামোদর সাভারকর এবং বিনায়ক দামোদর সাভারকর। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি এমন এক পথ বেছে নিলেন, যার শেষ প্রান্তে অপেক্ষা করছিল ফাঁসির দড়ি— কিন্তু তবুও পিছু হটেননি এক পা। ১৮৯২ সালের ৭ই জানুয়ারি, ইন্দোর-এর মাটিতে জন্ম নেন অনন্ত। পূর্বপুরুষের ভিটে ছিল রত্নগিরি জেলায়। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই ছেলেটির জীবনের প্রথম অধ্যায় ছিল সাধারণ— কিন্তু ভাগ্য লিখেছিল অসাধারণ পরিণতি। প্রাথমিক শিক্ষা ইন্দোরে, তারপর মামার বাড়ি আওরঙ্গাবাদ-এ পড়াশোনা। বড় ভাই গণপতির সান্নিধ্য, আর চারপাশের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশ— সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে এক আগ্নেয়গিরি জেগে উঠছিল তাঁর অন্তরে। তখন ভারতবর্ষে স্বাধীনতা সংগ্রাম দুই ধারায় বিভক্ত— একদিকে অহিংস পথ, অন্যদিকে সশস্ত্র বিপ্লব। ১৯০৫ সালে ব্রিটিশদের কুখ্যাত বঙ্গভঙ্গ— হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভাজনের বিষ ছড়িয়ে দেয়। সেই অন্যায়ের আগুন বাংলার মাটি ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র দেশে। যুব সমাজ বুঝে গিয়েছিল— স্বাধীনতা ভিক্ষা করে নয়, ছিনিয়ে নিতে হয়! এই আগুনই স্পর্শ করেছিল অনন্তের হৃদয়। আওরঙ্গাবাদে থাকার সময় তিনি পরিচিত হন গোপন বিপ্লবী চক্রের সঙ্গে। গঙ্গারাম রূপচাঁদ শ্রফের বাড়িতে থাকার সময়, তাঁর মাধ্যমে সংযোগ তৈরি হয় নাসিকের গোপন বিপ্লবী দলের সাথে। গণু বৈদ্য, টোনপে— এইসব ছায়ার আড়ালে থাকা নামগুলো ধীরে ধীরে তাঁকে টেনে নেয় এক অদৃশ্য যুদ্ধক্ষেত্রে। এই সময়েই তিনি ‘মিত্র প্রেম’ নামে একটি উপন্যাস রচনা করেন— বন্ধুত্বের আড়ালে লুকিয়ে ছিল বিপ্লবের বীজ। নাসিকে তখন কৃষ্ণজি গোপাল কারভে এবং বিনায়ক নারায়ণ দেশপাণ্ডে-র মতো বিপ্লবীরা গোপনে সংগঠিত হচ্ছিলেন। সাভারকর ভাইদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনন্ত নেন এক চরম সিদ্ধান্ত— নাসিকের কালেক্টর জ্যাকসনকে হত্যা! ১৯০৯ সালে, ব্রিটিশ সরকার দেশপ্রেমমূলক লেখা প্রকাশের অভিযোগে সাভারকরদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দেয়। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিপ্লবীরা। ঠিক তখনই সুযোগ আসে— নাসিকের কালেক্টর এ. এম. টি. জ্যাকসন-এর বিদায় সংবর্ধনা। স্থান—বিজয়ানন্দ থিয়েটার, নাটক— ‘শারদা’, তারিখ— ২১ ডিসেম্বর ১৯০৯। নাটক শুরু হয়েছে… দর্শকাসন ভরা… জ্যাকসন প্রবেশ করলেন— ঠিক সেই মুহূর্তে— গুলি। এক, দুই, তিন— অনন্ত লক্ষ্মণ কানহেরের হাতে বন্দুক গর্জে উঠল। মুহূর্তেই লুটিয়ে পড়লেন জ্যাকসন— নিশ্চুপ, নিথর। হল জুড়ে আতঙ্ক, চিৎকার, বিশৃঙ্খলা— আর সেই ভিড়ের মাঝেই দাঁড়িয়ে আছেন অনন্ত… শান্ত, স্থির, নির্ভীক। তার পরিকল্পনা ছিল আত্মবলিদান— কিন্তু ভাগ্য তাকে সেই সুযোগও দিল না। সেখানেই গ্রেপ্তার হলেন তিনি। গ্রেপ্তারের পর একে একে ধরা পড়লেন তাঁর সঙ্গীরাও—কারভে ও দেশপাণ্ডে। ২০ মার্চ ১৯১০— আদালতের রায়—মৃত্যুদণ্ড। কোনো অনুতাপ নেই, কোনো ভয় নেই— শুধু ছিল দেশের জন্য শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার দৃঢ়তা। ১৯শে এপ্রিল, ১৯১০— ফাঁসির মঞ্চে উঠলেন তিন বিপ্লবী। দড়ি ঝুলছে… চারপাশে নীরবতা… আর সেই নীরবতাকে চিরে— একটি অদৃশ্য গর্জন— “বন্দে মাতরম!” মাত্র ১৮ বছর বয়সে (ক্ষুদিরামের পর অন্যতম কনিষ্ঠ) অনন্ত লক্ষ্মণ কানহেরে হেসে বরণ করলেন মৃত্যু। আজও তাঁর নাম ইতিহাসের অন্ধকারে ঢাকা পড়ে আছে। কিন্তু সত্যি হলো— যে তরুণ নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে দেশের জন্য প্রাণ দেয়, সে কখনও হারিয়ে যায় না। শতকোটি প্রণাম সেই মৃত্যুঞ্জয়ী বীরকে— যাঁর সাহস আজও শিরায় শিরায় আগুন জ্বালায়
ভয় কিসের৷ এক-এক করে ঝাঁপ দিলেন তিন ইনস্ট্রাকটরর৷ এবার পালা গীতার৷ নির্দিষ্ট সময়ে উড়ন্ত ডাকোটা বিমান থেকে ঝাঁপিয়ে পড়লেন ডা আপনার এলাকার সব ভাইরাল ভিডিওর জন্য ডাউনলোড করুন শুরু অ্যাপ (Shuru App) 👇🏻 https://shuru.co.in/dl/L0b9do #pingla barta
pingla barta - ShareChat
ভয় কিসের৷ এক-এক করে ঝাঁপ দিলেন তিন ইনস্ট্রাকটরর৷ এবার পালা গীতার৷ নির্দিষ্ট সময়ে উড়ন্ত ডাকোটা বিমান থেকে ঝাঁপিয়ে পড়লেন ডাক্তার গীতা চন্দ৷ একজন ব্যতিক্রমী সাহসী নারী, নিজের দক্ষতার প্রতি আস্থা রেখে হয়ে উঠেছিলেন অসাধারণ, অসামান্য। ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্স থেকে প্রস্তাব পেয়ে লুফে নিতে বিলম্ব করেননি। তিনি ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রথম মহিলা প্যারাট্রুপার গীতা চন্দ্র একজন বাঙালি কন্যা। ঐতিহাসিক সেই মুহূর্ত,এক হাজার ফুট ওপর দিয়ে ওড়া ভারতীয় বিমানবাহিনীর উড়ন্ত ডাকোটা বিমান থেকে প্যারাসুটের সাহায্যে আকাশে ঝাঁপ দিয়েছিলেন গীতা চন্দ্র একদম নিঁখুত ল্যান্ডিং৷ ইংরেজি ক্যালেণ্ডারে দিনটি ছিল ১৯৫৯ সালের ১৭জুলাই। © ধ্রুবতারাদের খোঁজে গীতা চন্দ ডাক্তার হিসেবে ভারতীয় বিমান বাহিনীতে যোগ দেন।বিমান বাহিনীর ডাক্তারদের প্যারাট্রুপার হবার আহবান জানিয়ে সব স্টেশনে সার্কুলার পাঠানো হয়। শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি কোনও পুরুষ ডাক্তার প্যারাট্রুপারের স্বেচ্ছায় প্রশিক্ষণের প্রস্তাব গ্রহণ করেননি এবং বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করে নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন। কারণ অনেকে মনে করেছিলেন প্যারা-ট্রুপিং একটি বিপজ্জনক কাজ যেটি শুধুমাত্র সৈন্যদের জন্যই প্রযোজ্য। ১৯৫৯ সালের ১৪মে গীতা প্যারাট্রুপার ট্রেনিং স্কুলে যোগ দিলেন৷ তারপর কঠোর অনুশীলন৷ তিনি একমাত্র শিক্ষানবিশ হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন। শারীরিক সক্ষমতা,কঠোর পরিশ্রমে সব প্রতিকূল পরিস্থিতি জয় করলেন৷ অবশেষে এল কাঙ্খিত সেই দিন,আসল পরীক্ষা বিমান থেকে ঝাঁপ দিয়ে প্যারাসুটের সাহায্যে নামতে হবে মাটিতে৷ . ১৭জুলাই ১৯৫৯সাল, উড়ন্ত বিমান থেকে প্যারাসুটের সাহায্যে ঝাঁপ দেবার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ডাক্তার গীতা চন্দ৷ ঐতিহাসিক ও দুঃসাহসিক সেই দৃশ্য দেখতে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়েছেন৷ গীতা শক্ত হয়ে বিমানে দাঁড়িয়ে, সবুজ আলোর সঙ্কেতে লাফিয়ে পড়বেন ডাকোটা বিমান থেকে৷ দু'চার সেকেণ্ডের জন্য গীতার মনে হল সব যেন নিশ্চল হয়ে গেল৷ যেন দেহ,মন,চিন্তাশক্তি যেন তাদের সত্ত্বা হারিয়ে ফেলেছে৷ হঠাৎ তিনি জেগে উঠলেন প্যারাসুটের টানে৷ বোধশক্তি ফিরে পেলেন৷ ওপরের দিকে তাকিয়ে দেখলেন প্যারাসুট পূর্ণমাত্রায় স্ফীত হয়ে বায়ুপথে দেহের অধোগতিকে মন্থর করছে৷ এক হাজার ফুট ওপর থেকে ঝাঁপ দেওয়ার কুড়ি সেকেন্ডের মধ্যে মাটির নীচের জিনিসগুলো স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে৷ চল্লিশ সেকেণ্ডের মধ্যে খুব নীচে নেমে এসে নামবার জন্য নিজেকে তৈরি করে ফেললেন৷ সুষ্ঠু ভাবে মাটিতে নেমে এলেন বাঙালি তথা দেশের প্রথম মহিলা প্যারাট্রুপার গীতা চন্দ৷ সবাই অভিনন্দিত করছেন তাঁকে৷ সবার প্রশ্ন কেমন লাগল৷ এক মিনিটের কম হলেও অভিজ্ঞতাটা তিনি বর্ণনা করবেন কিভাবে! সবাই যে তাঁকে কেবল অভিনন্দন জানিয়ে যাচ্ছেন৷ একই বছর ২৫ জুলাই আবার প্যারাসুটের সাহায্যে ঝাঁপ দিতে হবে৷ সেটা আবার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ মেননের সামনে৷ প্রথমবার নিখুঁত ল্যান্ডিং হলেও সেদিন কিন্তু গীতার প্যারাসুটের দড়িতে জট পাকিয়ে গিয়েছিল৷ তবে প্যারাসুটকে নিয়ন্ত্রন করে গীতা নেমে এসেছিলেন একই রকম দক্ষতায়৷ এভাবে তাঁকে দিতে হয়েছিল সাতটি জাম্প,এর মধ্যে একটি রাতের বেলা৷ শেষ হল ট্রেনিং ,আসলো তাঁর জীবনের স্মরণীয় দিন ১৮আগস্ট ১৯৫৯৷ সেদিন তাঁকে প্যারাট্রুপারের ব্যাজ দেওয়া হয়,উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর এয়ার মার্শাল সুব্রত মুখার্জি৷ ভারতের প্রথম মহিলা প্যারাট্রুপার হলেন একজন বাঙালি কন্যা,গীতা চন্দ্র। অসংখ্য মানুষ গীতাকে অভিনন্দিত করেছেন৷ নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ থেকে এলএমএফ ও কনডেন্সড কোর্স করে মেডিকেল কলেজ থেকে গীতা এমবিবিএস পাশ করে আর্মি মেডিকেল কোরে যোগ দিয়েছিলেন ১৯৫৭সালে৷ সেখান থেকে প্যারাট্রুপার হয়েছেন৷ প্রথমে ছিলেন ফ্লাইং অফিসার,পরে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট৷ আদি বাড়ি কুমিল্লায়৷ শৈশব কেটেছে রংপুরে৷ © ধ্রুবতারাদের খোঁজে #GitaChandra #BengaliGirl #FirstFemaleParatrooper #IndianAirForce #Dakotaaircraft. গ্রন্থঋণ,চিত্রঋণ,খেলাধূলায় বাঙলার মেয়ে,মুকুল
Brahma of Mirpur Khas, Sindh, Pakistan (Now in National Museum of Pakistan in Karachi) English translation in Photo descr আপনার এলাকার সব ভাইরাল ভিডিওর জন্য ডাউনলোড করুন শুরু অ্যাপ (Shuru App) 👇🏻 https://shuru.co.in/dl/GjaUoQ #pingla barta
pingla barta - ShareChat
Brahma of Mirpur Khas, Sindh, Pakistan (Now in National Museum of Pakistan in Karachi) English translation in Photo description একজন চাষী তার মাঠে লাঙল দিচ্ছিলেন। দিতে দিতে কি যেন একটা ধাতব বস্তুর শব্দ পেলেন। লাঙলের ফলা আটকে গেল কিছুতে। চাষী কৌতূহলী হয়ে মাটি সরিয়ে দেখলেন — একটা অদ্ভুত ধাতব মূর্তি উঠে এলো! চারটি মুখ, দুই হাত, পুরনো পিতল-কাঁসার মতো চেহারা। সেই মাঠ ছিল সিন্ধের মিরপুর খাসের কাছে। বছরটা ১৯২০-এর দশকের শুরু। স্কটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক হেনরি কুসেন্স যখন খবর পেলেন, তিনি অবাক হয়ে গেলেন। এটা ছিল চতুর্মুখ ব্রহ্মার মূর্তি — গুপ্ত যুগের (৫ম-৬ষ্ঠ শতাব্দী) এক অমূল্য ব্রোঞ্জ মূর্তি, যার উচ্চতা ৩ ফুট ২ ইঞ্চি। চারটি মুখই মসৃণ, চোখ অর্ধ-নিমীলিত, মাথায় জটামুকুট, কাঁধে যজ্ঞোপবীত আর সম্ভবত মৃগচর্ম। বাম হাতে মালা গোনার ভঙ্গি, ডান হাতে বেদের বই ধরার ভঙ্গি। মূর্তিটি এত সুন্দরভাবে তৈরি যে আজও দেখলে মনে হয় যেন কালের গভীরে হারিয়ে যাওয়া কোনো মন্দির থেকে উঠে এসেছে। আজ এই মূর্তি করাচির ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ পাকিস্তানে সংরক্ষিত। সিন্ধের প্রাক-ইসলামি ঐতিহ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। কল্পনা করুন — একজন সাধারণ চাষীর লাঙলের আঘাতে ১৪০০ বছরের পুরনো দেবতা জেগে উঠলেন মাটির নিচ থেকে! আপনার মতে এই আবিষ্কারের সবচেয়ে অবাক করা বিষয় কী? কমেন্টে জানান। #মিরপুরখাস_ব্রহ্মা #সিন্ধের_প্রাচীন_ঐতিহ্য #গুপ্তযুগ #প্রত্নতত্ত্ব #BrahmaStatue #SindhHeritage
🙏🌷|| প্রা ত্য হি ক সা ধু স ঙ্গ ||🌷🙏 🙏🌷[পূজ্যপাদ বীরেশ্বরানন্দজী] মহারাজ বেলুড় মঠে আছেন। বুদ্ধ পূর্ণিমা। মহারাজ বসে আপনার এলাকার সব ভাইরাল ভিডিওর জন্য ডাউনলোড করুন শুরু অ্যাপ (Shuru App) 👇🏻 https://shuru.co.in/dl/291XJ8 #pingla barta
pingla barta - ShareChat
🙏🌷|| প্রা ত্য হি ক সা ধু স ঙ্গ ||🌷🙏 🙏🌷[পূজ্যপাদ বীরেশ্বরানন্দজী] মহারাজ বেলুড় মঠে আছেন। বুদ্ধ পূর্ণিমা। মহারাজ বসে আছেন। দুজন ব্রহ্মচারী এসে তাঁকে প্রণাম করে বললেনঃ "মহারাজ, আজ বুদ্ধপূর্ণিমা, আমরা আপনাকে প্রণাম করতে এসেছি।" মহারাজ হেসে বললেন: "তোমাদের অনেক বছর আগের একটা মজার কথা শোনাই। বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বেলুড় মঠে বুদ্ধমূর্তিকে সুন্দর করে সাজানো হতো। পূজার পর স্বামী অখণ্ডানন্দজী মহারাজ হেসে আমাদের সকল ব্রহ্মচারীকে বললেন: আজ বুদ্ধপূর্ণিমা, 🌷।জানইতো ভগবান বুদ্ধের তিনটি আদেশ মন্ত্র আছে — 'বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি', 'ধর্মং শরণং গচ্ছামি' এবং 'সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি'। অতএব তোমাদের সকলকে তিন-তিনবার সাষ্টাঙ্গ প্রণাম।🙏 করতে হবে। আমরা সবাই খুশি হয়ে তিন-তিনবার সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করে তাঁর আশীর্বাদ গ্রহণ করি।” এই শুনে দুজন ব্রহ্মচারী হেসে বললেন: "মহারাজ, আমরাও আজ আপনাকে তিনবার সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করব।" মহারাজ হেসে বলেন: "তোমাদের ছাড় দিচ্ছি; একবার করলেই হবে।" তবুও সেই দুজন ব্রহ্মচারী তিন-তিনবার সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করে মহারাজের আশীর্বাদ নিয়ে খুশি হয়ে ফিরে যায়।🙏🌷 মহারাজ চেরাপুঞ্জিতে অনেকবার গিয়েছেন। এইরকম একবার মহারাজ গিয়েছেন, রাতে খাওয়ার পর সাধু-ব্রহ্মচারীরা বসেছেন তাঁকে ঘিরে। তিনি মজার মজার গল্প বলছেন। কোন কোন সাধুও হাসির গল্প বলছেন। এক ব্রহ্মচারী উঠে গিয়ে একটা রেকর্ড নিয়ে এল — ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাস্যকৌতুক। সেটা চালানো হলো। মহারাজ একাগ্র মনে তা শুনছেন আর হো-হো করে হাসছেন। রেকর্ডের একদিক শেষ হবার পর আগ্রহ নিয়ে বলছেন: "বাঃ, দারুণ হাসির, অন্য দিকটাও শোনাও।" দুদিক শোনা হয়ে গেলে জিজ্ঞাসা করলেন: "এরকম রেকর্ড আর নেই ? ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় সত্যিই জিনিয়াস, হাসতে হাসতে আমার পেট ফেটে গেল।" 🙏🌷।একদিন সারদা মঠের কয়েকজন সন্ন্যাসিনী-ব্রহ্মচারিণী বেলুড় মঠে এসেছেন। চা-পানের প্রসঙ্গ উঠল। চা যেহেতু নেশার দ্রব্য, তাই একজন ব্রহ্মচারিণী বললেনঃ "মহারাজ, মঠে চা-পান করতে ভালোবাসি বলতে সঙ্কোচ হয়। কারণ মাতাজীরা বলেন, 'চা-খাও, না চা তোমায় খেয়েছে ?” অর্থাৎ ওই নেশাটা তোমায় পেয়ে বসেছে কিনা ? মহারাজ গাম্ভীর্য নিয়ে বলে উঠলেনঃ "দেখ, চা-এর নিন্দা একদম শুনবে না। কেউ যদি চা-এর নিন্দা করে, তবে তাকে তিন ভাষায় তিনটি বাক্য বলে থামিয়ে দেবে — ইংরেজীতে বলবে — 'all time is tea time', সংস্কৃতে — 'ন চাযুক্তস্য ভাবনা', আর বাংলায় বলে দেবে — 'চা তাতায় কিন্তু মাতায় না'। সন্ন্যাসিনী-ব্রহ্মচারিণীরা জোরে হো-হো করে হেসে উঠলেন। মহারাজ বললেন: "আস্তে আস্তে। এটা বেলুড় মঠ, সারদা মঠ নয়।" -স্বামী চৈতন্যানন্দ।।🙏🙏🙏🌷🌼🌷 প্রবন্ধ : স্বামী বীরেশ্বরানন্দ: এক দিব্য জীবন।।🙏🙏🙏🌷🌼🌷 মূলগ্রন্থ : স্বামী বীরেশ্বরানন্দ : এক দিব্য জীবন।।🙏🙏🙏🌷🌼🌷 সম্পাদনা :স্বামী চৈতন্যানন্দ।।🙏🙏🙏🌷🌼🌷 পৃ.: ৫৮-৫৯ জয় মহামাঈকী জয় ।।🙏🙏🙏🌺💟🌺 জয় ভগবান শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেব কী জয়।।🙏🙏🙏🌺💟🌺 জয় স্বামীজি মহারাজজী কী জয়।।🙏🙏🙏🌺💟🌺
১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেছিলেন পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। আর কিছুদিন পরেই তার দ্বিশত জন্মবর্ষ (২৬ সেপ্টে আপনার এলাকার সব ভাইরাল ভিডিওর জন্য ডাউনলোড করুন শুরু অ্যাপ (Shuru App) 👇🏻 https://shuru.co.in/dl/3vfpRN #pingla barta
‘শিক্ষা সংস্কারক বিদ্যাসাগর’ নিজের সমস্ত কর্ম-প্রচেষ্টাতেই সবকিছু যাতে বেশ একটি সুনিয়ন্ত্রিত পথ ধরে এগিয়ে চলে—এই উদ্দেশ্য আপনার এলাকার সব ভাইরাল ভিডিওর জন্য ডাউনলোড করুন শুরু অ্যাপ (Shuru App) 👇🏻 https://shuru.co.in/dl/ZJEFpR #pingla barta
pingla barta - ShareChat
‘শিক্ষা সংস্কারক বিদ্যাসাগর’ নিজের সমস্ত কর্ম-প্রচেষ্টাতেই সবকিছু যাতে বেশ একটি সুনিয়ন্ত্রিত পথ ধরে এগিয়ে চলে—এই উদ্দেশ্যে একটি পূর্ব-পরিকল্পিত কর্মসূচী অনুসরণ করাই পণ্ডিত বিদ্যাসাগরের কর্মজীবনের বিশেষ রীতি ছিল। বিশেষ করে শিক্ষার সংস্কারের ক্ষেত্রে তাঁর বিভিন্ন কর্ম-প্রচেষ্টায় তিনি যে এই রীতিটিই অবলম্বন করেছিলেন, একথা বেশ জোরের সঙ্গেই বলা চলে। এবিষয়ে তাঁর নিজস্ব একটি পদ্ধতি ছিল যেটিকে অনুসরণ করে তিনি তখনকার দিনের তরুণদের এমন একটি সর্বাঙ্গিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যাতে তাঁরা নিজেরাই এক-একটি দীপশিখার মত তাঁদের চতুর্দিকে জ্ঞানের আলো বিকিরণ করতে পারেন। আর একাজের জন্য বিভিন্ন শিক্ষায়তন প্রতিষ্ঠা এবং সেগুলির সুষ্ঠু পরিচালনাও তাঁর এই কর্মসূচীর আরেকটি দিক ছিল। কিন্তু একইসাথে এর আরও কতকগুলি দিক ছিল যেগুলো ইতিহাসে উপেক্ষণীয় নয়। যেমন—বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তকের সুপরিকল্পিত প্রকাশনাও এবিষয়ে পণ্ডিত বিদ্যাসাগরের কাজের একটি লক্ষ্যণীয় অংশ ছিল। তাছাড়া ঠিক কি কি বিষয় শিক্ষা দেওয়া হলে ছাত্ররা নিজেদের ভাবপ্রকাশ করবার ক্ষমতা অর্জন করতে পারবেন—এই প্রশ্নটিও বিদ্যাসাগরের সময়কার বাংলায় কম কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। আর তাই ঊনিশ শতকের বাংলার ইতিহাসের একটি সঙ্কট সময়ে তিনি ঠিক কি উপায়ে এসব সমস্যার সম্মুখীন হয়ে এগুলির সমাধান করেছিলেন, এটাও ইতিহাসে বিশেষভাবে প্রণিধানের যোগ্য। বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, খৃষ্টীয় ঊনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসের একটি চিত্তাকর্ষক সময় উপস্থিত হয়েছিল। এসময়ে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সঙ্গে প্রাচীন সংস্কৃতির সঙ্ঘাত অনেকগুলি নতুন শক্তির উৎসমুখকে খুলে দিয়েছিল, এবং সেই শক্তিপ্রবাহের উজান-ভাটির আবর্তে পড়ে বাংলা ও বাঙালির অবস্থাটা তখন খুব জটিল হয়ে উঠেছিল। এরফলে তখন ধর্মের ক্ষেত্রে যে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটেছিল, সেটার একদিকে ছিল প্রতীক নিয়ে উপাসনা—সমকালীন খৃষ্টান ধর্মযাজকেরা যেটাকে পুতুল-পূজা আখ্যা দিয়ে অত্যন্ত নিন্দা করেছিলেন; আর অন্যদিকে ছিল খৃষ্টানদের গির্জায় প্রচারিত নিরাকার উপাসনা পদ্ধতি। আর এসময়ে এই বিতর্ক থেকেই একটি নতুন ধর্মের জন্মও হয়ে গিয়েছিল। বলাই বাহুল্য যে, এধরণের পরিস্থিতিতে তখনকার হিন্দু যুবসম্প্রদায়কে একটি অত্যন্ত জটিল সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। ফলে এসময়ের হিন্দু যুবসম্প্রদায়ের মধ্যে মূলতঃ তিনটি প্রশ্ন নিয়ে বাদ-বিবাদ দেখা দিয়েছিল— (১) পুতুল-পূজার বিধান আছে বলে ডিরোজিওর অনুগামীদের মত তাঁরাও হিন্দুধর্মকে অত্যন্ত হেয় বলে প্রচার করে কি খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করবেন? (২) নাকি মিশনারিদের পীড়াপীড়িতে কান না দিয়ে চিরাচরিত প্রথায় নিজেদের ধর্মানুষ্ঠানগুলিকেই আঁকড়ে ধরে থাকবেন? (৩) নাকি এসময়ে তৃতীয় যে একটি পথের সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি অনুসরণ করে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ দ্বারা গঠিত মধ্যপথাবলম্বী নতুন ধর্মীয় ভ্রাতৃসঙ্গে যোগ দেবেন? বলাই বাহুল্য যে, তখনকার এই সমস্যাসঙ্কুল অবস্থাতে কোন একটি স্থির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটা তাঁদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে গিয়েছিল; এবং এর প্রায় একপুরুষ কাল অতীত হওয়ার পরে শ্রীরামকৃষ্ণ এবং তাঁর সুযোগ্য শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ এবিষয়ে তাঁদের একটা সমাধানের পথের সন্ধান না দেওয়া পর্যন্ত সমগ্র বিষয়টি তাঁদের কাছে কঠিন হয়েই থেকে গিয়েছিল। সমকালে শিক্ষার ক্ষেত্রেও, তাঁরা ঠিক কোন শিক্ষা-পদ্ধতি অনুসরণ করবেন—এবিষয়েও তাঁদের একইরকমের একটি পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছিল। যার একদিকে ছিল প্রাচীন পদ্ধতির শিক্ষার আকর্ষণ, যেটার জন্য বিজাতীয় শাসকেরাও তখন যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন; আর অন্যদিকে ছিল তখন যেধরণের পাশ্চাত্য শিক্ষা হিন্দুকলেজ ও বিভিন্ন মিশনারি কলেজগুলিতে দেওয়া হত—সেসবের অধিকতর মনোজ্ঞ আকর্ষণ। সেযুগের বিজাতীয় সরকার এই দ্বিতীয় পদ্ধতির শিক্ষাকে তাঁদের আনুকূল্য দান করে এটির প্রচারের সুযোগ প্রসারিত করবার জন্য মফঃস্বলের নানা জায়গায় জেলা স্কুল স্থাপন করে দিয়েছিলেন। এরফলে সমকালীন বাঙালি যুবসম্প্রদায়ের মধ্যে যে প্রশ্নগুলি উঠেছিল, সেগুলি হিল যে— (১) তাঁরা কি বিজাতীয় সরকার কর্তৃক প্রচারিত দ্বিতীয় শিক্ষা-পদ্ধতিটিই গ্রহণ করবেন? (২) ভাবপ্রকাশের ক্ষমতা অর্জন যেহেতু শিক্ষার একটি সারাংশ, সেহেতু এই ভাবপ্রকাশের মাধ্যম কি তাঁদের মাতৃভাষা বাংলা হবে? (৩) যদি ভাবপ্রকাশের মাধ্যম হিসাবে বাংলাকেই তাঁরা গ্রহণ করে নেন তাহলে তাতে তাঁদের অভীষ্ট ফললাভ কি সম্ভব হবে? (৪) যেহেতু সেকালের বাংলা গদ্যের অবস্থা অত্যন্তই অপরিণত ছিল, সেহেতু তাঁরা কি ইংরেজিকেই নিজেদের মাধ্যম বলে স্বীকার করে নেবেন? এক্ষেত্রে স্মরণীয় যে, আলোচ্য সময়ে ইংরেজির আকর্ষণ একাধিক রকমের ছিল এবং এর গদ্যসাহিত্য অতি চমৎকার বলে গণ্য হত। এছাড়া এই ভাষাটি তখন শাসক-সম্প্রদায়ের ভাষা বলে এর মর্যাদাও অপরিমেয় ছিল। ফলে শিক্ষার ক্ষেত্রে বাঙালি যুবসম্প্রদায় তখন কোন পথ অবলম্বন করবেন, এটা স্থির করা তাঁদের পক্ষে কোন সহজসাধ্য বিষয় ছিল না। ইতিহাস বলে যে, একইসময়ে পণ্ডিত বিদ্যাসাগরও শিক্ষার বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছিলেন, এবং শেষপর্যন্ত এবিষয়ে এমন একটি সমাধানে পৌঁছেছিলেন—যা তখনকার প্রচলিত মতের বিরোধী হলেও তাঁর গভীর অন্তর্দৃষ্টির পরিচায়ক ছিল। সবদিক বিবেচনা করে তিনি তখন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন যে, বাংলা ভাষাকেই শিক্ষিত বাঙালিদের ভাবপ্রকাশের মাধ্যম হতে হবে। কিন্তু তখনও পর্যন্ত যেহেতু বাংলা ভাষা যথেষ্ট পরিণত অবস্থায় পৌঁছায়নি, সেহেতু তিনি একইসাথে এটাও ঠিক করেছিলেন যে, ছাত্রদের জন্য সংস্কৃত ভাষারও একটি পাঠক্রমের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাঁর মত ছিল যে, সংস্কৃত ভাষাজ্ঞানের বনিয়াদ তৈরি হলে বাংলায় তারা আরও ভাল করে নিজেদের মনের ভাব প্রকাশ করতে সমর্থ হবেন, কিন্তু সত্যিকারের বিজ্ঞান-ভিত্তিক জ্ঞান প্রচার করাই এবিষয়ে তাঁদের মূল কর্তব্য হবে। আর এজন্য ইংরেজি ভাষাতেও পারদর্শী হওয়াটা তাঁদের পক্ষে অপরিহার্য হতে হবে, যাতে তাঁরা সেযুগের বিজ্ঞান-সম্বন্ধীয় বিদ্যাগুলি অধিগত করতে পারেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, এই পদ্ধতি অনুসরণ করে বাঙালি যুবসম্প্রদায়কে শিক্ষা দিলে তাঁদের মধ্যে থেকে এমন একদল ছাত্র তৈরি হয়ে বেরিয়ে আসবেন, যাঁরা সত্যিকারের জ্ঞানের বর্তিকাবাহী অগ্রদূত হবেন। ইংরেজি শিক্ষার সাহায্যে তাঁরা নিজেদের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান আহরণ করবেন, আর সংস্কৃত ভাষা আয়ত্ত করবার ফলে মাতৃভাষায় তাঁদের ভাবপ্রকাশের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তখন এপ্রসঙ্গে এডুকেশন কমিটির তৎকালীন সেক্রেটারি ডাঃ মুয়াটের সঙ্গে তিনি যে পত্রলাপ করেছিলেন, তাতে তিনি নিজের এই পরিকল্পনাকে একটা সুস্পষ্ট রূপ দিয়েছিলেন বলে দেখতে পাওয়া যায়। ঊনিশ শতকের কলকাতার সংস্কৃত কলেজ পরিদর্শন করবার পরে ডঃ ব্যালান্টাইনের কতগুলি সুপারিশের ফলে তখন যে বিতর্কে বিদ্যাসাগর জড়িত হয়ে পড়েছিলেন, মুয়াটের কাছে পত্রে লেখা তাঁর বক্তব্যগুলি সেসবেরই একটি অঙ্গ ছিল। আসলে ওই সময়ে যখন ডঃ ব্যালান্টাইনের সুপারিশের অনেকগুলিকে কাজে রূপায়িত করাটা সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষরূপে পণ্ডিত বিদ্যাসাগরের কঠিন বলে মনে হচ্ছিল এবং বিদেশী কর্তৃপক্ষ যখন এবিষয়ে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে সেই সুপারিশগুলো রূপায়িত করবার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর মধ্যেকার শক্তিধর মানুষটি আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। যারফলে তখন শিক্ষা বিষয়ে তুমুল তর্ক-বিতর্কের সূত্রপাত ঘটেছিল। এবারে দেখা যাক যে, শিক্ষাদান বিষয়ে তাঁর নিজের পরিকল্পনাটি নিয়ে তিনি তখন নিজে কি বলেছিলেন। এবিষয়ে ১৮৫০ সালের ৫ই অক্টোবর তারিখে ডঃ মুয়াটকে তিনি নিজের মতামত সম্বলিত যে ইংরেজি পত্রটি লিখেছিলেন, সেটার কিছুটা অংশের বঙ্গানুবাদের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে, যা নিম্নরূপ ছিল— “বাংলায় যথোপযুক্ত ব্যুৎপত্তি যাতে তাঁরা অর্জন করতে পারে সেজন্য প্রথমে তাঁদের সংস্কৃত শিখিয়ে তারপর ইংরেজীতে তাঁদের সত্যিকারের জ্ঞান দান করবার স্বাধীনতা যদি আমাকে দেওয়া হয়, আর আমার এই কাজে যদি আমাকে এডুকেশন কমিটি থেকে সাহায্য এবং উৎসাহ দেওয়া হয়, তাহলে আমি আপনাকে কথা দিতে পারি যে, কয়েক বছরের মধ্যে, এমন একদল ছাত্রকে আমি তৈরি করে দেব, যাঁরা তাঁদের লেখার এবং শেখাবার ক্ষমতার গুণে এমন যোগ্যতার সঙ্গে জনসাধারণের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের কাজে সহায়তা করবে, যেমনটি আপনাদের ইংলণ্ডস্থ বা ভারতীয় কোনো কলেজের উৎকৃষ্ট ছাত্র বলে পরিগণিত কারও দ্বারা সম্ভব নয়।” শিক্ষা বিষয়ে বিদ্যাসাগরের পরিকল্পনার যেসব বৈশিষ্ট ছিল, সেগুলি সম্বন্ধে তাঁর এই পত্রটি থেকে মোটামুটি পরিষ্কার একটা ধারণা করা যায়। তাঁর মত ছিল যে, শিক্ষার্থীকে আত্মপ্রকাশের ক্ষমতা অর্জন করতে হবে, এবং এই কাজটি শিক্ষার্থীরা তাঁদের মাতৃভাষাতেই সবথেকে ভালোভাবে করতে পারবেন। কিন্তু এই ক্ষমতা যথোপযুক্তভাবে আয়ত্ত করতে হলে সংস্কৃত ভাষাতে তাঁদের একটা গোড়াপত্তন হওয়ার দরকার রয়েছে; কারণ, এই ভাষার সাহিত্য একদিকে যেমন নিঃসন্দেহে পৃথিবীর প্রাচীনতম সাহিত্যগুলির মধ্যে সবথেকে ঐশ্বর্য-সম্পন্ন, অন্যদিকে তেমনি বাংলা ভাষার সঙ্গেও এর নাড়ীর যোগ রয়েছে। কিন্তু জ্ঞানালোক বিতরণের সত্যিকারের সহায়ক হতে হলে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষায় শিক্ষালাভেরও প্রয়োজন রয়েছে, কেননা বিদ্যাসাগরের সময়ে এই ভাষার সাহায্যেই বিজ্ঞানচর্চার সর্বাধুনিক ফল সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করা সম্ভবপর ছিল। এরপরে নিজের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী পণ্ডিত বিদ্যাসাগর কাজগুলিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে কতগুলি সুপ্রাচীন ও সর্বোৎকৃষ্ট সংস্কৃত গ্রন্থ ও বিভিন্ন পাঠক্রমের উপযুক্ত বাংলা পাঠ্যপুস্তক প্রকাশনার একটি কর্মসূচী গ্রহণ করেছিলেন। আর তাঁর এই কর্মসূচীর প্রথমধাপে এসব গ্রন্থ প্রকাশ করবার জন্য তখন একটি ছাপাখানার প্রয়োজন হয়েছিল, যারফলে ১৮৪৭ সালে তাঁর উদ্যোগে সংস্কৃত প্রেস স্থাপিত হয়েছিল। প্রথমে মদনমোহন তর্কালঙ্কার এতে তাঁর শরিক হলেও পরে বিদ্যাসাগর এই প্রেসটিকে সম্পূর্ণভাবে নিজের তত্ত্বাবধানে নিয়ে নিয়েছিলেন। এরসাথে প্রায় একইসময়ে সংস্কৃত প্রেসের একটি পরিপূরক সংস্থা হিসেবে, প্রেস থেকে প্রকাশিত পুস্তকগুলি মজুত রেখে বিক্রয় করবার জন্য সংস্কৃত প্রেস ডিপজিটরির জন্ম হয়েছিল। এসমস্ত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরে তিনি সুনিয়ন্ত্রিতভাবে তিনটি শ্রেণীর গ্রন্থ প্রকাশ করবার একটি বিরাট পরিকল্পনা নিয়ে আসল কর্মযুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছিলেন। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণীতে ছিল তাঁর স্বরচিত সংস্কৃত ব্যাকরণের কয়েকটি বই, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ছিল অত্যন্ত যত্নসহকারে সম্পাদিত প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থাবলী, আর তৃতীয় শ্রেণীতে ছিল—একেবারে নীচতলা থেকে শুরু করে এক-এক তলা করে উঠে সেকালের শিক্ষাক্ষেত্রের সর্বোচ্চ তলায়—যেখানে ভাষার উপরে শিক্ষার্থীর দখল সম্পূর্ণ হচ্ছিল, সেগুলির সবকটি তলার উপযুক্ত করে তাঁর নিজেরই রচিত বাংলা গ্রন্থপরস্পরা। এখানে স্বাভাবিকভাবেই যে প্রশ্নটা চলে আসে, সেটা হল যে, এসময়ে পণ্ডিত বিদ্যাসাগর সংস্কৃত ভাষায় ব্যাকরণের পাঠ্যপুস্তক রচনাতেও প্রবৃত্ত হয়েছিলেন কেন? আসলে এই কাজটি করবার পিছনেও তাঁর যথেষ্ট কারণ ছিল। সংস্কৃত ভাষার ব্যাকরণ অধিগত করাকে সংস্কৃত সাহিত্যে প্রবেশের চাবিকাঠি বলা যেতে পারে। কিন্তু প্রাচীন এই ভাষাটির ব্যাকরণের সূত্রগুলি নানা খুঁটিনাটি নিয়ে এতটাই বহু-বিস্তৃত, এবং কারক, ক্রিয়ার কাল ইত্যাদি ভেদে এর মধ্যে নানাধরণের রূপান্তরের সংখ্যা এতটাই বেশি যে, এই ভাষাটিকে আয়ত্ত করা অত্যন্ত আয়াসসাধ্য এবং শ্রমসাপেক্ষ। অতীতের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়াবার জন্যই যেন প্রচলিত ব্যাকরণের সূত্রগুলি কতগুলি সঙ্কেত-ধর্মী সংক্ষিপ্ত ধ্বনি-সমবায়ে লিখিত হত, যথাযোগ্য টীকা-টিপ্পনি ছাড়া যেগুলি তখন এমনিতেই রীতিমত দুর্বোধ্য ছিল। তখনকার দিনের অনুসৃত পদ্ধতি অনুসারে ছাত্রদের দীর্ঘ তিন বছর ধরে ব্যোপদেবের মুগ্ধবোধ ব্যাকরণ শিক্ষা করানো হত, আর সঙ্কেত-ধর্মী সংক্ষিপ্ত সূত্রগুলির অর্থ বিশেষ না বুঝেই সেগুলি তাঁরা কণ্ঠস্থ করতেন। তখনকার শিক্ষালাভের এই প্রণালী অত্যন্তই ক্লান্তিকর ছিল, এবং এতে যে ফললাভ হত, সেটা একাজের জন্য যে সময় এবং প্রযত্ন ব্যয় করা হত, সে তুলনায় রীতিমত অকিঞ্চিৎকর ছিল। ছাত্রাবস্থায় বিদ্যাসাগর নিজেও এই কষ্টকর প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন বলে, তিনি এবিষয়ে নিঃসন্দেহ হয়েছিলেন যে, সংস্কৃত ব্যাকরণ আয়ত্ত করবার সমস্যাটির সমাধানের জন্য আরও যুক্তিসম্মত পথে অগ্রসর হওয়া উচিত। আর একারণেই তিনি তখন দু’স্তরের দুটি ব্যাকরণ লিখেছিলেন। এর মধ্যে প্রথমটি ছিল আরম্ভকালীন ধরণের, যা সেযুগের শিক্ষার্থীদের মনে সংস্কৃত ব্যাকরণের মূলগত বৈশিষ্টগুলির সম্বন্ধে একটা ধারণা জন্মিয়ে দেওয়ার জন্য লেখা হয়েছিল। এবিষয়ে তাঁর লেখা ‘উপক্রমণিকা’ গ্রন্থটির নামের মধ্যেই এর পরিচয় পাওয়া যায়। এর উপরের স্তরের ব্যাকরণটির অধ্যয়ন এটিকেই ভিত্তিস্বরূপ করে চলবে—এটাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল। তিনি এর উপরের স্তরের ব্যাকরণটির নাম দিয়েছিলেন ‘ব্যাকরণ-কৌমুদী’ এবং এটি সংস্কৃত ব্যাকরণের সমগ্র ক্ষেত্রটি পরিক্রমা করে তিন ক্ষেপে প্রকাশিত হয়েছিল। এই ব্যাকরণে তিনি মূলতঃ যে ছকটি অনুসরণ করেছিলেন, সেটি এতটাই যুক্তিসম্মত এবং এর বিষয়-বিন্যাস এতটাই সুশৃঙ্খল ছিল যে, সেকালের ছাত্রদের পক্ষে এটিকে আয়ত্তে আনাও সহজ হয়ে গিয়েছিল। পণ্ডিত বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণের এই গ্রন্থ দুটির চিরকালীন উৎকর্ষের সবথেকে প্রকৃষ্ট প্রমাণ হল যে, এই কিছুকাল আগেও বাংলার স্কুলগুলিতে সংস্কৃত ব্যাকরণের এই বই-দুটি সবথেকে বেশি সমাদৃত ছিল। বিদ্যাসাগর এই গ্রন্থ দুটি রচনা করবার পরে একশো বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও, এগুলি ছাড়া একসময়ে শিক্ষিত বাঙালি একসময়ে রীতিমত উছূল ছিল। আলোচ্য সময়ের ছাত্রদের সংস্কৃত ব্যাকরণ শেখানো সহজ করবার কাজ হাতে নেওয়ার জন্য বিদ্যাসাগর কিসের দ্বারা প্রবুদ্ধ হয়েছিলেন, এবিষয়ে কৌতুকাবহ একটি গল্প প্রচলিত রয়েছে। সেই কাহিনী অনুসারে, রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর একজন অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন এবং তিনি মাঝে মাঝেই পণ্ডিত বিদ্যাসাগরের বাড়িতে গল্পগাছা করবার জন্য উপস্থিত হতেন। একদিন এরকমভাবে বিদ্যাসাগরের সাথে দেখা করতে এসে তিনি বিদ্যাসাগরের অনুজ দীনবন্ধুকে কালিদাসের মেঘদূতের মূল পাঠ থেকে উচ্চৈঃস্বরে আবৃত্তি করতে শুনেছিলেন। তখন এই আবৃত্তির কথাগুলির ধ্বনি-মাধুর্য তাঁকে এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে, অন্য কারো সাহায্য ছাড়াই তিনি যাতে সংস্কৃত সাহিত্যের রসগ্রহণ করতে পারেন, এই উদ্দেশ্যে সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা করবার জন্য প্রচণ্ড আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তখন সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা করবার জন্য একেবারে শুরুতেই যে বেড়াগুলি ডিঙ্গিয়ে ব্যোপদেবের ব্যাকরণে প্রবেশ করতে হত, সেগুলিকে ডিঙাবার মত যথেষ্ট সাহস তিনি সঞ্চয় করতে পারছিলেন না বলে, বিদ্যাসাগর এই সমস্যা থেকে তাঁকে উদ্ধার করবার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। এবং এরপরে সমস্ত রাত জেগে তাঁকে সাহায্য করবার জন্য বাংলা ভাষায় সংস্কৃত ব্যাকরণের একটি কাঠামোর মত তৈরি করে দিয়েছিলেন। কথিত রয়েছে যে, এসময়ে নিজের স্মারকলিপি হিসাবে যেসমস্ত ছোট ছোট মন্তব্যগুলিকে তিনি অন্যত্র লিখে রেখেছিলেন, পরে সেগুলিকেই মাল-মশলারূপে ব্যবহার করে প্রাথমিক শিক্ষার সংস্কৃত ব্যাকরণটি তিনি বাংলা ভাষায় রচনা করেছিলেন। (বিদ্যাসাগর, চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, পঞ্চম অধ্যায়) যাই হোক, সংস্কৃত ব্যাকরণের প্রাথমিক দুরূহতার বাধাগুলি অতিক্রম করতে কৃতকার্য হওয়ার পরে বিদ্যাসাগর সংস্কৃত ভাষার শ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলি থেকে পাঠাংশ নির্বাচন করে, সেগুলির মধ্যে থেকে সহজ পাঠগুলি থেকে শুরু করে ক্রমশঃ কঠিনতর পাঠ-সম্বলিত বিভিন্ন মানের পাঠ্যপুস্তক রচনার কাজ হাতে নিয়েছিলেন। এরপরেই ১৮৫১-৫২ সালে তিনভাগে ‘ঋজুপাঠ’ নাম দিয়ে তাঁর রচিত এই সঙ্কলন-গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছিল। এরফলে তখন সংস্কৃত ভাষায় প্রাথমিক জ্ঞানার্জনের কাজটি আগের তুলনায় অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছিল। কাজেই পণ্ডিত বিদ্যাসাগর রচিত এই গ্রন্থগুলি তখন যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পেরেছিল, এতে বিস্মিত হওয়ার কোন কারণ দেখা যায় না। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জানিয়েছিলেন যে, তিনি তাঁর পিতৃদেবের স্নেহদৃষ্টির নীচে বসে এই ঋজুপাঠ থেকেই প্রথমবারের জন্য সংস্কৃত সাহিত্যের রসাস্বাদন করেছিলেন। এই ঋজুপাঠ গ্রন্থের দ্বিতীয়ভাগে বাল্মীকির মূল রামায়ণের কতগুলি শ্লোক ছিল। এটি পড়েই প্রাচীন ভারতের প্রথম মহাকবির রচিত এই মহাকাব্যের সঙ্গে বালক রবীন্দ্রনাথের প্রথম সাক্ষাৎ পরিচয় ঘটেছিল, আর এটা তখন তাঁর কাছে এমনই একটি রোমাঞ্চকর ব্যাপার বলে মনে হয়েছিল যে, তিনি সাহসে বুক বেঁধে নিজের মাকে গিয়ে নিজের অধিগত এই বিদ্যার পরিচয় দিয়ে এসেছিলেন। (জীবনস্মৃতি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) এরপরে বিদ্যাসাগর বিভিন্ন হস্তলিখিত প্রাচীন পুঁথির অতি সতর্ক এবং তুলনামূলক অধ্যয়ন করবার পরে সেগুলিকে সম্পাদিত করে প্রধান প্রধান সংস্কৃত গ্রন্থের নতুন এক-একটি সংস্করণ প্রকাশ করেছিলেন। এগুলির মধ্যে কালিদাস-রচিত গ্রন্থাবলী ছাড়াও বাণের কাদম্বরী ও হর্ষচরিতম, ভবভূতির উত্তররামচরিতম, ভারবির কিরাতাৰ্জুনীয়ম এবং মাঘের শিশুপালবধম—এসব বহুবিখ্যাত গ্রন্থরাজিও ছিল। তবে বাংলাভাষার ব্যাপারে বিদ্যাসাগরকে তখন কার্যতঃ একেবারে গোড়া থেকে শুরু করতে হয়েছিল, এবং এবিষয়ে একমাত্র নিজের উপায়-উদ্ভাবনী শক্তির উপরে নির্ভর করেই তাঁকে চলতে হয়েছিল। বস্তুতঃ বাংলাতে তখন বর্ণমালারও কোনো বই ছিল না। কাজেই তাঁকে একেবারে সেখান থেকেই নিজের কাজ আরম্ভ করতে হয়েছিল। খুব সম্ভবতঃ এটাই তাঁর বিধিলিপি ছিল যে, ছোটছোট বাঙালি ছেলেমেয়েদেরকে লিপি-রহস্যের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার জন্য তিনিই বাংলা ভাষার প্রথম বর্ণপরিচয়ের পুস্তক প্রণয়ন করবেন। এরফলস্বরূপ ১৮৫৫ সালে তাঁর রচিত বাংলা প্রথম পাঠ ‘বর্ণপরিচয়’ নামে প্রকাশিত হয়েছিল। এর প্রথমভাগে তখন বর্ণমালা এবং স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের যুক্তরূপ দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয়ভাগে ছিল ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে ব্যঞ্জনবর্ণের মিলনে যেসব যৌগিক বর্ণ তৈরি হয় সেসবের রূপ। দুটি ভাগেই প্রত্যেকটি পাঠের পরে একটি করে অনুশীলনী দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যাসাগরের রচিত এই প্রাথমিক পাঠ্যপুস্তকগুলি তখন বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল, এবং এমনকি পরবর্তীকালের বিভিন্ন রঙিন চিত্রশোভিত চিত্তাকর্ষক বর্ণপরিচয়ের বহু পুস্তকের প্রতিযোগিতা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত এই গ্রন্থটি অপরাজিতই থেকে গিয়েছে। আজ অবধি বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় গ্রন্থের যে কতগুলি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে—এর সংখ্যা নির্ণয় করা রীতিমত দুঃসাধ্য। এরপরে তিনি ছাত্রদের সহজপাঠ থেকে ক্রমশঃ কঠিন থেকে কঠিনতর পাঠের মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন মানের উপযুক্ত কতগুলি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। সেযুগের বাংলা শিক্ষাক্ষেত্রে এই পুস্তক-পরম্পরার প্রথমটির নাম ছিল ‘বোধোদয়’। বর্ণপরিচয় সমাপ্ত হওয়ার পরেই বিজ্ঞান বিষয়ক কিছু কিছু জ্ঞান তরুণ মনগুলিতে সঞ্চারিত করে দেওয়া যায় কিনা—এটির মধ্যে এবিষয়ে একটি দুঃসাহসিক পরীক্ষা করা হয়েছিল। এরপরে তিনি ঈসপের গল্পগুলিকে অনুসরণ করে ‘কথামালা’ এবং তারপরে মহাপুরুষদের জীবনী অবলম্বনে ‘চরিতাবলী’ নামক গ্রন্থ দুটি রচনা করেছিলেন। এই দুটি গ্রন্থই তিনি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে লিখেছিলেন। এগুলির মধ্যে প্রথমটিতে পশুপক্ষীদের বিভিন্ন অবস্থার মধ্যে ফেলে তাদের নিয়ে গল্প ছিল, যেগুলি তরুণদের মনে বৈষয়িক বুদ্ধির সঞ্চার করবার জন্য লেখা হয়েছিল। আর দ্বিতীয়টিতে তরুণদের অনুকরণের যোগ্য কতগুলি জীবনাদর্শ তুলে ধরা হয়েছিল। এভাবে বাংলা ভাষার উপরে সেযুগের ছাত্রদের চলনসই ধরণের একটা দখল সৃষ্টি করবার পরে শেষধাপের পাঠ্য হিসেবে তিনি আরও দুটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন; যথা—শকুন্তলা এবং সীতার বনবাস। এগুলি প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ নাটকগুলির মধ্যে পরিগণিত, কালিদাস এবং ভবভূতি বিরচিত দুটি নাটকের কাহিনীর গদ্যরূপ ছিল। এগুলি মূলতঃ ল্যাম্বের ‘টেলস ফ্রম শেক্সপিয়ার’–এর আদর্শে রচিত হলেও, বিদ্যাসাগরের রচিত এই গ্রন্থ দুটিতে মূলগ্রন্থের খুঁটিনাটি অনেক বেশি পরিমাণে রক্ষিত হয়েছিল বলে দেখা যায়। বলা বাহুল্য যে, এই বই দুটি এখন নিজগুণে ঊনিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলির মধ্যে পরিগণিত হয়ে থাকে। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, তিনভাগে বিভক্ত কর্মসূচী নিয়ে বিদ্যাসাগর তাঁর শিক্ষা সংস্কার সংক্রান্ত পরিকল্পনাটি রচনা করেছিলেন। এতে বাংলাভাষায় ভাবপ্রকাশ করবার ক্ষমতা অর্জনের জন্য সংস্কৃত সাহিত্য আয়ত্ত করবার ব্যবস্থা যেমন ছিল, তেমনি আবার বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার উপায় ছিল, এবং সবশেষে সেযুগের হিন্দু কলেজ ও খৃষ্টান মিশনারিদের কলেজে যে ধরণের ইংরেজি শিক্ষা দেওয়া হত—সেধরণের ইংরেজি শিক্ষাদানের ব্যবস্থাও ছিল। বৈজ্ঞানিক বিদ্যায় সমৃদ্ধ ছিল বলে তখনকার পাশ্চাত্য শিক্ষাকে বিদ্যাসাগর যে অত্যন্ত সমীহ করতেন, তাঁর নিজের ব্যবহারেই এর ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, তিনি নিজে যখন ছাত্র ছিলেন, তখন সংস্কৃত সাহিত্যের বিভিন্ন পাঠক্রম অধ্যয়ন করবার সাথে তখনকার দিনে যে ইচ্ছানির্ভর ইংরেজি শিক্ষা দেওয়া হত, সেটারও পরিপূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করেছিলেন। এমনকি নিজের পরবর্তী জীবনে তিনি যতদিন পর্যন্ত ইংরেজিতে মনোভাব প্রকাশ করবার শক্তি বেশ ভালোরকমভাবে অর্জন করতে পারেননি, ততদিন পর্যন্ত গৃহশিক্ষক রেখে ইংরেজি ভাষায় শিক্ষালাভ অব্যাহত রেখে গিয়েছিলেন। তাঁর ইংরেজিতে লেখা চিঠিপত্রগুলি, যেগুলির কোনো কোনো অংশের বঙ্গানুবাদ বিভিন্ন গ্রন্থে পাওয়া যায়, সেগুলি থেকে এই ভাষার উপরে তাঁর দখল সম্পর্কে একটা ধারণা করা সম্ভব। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ ঊনিশ শতকের প্রথমদিকে কলকাতার সংস্কৃত কলেজে ইংরেজি শিক্ষার যে সুযোগটি ছাত্রদের দেওয়া হচ্ছিল, সেটি কিছুদিন পরেই প্রত্যাহৃত করে নেওয়া হয়েছিল। যা নিশ্চিতভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে তৎকালীন সরকারের পশ্চাদপসরণের উদাহরণ ছিল। আর একারণেই পরবর্তীসময়ে দেখা গিয়েছিল যে, সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষের পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পরে বিদ্যাসাগর এই ব্যবস্থাটির পুনঃপ্রবর্তন করেছিলেন। শুধু তাই নয়, এরপরে এই নতুন বিভাগটিকে তিনি এমনভাবে পুনর্গঠিত করেছিলেন যে, যাতে এটি ছাত্রদের ইংরেজি ভাষায় পারদর্শিতা অর্জনের সহায়ক হতে পারে এবং একইসাথে আগেরমত ইংরেজি শিক্ষার বিষয়টিকে ঐচ্ছিক না রেখে তিনি এই ভাষাটিকে প্রত্যেকটি ছাত্রের জন্য অবশ্যপাঠ্য করে দিয়েছিলেন। আর এরকমভাবেই শিক্ষাক্ষেত্র সংস্কার করে তিনি তখন দুটি সংস্কৃতির মিলনের পথও নির্মাণ করে দিয়েছিলেন।